বরিশাল, ৩১ জুলাই ২০২৫:
“দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমাজের বাইরে নয়। সমাজে যেভাবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রভাব এখানেও পড়ে। এখানেও দুর্নীতি আছে, তাই নিজেদের সিস্টেমও পরিষ্কার রাখা জরুরি।” — এমন মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে ‘দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
চেয়ারম্যান বলেন, “সরকার পালিয়ে যায়, চলে যায়; কিন্তু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেটা এখন সামাল দেওয়া কঠিন। আমি নিজেই যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হই, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি কথা বলা উচিত? আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের পর ‘সিক্সটিন ডিভিশন’ নামে একটি বাহিনী গজিয়ে উঠেছিল। আজ আবার ‘ভুয়া সমন্বয়ক’ নামে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি আমার অফিসেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এখনই প্রতিরোধ শুরু না করলে ভবিষ্যতের সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ড. মোমেন বলেন, “সবাই বলে প্রশাসন রাজনীতিকরণ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরাই রাজনীতিবিদদের কাছে গিয়ে সেবা দিতে চাই। এই মনোবৃত্তির পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি বলেন, “আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চান। মাঠে নেমে নয়, আমাদেরকেই সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত—সেই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রায় পুরো সময় আগের দুর্নীতি খুঁজে বের করতেই ব্যয় করি। কিন্তু ভবিষ্যতের দুর্নীতি ঠেকানোই আসল কাজ হওয়া উচিত। এখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বড় ভুল রয়েছে।”
চেয়ারম্যান বলেন, “অমরত্ব চাওয়ার দরকার নেই। আমরা তো কদিনের জন্য চেয়ারে থাকি। কিন্তু সেই সময়টায় যদি ভালো কিছু রেখে যেতে পারি, সেটাই স্থায়ী হয়ে থাকবে।”
সভায় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকেই আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পাই। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।”
সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার পূর্বে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল কার্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫
বরিশাল, ৩১ জুলাই ২০২৫:
“দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমাজের বাইরে নয়। সমাজে যেভাবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রভাব এখানেও পড়ে। এখানেও দুর্নীতি আছে, তাই নিজেদের সিস্টেমও পরিষ্কার রাখা জরুরি।” — এমন মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে ‘দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
চেয়ারম্যান বলেন, “সরকার পালিয়ে যায়, চলে যায়; কিন্তু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেটা এখন সামাল দেওয়া কঠিন। আমি নিজেই যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হই, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি কথা বলা উচিত? আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের পর ‘সিক্সটিন ডিভিশন’ নামে একটি বাহিনী গজিয়ে উঠেছিল। আজ আবার ‘ভুয়া সমন্বয়ক’ নামে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি আমার অফিসেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এখনই প্রতিরোধ শুরু না করলে ভবিষ্যতের সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ড. মোমেন বলেন, “সবাই বলে প্রশাসন রাজনীতিকরণ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরাই রাজনীতিবিদদের কাছে গিয়ে সেবা দিতে চাই। এই মনোবৃত্তির পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি বলেন, “আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চান। মাঠে নেমে নয়, আমাদেরকেই সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত—সেই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রায় পুরো সময় আগের দুর্নীতি খুঁজে বের করতেই ব্যয় করি। কিন্তু ভবিষ্যতের দুর্নীতি ঠেকানোই আসল কাজ হওয়া উচিত। এখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বড় ভুল রয়েছে।”
চেয়ারম্যান বলেন, “অমরত্ব চাওয়ার দরকার নেই। আমরা তো কদিনের জন্য চেয়ারে থাকি। কিন্তু সেই সময়টায় যদি ভালো কিছু রেখে যেতে পারি, সেটাই স্থায়ী হয়ে থাকবে।”
সভায় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকেই আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পাই। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।”
সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার পূর্বে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল কার্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।

আপনার মতামত লিখুন