বাড়ৈখালী, চুড়াইন, চিত্রকোর্টসহ সাত ইউনিয়ন পরিণত হয়েছে ‘মাদক হটস্পট’-এ
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এখন ভয়াবহ মাদক সমস্যায় জর্জরিত। শ্রীনগরের বাড়ৈখালী, হাঁসাড়া, নবাবগঞ্জের চুড়াইন, গালিমপুর ও আগলা, এবং সিরাজদিখানের শেখরনগর ও চিত্রকোর্ট ইউনিয়ন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে মাদক ব্যবসার কেন্দ্রস্থলে। মাদক কারবারিরা এখানকার ভৌগোলিক সীমারেখা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা কাজে লাগিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ব্যবসা।
বাড়ৈখালীতে মাদকের বিষে তিনজনের মৃত্যুও ঘটেছে, কিন্তু জনসচেতনতা বা প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। নিহতরা হলেন—নুর মুহাম্মদ বেপারি (৩২), রিপন বাবুর্চি (৫৫), এবং শাহাদাত হোসেন (৫৫)। এ ছাড়া আরও বহু যুবক মাদকের নেশায় দিনদিন ধ্বংসের পথে।
বাড়ৈখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদের পুত্র শাকিল (৩০) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি করছে। তার মাসিক বিক্রির পরিমাণ ৫ হাজার পিসের মতো। শ্রীধরপুরে তার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। গ্রামবাসী একবার তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার সাঙ্গপাঙ্গরা হামলা চালিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা আদায় করে।
দক্ষিণ হাটিতে মো. রাহাত নামে আরেক ব্যক্তি নিজেকে অটোচালক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা বহন করে। তার বিরুদ্ধেও চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শ্রীধরপুরের আলামিন, দিল মোহাম্মদ, কসাই শামীম, এবং মূল হোতা ইমরান ওরফে ‘জগা’—সবাই মিলে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র পরিচালনা করছে। তাদের সহকারী হিসেবে কাজ করছে জুম্মান, ফেরদৌস, স্বপন ও সাগর।
শিবরামপুরে সেলিম ওরফে কাইলা সেলিম এবং তার শ্যালক সিফাত প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসিয়েছে। তাদের কেউ কখনো কাজ করেনি, অথচ তাদের জীবনযাপন বিলাসবহুল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রায় নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা ভয়ভীতির মধ্যে বাস করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক স্বৈরাচার আমলের মাদক কারবারি আজও সক্রিয়। তাদের রক্ষায় কিছু বিএনপি ঘরানার রাজনৈতিক নেতা কাজ করছেন। ফলে প্রশাসনের অভিযান বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। শ্রীধরপুরে একবার জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হলেও, ধরা পড়া ‘কালাচান’ ছাড়া বাকি সবাই প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
মাদক ব্যবসায়ী আলমাস এক সময় এলাকাছাড়া হলেও, সরকার পরিবর্তনের পর আবার এসে ব্যবসা শুরু করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফারুক হোসেন বলেন,
“আমার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল মাদক নির্মূল। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যেই তারা জামিনে ফিরে আসে। এখন কেউই মুখ খুলতে চায় না। ভয় আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তবুও প্রশাসনের সহায়তা পেলে আমরা মাদক নির্মূলে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।”
মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার (পুলিশ সুপার মুন্সিগঞ্জ) বলেন, আমরা বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এটা উপদেষ্টা স্যারের এলাকা। সামাজিক ভাবেও সবাইকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। এব্যাপারে অভিযান চলবে।
৭+ ইউনিয়নে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক
মাসে হাজার হাজার পিস ইয়াবার বিক্রি
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও দুর্বল বিচারব্যবস্থা
ভুক্তভোগীদের নীরবতা ও আতঙ্ক
জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টা, তবে টেকসই সমাধান নেই

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৫
বাড়ৈখালী, চুড়াইন, চিত্রকোর্টসহ সাত ইউনিয়ন পরিণত হয়েছে ‘মাদক হটস্পট’-এ
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এখন ভয়াবহ মাদক সমস্যায় জর্জরিত। শ্রীনগরের বাড়ৈখালী, হাঁসাড়া, নবাবগঞ্জের চুড়াইন, গালিমপুর ও আগলা, এবং সিরাজদিখানের শেখরনগর ও চিত্রকোর্ট ইউনিয়ন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে মাদক ব্যবসার কেন্দ্রস্থলে। মাদক কারবারিরা এখানকার ভৌগোলিক সীমারেখা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা কাজে লাগিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ব্যবসা।
বাড়ৈখালীতে মাদকের বিষে তিনজনের মৃত্যুও ঘটেছে, কিন্তু জনসচেতনতা বা প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। নিহতরা হলেন—নুর মুহাম্মদ বেপারি (৩২), রিপন বাবুর্চি (৫৫), এবং শাহাদাত হোসেন (৫৫)। এ ছাড়া আরও বহু যুবক মাদকের নেশায় দিনদিন ধ্বংসের পথে।
বাড়ৈখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদের পুত্র শাকিল (৩০) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি করছে। তার মাসিক বিক্রির পরিমাণ ৫ হাজার পিসের মতো। শ্রীধরপুরে তার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। গ্রামবাসী একবার তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার সাঙ্গপাঙ্গরা হামলা চালিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা আদায় করে।
দক্ষিণ হাটিতে মো. রাহাত নামে আরেক ব্যক্তি নিজেকে অটোচালক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা বহন করে। তার বিরুদ্ধেও চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শ্রীধরপুরের আলামিন, দিল মোহাম্মদ, কসাই শামীম, এবং মূল হোতা ইমরান ওরফে ‘জগা’—সবাই মিলে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র পরিচালনা করছে। তাদের সহকারী হিসেবে কাজ করছে জুম্মান, ফেরদৌস, স্বপন ও সাগর।
শিবরামপুরে সেলিম ওরফে কাইলা সেলিম এবং তার শ্যালক সিফাত প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসিয়েছে। তাদের কেউ কখনো কাজ করেনি, অথচ তাদের জীবনযাপন বিলাসবহুল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রায় নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা ভয়ভীতির মধ্যে বাস করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক স্বৈরাচার আমলের মাদক কারবারি আজও সক্রিয়। তাদের রক্ষায় কিছু বিএনপি ঘরানার রাজনৈতিক নেতা কাজ করছেন। ফলে প্রশাসনের অভিযান বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। শ্রীধরপুরে একবার জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হলেও, ধরা পড়া ‘কালাচান’ ছাড়া বাকি সবাই প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
মাদক ব্যবসায়ী আলমাস এক সময় এলাকাছাড়া হলেও, সরকার পরিবর্তনের পর আবার এসে ব্যবসা শুরু করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. ফারুক হোসেন বলেন,
“আমার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল মাদক নির্মূল। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যেই তারা জামিনে ফিরে আসে। এখন কেউই মুখ খুলতে চায় না। ভয় আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তবুও প্রশাসনের সহায়তা পেলে আমরা মাদক নির্মূলে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।”
মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার (পুলিশ সুপার মুন্সিগঞ্জ) বলেন, আমরা বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এটা উপদেষ্টা স্যারের এলাকা। সামাজিক ভাবেও সবাইকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। এব্যাপারে অভিযান চলবে।
৭+ ইউনিয়নে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক
মাসে হাজার হাজার পিস ইয়াবার বিক্রি
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও দুর্বল বিচারব্যবস্থা
ভুক্তভোগীদের নীরবতা ও আতঙ্ক
জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টা, তবে টেকসই সমাধান নেই

আপনার মতামত লিখুন