রাজধানীর তুরাগ-উত্তরার ফুটপাত, সড়ক ও ওয়াকওয়ে এখন নিত্যনৈমিত্তিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে চলছে জমজমাট ব্যবসা। ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, মুরগির দোকান, খাবারের হোটেল, জামাকাপড়ের দোকান, ফলমূলের দোকান, টং ও চায়ের দোকান, এমনকি বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ডও।
শনিবার বিকেলে অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা ১২ নং সেক্টর, প্রিয়াংকা সিটি, খালপাড়, ১৫ নং সেক্টর সংলগ্ন সরকারি বেপজা কোয়ার্টার, খালপাড় গণকবর ও ১১ নং সেক্টর সোনারগাঁও জনপথ এলাকায় সারি সারি ভ্যান ও দোকানে চলছে বেচাকেনা। স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ ব্যবসা থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তি ও দালালচক্র নিয়মিত সুবিধা নিচ্ছে। অনেকেই সরকারি পরিত্যক্ত জমি দখল করে দোকান তুলেছেন, আবার কেউ দোকান ভাড়া দিয়েছেন।
[caption id="attachment_14326" align="alignnone" width="380"]
সড়ক দখল করে অবৈধ দোকান বসিয়েছে অসাধু চক্র[/caption]
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যা বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মুরগির দোকান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। চায়ের দোকান ঘিরে আড্ডা ও জটলার কারণে অশান্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটি দোকানদারদের সরে যেতে বহুবার সতর্ক করলেও তারা জায়গা ছাড়েনি।
[caption id="attachment_14327" align="alignnone" width="300"]
সড়কে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড[/caption]
উত্তরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, অবৈধ দখলের কারণে এলাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। সোসাইটি ও প্রেসক্লাব উভয়েই ডিএনসিসি ও রাজউক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাউজ বিল্ডিং থেকে ডিয়াবাড়ি মেট্রোরেল পর্যন্ত সোনারগাঁও জনপথ সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকানপাট। ডিএনসিসি নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অল্প সময় পর আবার দখল হয়ে যায়। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ ও বিকল্প ব্যবসার জায়গা।
[caption id="attachment_14328" align="alignnone" width="300"]
অবৈধ ফার্ণিচার মার্কেট[/caption]
ডিএনসিসির অঞ্চল-৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। উত্তরা ১২ নং সেক্টর, বেপজা কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকাগুলোও আমাদের নজরে আছে। খুব শিগগিরই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। রাস্তা ও ফুটপাত জনসাধারণের, এগুলো দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।”
[caption id="attachment_14329" align="alignnone" width="356"]
সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখল করে দোকান[/caption]
তুরাগ-উত্তরায় ফুটপাত, সড়ক ও ওয়াকওয়ে দখল করে অবৈধ ব্যবসা দিন দিন বিস্তার লাভ করছে। জনস্বার্থে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর তুরাগ-উত্তরার ফুটপাত, সড়ক ও ওয়াকওয়ে এখন নিত্যনৈমিত্তিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে চলছে জমজমাট ব্যবসা। ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, মুরগির দোকান, খাবারের হোটেল, জামাকাপড়ের দোকান, ফলমূলের দোকান, টং ও চায়ের দোকান, এমনকি বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ডও।
শনিবার বিকেলে অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা ১২ নং সেক্টর, প্রিয়াংকা সিটি, খালপাড়, ১৫ নং সেক্টর সংলগ্ন সরকারি বেপজা কোয়ার্টার, খালপাড় গণকবর ও ১১ নং সেক্টর সোনারগাঁও জনপথ এলাকায় সারি সারি ভ্যান ও দোকানে চলছে বেচাকেনা। স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ ব্যবসা থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তি ও দালালচক্র নিয়মিত সুবিধা নিচ্ছে। অনেকেই সরকারি পরিত্যক্ত জমি দখল করে দোকান তুলেছেন, আবার কেউ দোকান ভাড়া দিয়েছেন।
[caption id="attachment_14326" align="alignnone" width="380"]
সড়ক দখল করে অবৈধ দোকান বসিয়েছে অসাধু চক্র[/caption]
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যা বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মুরগির দোকান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। চায়ের দোকান ঘিরে আড্ডা ও জটলার কারণে অশান্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটি দোকানদারদের সরে যেতে বহুবার সতর্ক করলেও তারা জায়গা ছাড়েনি।
[caption id="attachment_14327" align="alignnone" width="300"]
সড়কে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড[/caption]
উত্তরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, অবৈধ দখলের কারণে এলাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। সোসাইটি ও প্রেসক্লাব উভয়েই ডিএনসিসি ও রাজউক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাউজ বিল্ডিং থেকে ডিয়াবাড়ি মেট্রোরেল পর্যন্ত সোনারগাঁও জনপথ সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকানপাট। ডিএনসিসি নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অল্প সময় পর আবার দখল হয়ে যায়। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ ও বিকল্প ব্যবসার জায়গা।
[caption id="attachment_14328" align="alignnone" width="300"]
অবৈধ ফার্ণিচার মার্কেট[/caption]
ডিএনসিসির অঞ্চল-৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। উত্তরা ১২ নং সেক্টর, বেপজা কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকাগুলোও আমাদের নজরে আছে। খুব শিগগিরই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। রাস্তা ও ফুটপাত জনসাধারণের, এগুলো দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।”
[caption id="attachment_14329" align="alignnone" width="356"]
সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখল করে দোকান[/caption]
তুরাগ-উত্তরায় ফুটপাত, সড়ক ও ওয়াকওয়ে দখল করে অবৈধ ব্যবসা দিন দিন বিস্তার লাভ করছে। জনস্বার্থে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন