পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে একই কাজের বিল দুবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরিবিধি অনুযায়ী বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হলেন— লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। শাস্তি কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁদের রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম অঞ্চল) বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের প্রোটেকশন ওয়ালের কাজ পায় ‘মেসার্স রিচ ডেভেলপমেন্ট এন্ড হেভী ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই কাজের চূড়ান্ত বিল হিসেবে ১৭,৮৯,৭৫৫ টাকা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একবার পরিশোধ করা হয়। কিন্তু একই বিল ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে পুনরায় উত্তোলন করা হয়।
জালিয়াতির বিষয়টি নজরে এলে গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মোঃ শিপন আলী অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করেন। চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, অভিযুক্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নথিপত্র গায়েব করে এবং ভুয়া প্রতিনিধি সাজিয়ে দ্বিতীয়বার বিলটি পাশ করান।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারিকুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একই কাজের প্রাক্কলন ভিন্ন দুটি কোডে ভেটিং করিয়ে নেন। অন্যদিকে রইছ উদ্দিন বিল রেজিস্টারে তথ্য এন্ট্রি এবং হিসাব বিভাগ থেকে প্রত্যয়ন সংগ্রহের মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আত্মসাৎকৃত টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা অপরাধের দায় এড়াতে পারেননি।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রইছ উদ্দিন রেলওয়েতে কর্মরত থাকাকালীন নিজের ভাইয়ের নামে ‘এ.আর এন্টারপ্রাইজ’ নামক লাইসেন্স ব্যবহার করে বেনামে ঠিকাদারি করতেন। গত পাঁচ বছরে তিনি ৮ থেকে ১০টি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। এসব কাজে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ, জাতীয় পার্টি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে তারা সরাসরি অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত। তাই বিধি মোতাবেক কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।”
লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে একই কাজের বিল দুবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরিবিধি অনুযায়ী বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হলেন— লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। শাস্তি কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁদের রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম অঞ্চল) বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের প্রোটেকশন ওয়ালের কাজ পায় ‘মেসার্স রিচ ডেভেলপমেন্ট এন্ড হেভী ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই কাজের চূড়ান্ত বিল হিসেবে ১৭,৮৯,৭৫৫ টাকা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একবার পরিশোধ করা হয়। কিন্তু একই বিল ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে পুনরায় উত্তোলন করা হয়।
জালিয়াতির বিষয়টি নজরে এলে গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মোঃ শিপন আলী অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করেন। চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, অভিযুক্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নথিপত্র গায়েব করে এবং ভুয়া প্রতিনিধি সাজিয়ে দ্বিতীয়বার বিলটি পাশ করান।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারিকুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে একই কাজের প্রাক্কলন ভিন্ন দুটি কোডে ভেটিং করিয়ে নেন। অন্যদিকে রইছ উদ্দিন বিল রেজিস্টারে তথ্য এন্ট্রি এবং হিসাব বিভাগ থেকে প্রত্যয়ন সংগ্রহের মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আত্মসাৎকৃত টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা অপরাধের দায় এড়াতে পারেননি।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রইছ উদ্দিন রেলওয়েতে কর্মরত থাকাকালীন নিজের ভাইয়ের নামে ‘এ.আর এন্টারপ্রাইজ’ নামক লাইসেন্স ব্যবহার করে বেনামে ঠিকাদারি করতেন। গত পাঁচ বছরে তিনি ৮ থেকে ১০টি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। এসব কাজে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ, জাতীয় পার্টি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে তারা সরাসরি অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত। তাই বিধি মোতাবেক কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।”
লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন