নজর বিডি

ডুমুরিয়ায় খামারের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ডুমুরিয়ায় খামারের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ধানিবুনিয়া গ্রামে একটি সমন্বিত খামারের (মুরগি, গরু, ছাগল ও মাছ চাষ) বর্জ্যে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খামারটির বর্জ্য ও মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে।

ধানিবুনিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত সালতা নদী একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের দখলে পড়ে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। তারই পাশে গড়ে উঠেছে বহুতলবিশিষ্ট খামারটি, যা এখন স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। আগে এই বর্জ্য ফেলানোর জন্য খামার মালিক তার নিজস্ব একটি পুকুর ব্যবহার করলেও সেটি বন্ধক দিয়ে দেওয়ার পর, এখন রাস্তার ওপরেই ফেলা হচ্ছে দূষিত পানি ও মল-মূত্র। ফলে হাঁটাচলার একমাত্র রাস্তাটি পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা স্রোতধারায়।

সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। বর্ষা হোক কিংবা রোদ, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাদেরকে এই নোংরা পানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে চর্মরোগ, পেটের অসুখসহ নানা ধরনের রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, খামারে ব্যবহৃত ওষুধ, সিরিঞ্জ, প্যাকেট ও প্লাস্টিকের বর্জ্য প্রতিদিন আগুনে পোড়ানো হয় লোকালয়ের পাশেই। এতে উৎপন্ন গ্যাস এতটাই ঝাঁজালো যে, অনেকেই শ্বাসকষ্ট, হাপানি এবং চোখে জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পরিবেশ পুরোপুরি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এই খামার ও চুন কারখানা থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। বাচ্চাদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা লাভের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

খামার মালিক রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে পাশের খালে বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রস্তাব দিলেও, নদীর পরিবেশ বাঁচাতে তাতে রাজি হয়নি গ্রামবাসী। ফলে মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় পানি ফেলে পরিস্থিতিকে আরও বিষাক্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল আমিনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় খামারের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৫

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ধানিবুনিয়া গ্রামে একটি সমন্বিত খামারের (মুরগি, গরু, ছাগল ও মাছ চাষ) বর্জ্যে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খামারটির বর্জ্য ও মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে।

ধানিবুনিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত সালতা নদী একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের দখলে পড়ে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। তারই পাশে গড়ে উঠেছে বহুতলবিশিষ্ট খামারটি, যা এখন স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। আগে এই বর্জ্য ফেলানোর জন্য খামার মালিক তার নিজস্ব একটি পুকুর ব্যবহার করলেও সেটি বন্ধক দিয়ে দেওয়ার পর, এখন রাস্তার ওপরেই ফেলা হচ্ছে দূষিত পানি ও মল-মূত্র। ফলে হাঁটাচলার একমাত্র রাস্তাটি পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা স্রোতধারায়।

সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। বর্ষা হোক কিংবা রোদ, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাদেরকে এই নোংরা পানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে চর্মরোগ, পেটের অসুখসহ নানা ধরনের রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, খামারে ব্যবহৃত ওষুধ, সিরিঞ্জ, প্যাকেট ও প্লাস্টিকের বর্জ্য প্রতিদিন আগুনে পোড়ানো হয় লোকালয়ের পাশেই। এতে উৎপন্ন গ্যাস এতটাই ঝাঁজালো যে, অনেকেই শ্বাসকষ্ট, হাপানি এবং চোখে জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পরিবেশ পুরোপুরি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এই খামার ও চুন কারখানা থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। বাচ্চাদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা লাভের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

খামার মালিক রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে পাশের খালে বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রস্তাব দিলেও, নদীর পরিবেশ বাঁচাতে তাতে রাজি হয়নি গ্রামবাসী। ফলে মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় পানি ফেলে পরিস্থিতিকে আরও বিষাক্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল আমিনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত