নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৬ জুন ২০২৫

পুলিশের জন্য ২০০ নতুন গাড়ি, ব্যয় ১৭২ কোটি টাকা

পুলিশের জন্য  ২০০ নতুন গাড়ি, ব্যয় ১৭২ কোটি টাকা
অর্থনীতি  পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে ৫২৬টি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ৫৩৩টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, যার ফলে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।   বিশেষ প্রতিনিধি  মোঃ ছিরু মিয়া 
আপডেটঃ ৬ জুন ২০২৫ , ০৯ঃ ২৯
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি পুলিশের জন্য ২০০টি নতুন ডাবল কেবিন পিকআপ (জিপ) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বিপুল সংখ্যক পুলিশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষতি পূরণ ও পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ টাকা, ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৭২ কোটি টাকা। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এই গাড়িগুলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে কেনা হবে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। সভা শেষে অর্থ উপদেষ্টা জানান, পুলিশের অনেক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন গাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকার আশপাশে পুলিশের জন্য নতুন হাউজিং কমপ্লেক্স নির্মাণের চিন্তাও করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জননিরাপত্তা বিভাগ জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলা আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশের ৪৬০টি থানাসহ বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ হয়, এবং এতে বিপুল সংখ্যক যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বা ভাঙচুর হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, ৫২৬টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, ৫৩৩টি ভাঙচুর হয়েছে—মোট ১,০৫৯টি যানবাহন অচল হয়ে পড়ে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২২টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, মোটরসাইকেল, বাস, প্রিজন ভ্যান, জলকামান ও এপিসি। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকেই এই গাড়িগুলোর অর্থায়ন করা হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ক্রয়ের প্রস্তাবটি মূল আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও ঈদের ছুটির আগের দিন তা টেবিলে উপস্থাপন করে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) ইনামুল হক সাগর জানিয়েছেন, নতুন ২০০টি গাড়ি অনুমোদন পাওয়ায় পুলিশের কার্যক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা বাড়বে। তবে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো পুনরায় কেনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পুলিশের জন্য ২০০ নতুন গাড়ি, ব্যয় ১৭২ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৫

featured Image
অর্থনীতি  পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে ৫২৬টি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ৫৩৩টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, যার ফলে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।   বিশেষ প্রতিনিধি  মোঃ ছিরু মিয়া 
আপডেটঃ ৬ জুন ২০২৫ , ০৯ঃ ২৯
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি পুলিশের জন্য ২০০টি নতুন ডাবল কেবিন পিকআপ (জিপ) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বিপুল সংখ্যক পুলিশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষতি পূরণ ও পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ টাকা, ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৭২ কোটি টাকা। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এই গাড়িগুলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে কেনা হবে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। সভা শেষে অর্থ উপদেষ্টা জানান, পুলিশের অনেক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন গাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকার আশপাশে পুলিশের জন্য নতুন হাউজিং কমপ্লেক্স নির্মাণের চিন্তাও করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জননিরাপত্তা বিভাগ জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলা আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশের ৪৬০টি থানাসহ বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ হয়, এবং এতে বিপুল সংখ্যক যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বা ভাঙচুর হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, ৫২৬টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, ৫৩৩টি ভাঙচুর হয়েছে—মোট ১,০৫৯টি যানবাহন অচল হয়ে পড়ে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২২টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, মোটরসাইকেল, বাস, প্রিজন ভ্যান, জলকামান ও এপিসি। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকেই এই গাড়িগুলোর অর্থায়ন করা হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ক্রয়ের প্রস্তাবটি মূল আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও ঈদের ছুটির আগের দিন তা টেবিলে উপস্থাপন করে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) ইনামুল হক সাগর জানিয়েছেন, নতুন ২০০টি গাড়ি অনুমোদন পাওয়ায় পুলিশের কার্যক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা বাড়বে। তবে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো পুনরায় কেনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত