নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় হরিভদ্র নদীর নাব্যতা সংকটে ডোমরা বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

খুলনার ডুমুরিয়ায় হরিভদ্র নদীর নাব্যতা সংকটে ডোমরা বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

অতিবৃষ্টি এবং হরিভদ্র নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ডোমরা বিলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বিলে পানি আটকে থইথই অবস্থা তৈরি হওয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও শত শত মৎস্য ঘের। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় খর্নিয়া ডোমরা বিলের দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন ও উদ্ধার টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জরুরি ভিত্তিতে আরও ২টি ড্রেজিং মেশিন এনে দ্রুততম সময়ে পলি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, "অতিবৃষ্টি এবং স্থানীয় হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে ডোমরা বিলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ বা পলি অপসারণ করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করছি। দুর্গত মানুষদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু তাহের বলেন, "আমরা জলাবদ্ধ বিলের সামগ্রিক চিত্র পরিদর্শন করেছি। পানি নিষ্কাশনের মূল বাধাগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং জরুরি যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পানি সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে পড়ে থাকলেও টেকসই কোনো পলি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের মানুষ পানির নিচে তলিয়ে যায়। আজ হাজার হাজার বিঘার ফসল ও মৎস্য ঘের পানির নিচে। আমরা অনতিবিলম্বে টেকসই নদী খনন ও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

উন্নয়ন ও সমাধান ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বিল কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, "ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা এখন কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, এটি হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলের পানি অপসারণে যদি এখনই ইমার্জেন্সি ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশন চালু করা না হয়, তবে চলতি মৌসুমের পুরো কৃষি ও মৎস্য খাত বরবাদ হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।"

জলে ভাসমান অসহায় দিন কাটানো স্থানীয় এলাকাবাসীরা তাদের দুর্ভোগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ঘরবাড়ি, ঘের আর ধানের জমি সব পানির নিচে। রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতেও কষ্ট হচ্ছে। খর্নিয়ার ডোমরা বিলে প্রতি বছরই এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। হরিভদ্র নদী খনন না করলে এবং দ্রুত স্লুইস গেট দিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।"

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ডোমরা বিলের এই তীব্র সংকট দূর করতে অবিলম্বে হরিভদ্র নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং (খনন) ও স্থায়ী স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা সংস্কার অতি জরুরি। সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ না করলে খুলনার এই অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চলটির অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনার ডুমুরিয়ায় হরিভদ্র নদীর নাব্যতা সংকটে ডোমরা বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

অতিবৃষ্টি এবং হরিভদ্র নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ডোমরা বিলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বিলে পানি আটকে থইথই অবস্থা তৈরি হওয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও শত শত মৎস্য ঘের। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় খর্নিয়া ডোমরা বিলের দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন ও উদ্ধার টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জরুরি ভিত্তিতে আরও ২টি ড্রেজিং মেশিন এনে দ্রুততম সময়ে পলি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, "অতিবৃষ্টি এবং স্থানীয় হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে ডোমরা বিলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ বা পলি অপসারণ করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করছি। দুর্গত মানুষদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু তাহের বলেন, "আমরা জলাবদ্ধ বিলের সামগ্রিক চিত্র পরিদর্শন করেছি। পানি নিষ্কাশনের মূল বাধাগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং জরুরি যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পানি সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে পড়ে থাকলেও টেকসই কোনো পলি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের মানুষ পানির নিচে তলিয়ে যায়। আজ হাজার হাজার বিঘার ফসল ও মৎস্য ঘের পানির নিচে। আমরা অনতিবিলম্বে টেকসই নদী খনন ও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

উন্নয়ন ও সমাধান ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বিল কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, "ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা এখন কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, এটি হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলের পানি অপসারণে যদি এখনই ইমার্জেন্সি ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশন চালু করা না হয়, তবে চলতি মৌসুমের পুরো কৃষি ও মৎস্য খাত বরবাদ হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।"

জলে ভাসমান অসহায় দিন কাটানো স্থানীয় এলাকাবাসীরা তাদের দুর্ভোগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ঘরবাড়ি, ঘের আর ধানের জমি সব পানির নিচে। রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতেও কষ্ট হচ্ছে। খর্নিয়ার ডোমরা বিলে প্রতি বছরই এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। হরিভদ্র নদী খনন না করলে এবং দ্রুত স্লুইস গেট দিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।"

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ডোমরা বিলের এই তীব্র সংকট দূর করতে অবিলম্বে হরিভদ্র নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং (খনন) ও স্থায়ী স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা সংস্কার অতি জরুরি। সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ না করলে খুলনার এই অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চলটির অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত