নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাজি ছিল নাকি পতনের শুরু?

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাজি ছিল নাকি পতনের শুরু?

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একপর্যায়ে সরকারবিরোধী সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের মুখে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। 

এর আগে ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে উল্টো ফল বয়ে আনে এবং সরকার পতনে ভূমিকা রাখে।

জামায়াতে ইসলামী জানায়, তৎকালীন সরকার আন্দোলনকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু দলটি কোনো একক দলীয় কর্মসূচি না দিয়ে নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আন্দোলন সফল করতে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানায়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্দোলন যখন সরকার পতনের এক দফার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ নেতারা আন্দোলনের পেছনে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার দায় চাপান।

নিষিদ্ধ ঘোষণার পর জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান একে সংবিধানপন্থা ও বেআইনি উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। দলটির নেতারা পরবর্তীতে জানান, তারা কৌশলগত কারণে দলীয় ব্যানারে রাজপথে না নেমে সাধারণ মানুষের সাথে আন্দোলনে অংশ নেন। এতে করে সরকার আন্দোলনকে ‘জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করার সুযোগ পায়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার আন্দোলন থেকে নজর সরাতে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তারা আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত না করে মূল লক্ষ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী ঘটনাটিকে শেখ হাসিনা সরকারের একটি বড় ভুল হিসাব বা মিসক্যালকুলেশন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানটি ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সরকার এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের যে বাজি ধরেছিল, তা আন্দোলনের জনজোয়ারের সামনে ব্যর্থ প্রমাণ হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাজি ছিল নাকি পতনের শুরু?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একপর্যায়ে সরকারবিরোধী সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের মুখে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। 

এর আগে ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে উল্টো ফল বয়ে আনে এবং সরকার পতনে ভূমিকা রাখে।

জামায়াতে ইসলামী জানায়, তৎকালীন সরকার আন্দোলনকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু দলটি কোনো একক দলীয় কর্মসূচি না দিয়ে নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আন্দোলন সফল করতে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানায়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্দোলন যখন সরকার পতনের এক দফার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ নেতারা আন্দোলনের পেছনে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার দায় চাপান।

নিষিদ্ধ ঘোষণার পর জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান একে সংবিধানপন্থা ও বেআইনি উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। দলটির নেতারা পরবর্তীতে জানান, তারা কৌশলগত কারণে দলীয় ব্যানারে রাজপথে না নেমে সাধারণ মানুষের সাথে আন্দোলনে অংশ নেন। এতে করে সরকার আন্দোলনকে ‘জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করার সুযোগ পায়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার আন্দোলন থেকে নজর সরাতে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তারা আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত না করে মূল লক্ষ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী ঘটনাটিকে শেখ হাসিনা সরকারের একটি বড় ভুল হিসাব বা মিসক্যালকুলেশন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানটি ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সরকার এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের যে বাজি ধরেছিল, তা আন্দোলনের জনজোয়ারের সামনে ব্যর্থ প্রমাণ হয়।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত