রাজধানীর বনানীতে চলন্ত গাড়িতে প্রেমিকাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সিসা ব্যবসায়ী রাইসুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে। গত ৫ এপ্রিল রাতে বনানীর আভিজাত্যকে ম্লান করে দেওয়া এই নৃশংসতার শিকার হন ফাহমিদা আফরিন জুঁই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে মামলা প্রত্যাহারের চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং।
জানা যায়, একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ির ভেতর জুঁইয়ের ওপর চড়াও হন জুয়েল। এলোপাতাড়ি মারধরে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। পরে ৭ এপ্রিল বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত জুয়েল বনানীতে ‘ব্লাক বার্চ কিচেন ও লাউঞ্জ’ নামক সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাম্ভিকতার সাথে দাবি করেন, তার এই ব্যবসাকে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ‘বৈধ’ করে এনেছেন এবং বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের সবাই তার পরিচিত।
ভুক্তভোগী জুঁই অভিযোগ করেছেন, তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই তরুণী এখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, "অভিযুক্ত জুয়েল ও অভিযোগকারী জুঁই থানায় এসে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। আমরা জুঁইকে আগে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দিলেও তারা তড়িঘড়ি করে আবেদন জমা দেন এবং আমরা সেটি গ্রহণ করি।"
গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট গুলশান-বনানীর অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক এমন লাউঞ্জ এখনো সচল। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাউঞ্জের আড়ালে মাদকসেবন ও নারীদের ফাঁদে ফেলে নির্যাতনের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বনানীর এই ঘটনা এখন আইনের শাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
রাজধানীর বনানীতে চলন্ত গাড়িতে প্রেমিকাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সিসা ব্যবসায়ী রাইসুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে। গত ৫ এপ্রিল রাতে বনানীর আভিজাত্যকে ম্লান করে দেওয়া এই নৃশংসতার শিকার হন ফাহমিদা আফরিন জুঁই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে মামলা প্রত্যাহারের চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং।
জানা যায়, একাধিক অনৈতিক সম্পর্কের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ির ভেতর জুঁইয়ের ওপর চড়াও হন জুয়েল। এলোপাতাড়ি মারধরে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। পরে ৭ এপ্রিল বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত জুয়েল বনানীতে ‘ব্লাক বার্চ কিচেন ও লাউঞ্জ’ নামক সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাম্ভিকতার সাথে দাবি করেন, তার এই ব্যবসাকে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ‘বৈধ’ করে এনেছেন এবং বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের সবাই তার পরিচিত।
ভুক্তভোগী জুঁই অভিযোগ করেছেন, তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই তরুণী এখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, "অভিযুক্ত জুয়েল ও অভিযোগকারী জুঁই থানায় এসে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। আমরা জুঁইকে আগে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দিলেও তারা তড়িঘড়ি করে আবেদন জমা দেন এবং আমরা সেটি গ্রহণ করি।"
গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট গুলশান-বনানীর অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক এমন লাউঞ্জ এখনো সচল। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাউঞ্জের আড়ালে মাদকসেবন ও নারীদের ফাঁদে ফেলে নির্যাতনের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বনানীর এই ঘটনা এখন আইনের শাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন