শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝকঝকে সাইনবোর্ড, চটকদার বিজ্ঞাপন আর দামি গাড়িতে জমি দেখানোর নামে চলছে ভয়ঙ্কর এক প্রতারণা। ‘পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ’ নামে একটি কথিত আবাসন প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে প্লট বুকিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে—যার পেছনে নেই কোনো আইনগত অনুমোদন, নেই জমির প্রকৃত মালিকানার নিশ্চয়তা।
‘পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে একটি ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (সি-১১৫৫৪২/১৪) সংগ্রহ করে নিজেদের মালিকানায় তিনশ বিঘা জমি দাবি করে আসছে। অথচ সরেজমিন তদন্তে মাত্র চার বিঘা জমির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বাকি জমির অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমে ও কথিত ‘ডেল্টা প্ল্যানে’ সীমাবদ্ধ।
নামমাত্র কাগজে ৩শ বিঘা জমি দাবি, বাস্তবে মাত্র ৪ বিঘা
২৬০০+ গ্রাহক থেকে টাকা গ্রহণ
বিদেশি ও প্রবাসীদের প্রধান লক্ষ্য
জালিয়াতি করে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ
স্থানীয়দের হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি দখলের চেষ্টা
প্রশাসনের তদন্তে প্রধান ফটক নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ
তবে জমি বিক্রির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস বা হাউজিং কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় প্লট বিক্রির কার্যক্রম পুরোপুরি বেআইনি।
প্রতারণার অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। কোথাও কোথাও জোরপূর্বক সাইনবোর্ড স্থাপন ও জমির মালিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এমনকি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে ভূয়া কাগজে দলিল রেজিস্ট্রি করানোর চেষ্টা করা হলেও সেখানে জালিয়াতি ধরা পড়ায় রেজিস্ট্রি বাতিল হয়।
এই প্রতারক চক্রের অন্যতম লক্ষ্য বিদেশপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনলাইনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে প্লট বুকিং দিয়েছেন, অনেকে এখনও ভাবছেন। অথচ প্রকল্পটির জমির পরিমাণ ও আইনগত বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তাদের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে পুষ্পধারা।
সাহাবুদ্দিন শেখ নামে একজন জানান, তার ১ একর ৪৩ শতক জমি জাল আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করেছেন।
পাশাপাশি RS দাগ নং ১০৪১-এর ৩৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানেও জমির মালিকদের ওপর হুমকি, সাইনবোর্ড স্থাপন ও জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন জানান,
“পুষ্পধারা সম্পর্কে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাই। তিনি প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং স্থগিত রাখার আদেশ দেন।”
তবে ইউএনও বলেন,
“ভূমি দখল বা প্রতারণার বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুষ্পধারা আবাসনের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান,
“এ বিষয়ে আমাদের পাবলিক রিলেশন অফিসার মনিরুজ্জামান ও খায়রুলের সঙ্গে কথা বলুন। তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৫
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝকঝকে সাইনবোর্ড, চটকদার বিজ্ঞাপন আর দামি গাড়িতে জমি দেখানোর নামে চলছে ভয়ঙ্কর এক প্রতারণা। ‘পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ’ নামে একটি কথিত আবাসন প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে প্লট বুকিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে—যার পেছনে নেই কোনো আইনগত অনুমোদন, নেই জমির প্রকৃত মালিকানার নিশ্চয়তা।
‘পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে একটি ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (সি-১১৫৫৪২/১৪) সংগ্রহ করে নিজেদের মালিকানায় তিনশ বিঘা জমি দাবি করে আসছে। অথচ সরেজমিন তদন্তে মাত্র চার বিঘা জমির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বাকি জমির অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমে ও কথিত ‘ডেল্টা প্ল্যানে’ সীমাবদ্ধ।
নামমাত্র কাগজে ৩শ বিঘা জমি দাবি, বাস্তবে মাত্র ৪ বিঘা
২৬০০+ গ্রাহক থেকে টাকা গ্রহণ
বিদেশি ও প্রবাসীদের প্রধান লক্ষ্য
জালিয়াতি করে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ
স্থানীয়দের হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি দখলের চেষ্টা
প্রশাসনের তদন্তে প্রধান ফটক নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ
তবে জমি বিক্রির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস বা হাউজিং কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় প্লট বিক্রির কার্যক্রম পুরোপুরি বেআইনি।
প্রতারণার অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। কোথাও কোথাও জোরপূর্বক সাইনবোর্ড স্থাপন ও জমির মালিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এমনকি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে ভূয়া কাগজে দলিল রেজিস্ট্রি করানোর চেষ্টা করা হলেও সেখানে জালিয়াতি ধরা পড়ায় রেজিস্ট্রি বাতিল হয়।
এই প্রতারক চক্রের অন্যতম লক্ষ্য বিদেশপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনলাইনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে প্লট বুকিং দিয়েছেন, অনেকে এখনও ভাবছেন। অথচ প্রকল্পটির জমির পরিমাণ ও আইনগত বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তাদের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে পুষ্পধারা।
সাহাবুদ্দিন শেখ নামে একজন জানান, তার ১ একর ৪৩ শতক জমি জাল আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করেছেন।
পাশাপাশি RS দাগ নং ১০৪১-এর ৩৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানেও জমির মালিকদের ওপর হুমকি, সাইনবোর্ড স্থাপন ও জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন জানান,
“পুষ্পধারা সম্পর্কে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাই। তিনি প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং স্থগিত রাখার আদেশ দেন।”
তবে ইউএনও বলেন,
“ভূমি দখল বা প্রতারণার বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুষ্পধারা আবাসনের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান,
“এ বিষয়ে আমাদের পাবলিক রিলেশন অফিসার মনিরুজ্জামান ও খায়রুলের সঙ্গে কথা বলুন। তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।”

আপনার মতামত লিখুন