নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের (Centre for Bengal Studies) উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জনাব রাশিদুল হক তিমুর বলেন, নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রথমেই গণহত্যা ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত হলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার মূল ভিত্তি ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। তরুণেরা প্রাণ দিয়ে এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞকে ‘স্টেট স্পন্সরড টেররিজম’ আখ্যা দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনা ও চিলির স্বৈরশাসকদের উদাহরণ দেন।

তিনি ট্রানজিশনাল জাস্টিসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সুবিচারের অভাবেই মব ভায়োলেন্স বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা দূর করতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বাহাত্তরের সংবিধানের তোষণ এবং জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সবাইকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে তাদের অপরাধের বিচার হওয়া আবশ্যক, পরবর্তীতে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারের নেতা ফজলে নূর তাপস ও শেখ সেলিম ২০০৮ থেকেই উস্কানি দিয়েছিলেন এবং সোহেল তাজের মাধ্যমে বহিরাগতদের বিডিআর পোশাক সরবরাহের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের মিছিলে ভর করে বহিরাগত খুনিরা পিলখানা ত্যাগ করেছিল বলেও জানান তিনি। 

এ ঘটনার সময় মুন্নী সাহা, জ.ই. মামুন এবং জুলফিকার মানিকের মতো সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। 

দেশের সাধারণ মানুষও সংবিধান সংস্কার নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। রাষ্ট্রকে এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর শাসন থেকে মুক্ত করতে তরুণদের রক্তে অর্জিত এই সুযোগকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি তাগিদ দেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের (Centre for Bengal Studies) উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জনাব রাশিদুল হক তিমুর বলেন, নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রথমেই গণহত্যা ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত হলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার মূল ভিত্তি ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। তরুণেরা প্রাণ দিয়ে এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞকে ‘স্টেট স্পন্সরড টেররিজম’ আখ্যা দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনা ও চিলির স্বৈরশাসকদের উদাহরণ দেন।

তিনি ট্রানজিশনাল জাস্টিসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সুবিচারের অভাবেই মব ভায়োলেন্স বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা দূর করতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বাহাত্তরের সংবিধানের তোষণ এবং জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সবাইকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে তাদের অপরাধের বিচার হওয়া আবশ্যক, পরবর্তীতে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারের নেতা ফজলে নূর তাপস ও শেখ সেলিম ২০০৮ থেকেই উস্কানি দিয়েছিলেন এবং সোহেল তাজের মাধ্যমে বহিরাগতদের বিডিআর পোশাক সরবরাহের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের মিছিলে ভর করে বহিরাগত খুনিরা পিলখানা ত্যাগ করেছিল বলেও জানান তিনি। 

এ ঘটনার সময় মুন্নী সাহা, জ.ই. মামুন এবং জুলফিকার মানিকের মতো সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। 

দেশের সাধারণ মানুষও সংবিধান সংস্কার নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। রাষ্ট্রকে এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর শাসন থেকে মুক্ত করতে তরুণদের রক্তে অর্জিত এই সুযোগকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি তাগিদ দেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত