নজর বিডি

দালাল–প্রতারক চক্রের দখলে উত্তরা বিআরটিএ, অদক্ষ চালক পাচ্ছে লাইসেন্স

দালাল–প্রতারক চক্রের দখলে উত্তরা বিআরটিএ, অদক্ষ চালক পাচ্ছে লাইসেন্স

বিআরটিএ উত্তরা কার্যালয় দালাল-প্রতারক চক্রের আখড়া : জরুরি সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

স্টাফ রিপোর্টার :
ঢাকার উত্তরা ডিয়াবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দালাল ও প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রণে। একাধিকবার র‌্যাব, দুদক, সেনাবাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামছে না।

বারবার আটক, আবার পুরোনো পেশায় ফেরা

সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. আতাউর রহমান ওরফে আতাসহ অন্তত ১৪-১৫ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে দালালরা জামিন নিয়ে দ্রুত পুরোনো ব্যবসায় ফিরে আসছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ টেকসই হচ্ছে না।

দালালদের আখড়া : ফটোকপি-চায়ের দোকান

সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসের পূর্ব, পশ্চিম ও সামনের অসংখ্য ফটোকপি দোকান, চা-পান ও খাবারের হোটেল দালালদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই গ্রাহক শিকার ও প্রতারণার নানান কৌশল পরিচালিত হয়।

তিন ভাগে বিভক্ত দালাল চক্র

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—

  • অকেজো ও ভঙ্গুর গাড়ির ফিটনেসে একটি গ্রুপ

  • ড্রাইভিং টেস্টে পাশ করানোর আরেকটি গ্রুপ

  • লিখিত পরীক্ষায় পাশ করানোর তৃতীয় গ্রুপ

এই চক্রগুলোর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে।

অদক্ষ চালকের লাইসেন্সে দুর্ঘটনা বাড়ছে

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন—
“অদক্ষ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ফলে সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি বাড়ছে। বিআরটিএতে সংস্কার ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।”

ঢাকার উত্তরা ডিয়াবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দালাল ও প্রতারক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে

অভিযান ও দণ্ডের ইতিহাস

  • ২০২৫ সালের ২৭ মে : ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ দালাল আটক, ৩ মাসের সাজা।

  • ২০২৫ সালের ৫ মার্চ : ২ দালাল আটক, ১ মাসের সাজা।

  • ২০২৪ সালের ১০ জুলাই : ৪ দালাল আটক, প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড।

  • ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল : মূল হোতা মো. আতাউর রহমান ওরফে আতা আটক, ২ মাসের সাজা।

তবে শাস্তি ভোগের পর তারা আবার মাঠে নেমে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

  • টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না।

  • লিখিত পরীক্ষা থেকে ড্রাইভিং টেস্ট পর্যন্ত দালালদের নিয়ন্ত্রণ।

  • অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন।

একজন ভুক্তভোগীর ভাষায় : “অফিসে পরীক্ষার্থীর চেয়ে দালালের সংখ্যা বেশি। টাকা দিলে ১০০% পাশ নিশ্চিত।”

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

বিআরটিএ উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) কাজী মো. মোরছালীন বলেন,
“দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিআরটিএ পরিচালক (প্রশাসন) আজিজুল ইসলাম জানান,
“দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সবসময় ছিল, আছে এবং চলমান থাকবে।”

জরুরি সংস্কারের দাবি

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—বিআরটিএ উত্তরা অফিসে কোনো কাজ দালাল ছাড়া হয় না। সংশ্লিষ্ট মহলের তদারকি না থাকায় জনসাধারণ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, আইজিপি, র‌্যাব ডিজি ও দুদক চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


দালাল–প্রতারক চক্রের দখলে উত্তরা বিআরটিএ, অদক্ষ চালক পাচ্ছে লাইসেন্স

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

বিআরটিএ উত্তরা কার্যালয় দালাল-প্রতারক চক্রের আখড়া : জরুরি সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।

স্টাফ রিপোর্টার :
ঢাকার উত্তরা ডিয়াবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দালাল ও প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রণে। একাধিকবার র‌্যাব, দুদক, সেনাবাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামছে না।

বারবার আটক, আবার পুরোনো পেশায় ফেরা

সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. আতাউর রহমান ওরফে আতাসহ অন্তত ১৪-১৫ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে দালালরা জামিন নিয়ে দ্রুত পুরোনো ব্যবসায় ফিরে আসছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ টেকসই হচ্ছে না।

দালালদের আখড়া : ফটোকপি-চায়ের দোকান

সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসের পূর্ব, পশ্চিম ও সামনের অসংখ্য ফটোকপি দোকান, চা-পান ও খাবারের হোটেল দালালদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই গ্রাহক শিকার ও প্রতারণার নানান কৌশল পরিচালিত হয়।

তিন ভাগে বিভক্ত দালাল চক্র

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—

  • অকেজো ও ভঙ্গুর গাড়ির ফিটনেসে একটি গ্রুপ

  • ড্রাইভিং টেস্টে পাশ করানোর আরেকটি গ্রুপ

  • লিখিত পরীক্ষায় পাশ করানোর তৃতীয় গ্রুপ

এই চক্রগুলোর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে।

অদক্ষ চালকের লাইসেন্সে দুর্ঘটনা বাড়ছে

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন—
“অদক্ষ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ফলে সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি বাড়ছে। বিআরটিএতে সংস্কার ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।”

ঢাকার উত্তরা ডিয়াবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দালাল ও প্রতারক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে

অভিযান ও দণ্ডের ইতিহাস

  • ২০২৫ সালের ২৭ মে : ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ দালাল আটক, ৩ মাসের সাজা।

  • ২০২৫ সালের ৫ মার্চ : ২ দালাল আটক, ১ মাসের সাজা।

  • ২০২৪ সালের ১০ জুলাই : ৪ দালাল আটক, প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড।

  • ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল : মূল হোতা মো. আতাউর রহমান ওরফে আতা আটক, ২ মাসের সাজা।

তবে শাস্তি ভোগের পর তারা আবার মাঠে নেমে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

  • টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না।

  • লিখিত পরীক্ষা থেকে ড্রাইভিং টেস্ট পর্যন্ত দালালদের নিয়ন্ত্রণ।

  • অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন।

একজন ভুক্তভোগীর ভাষায় : “অফিসে পরীক্ষার্থীর চেয়ে দালালের সংখ্যা বেশি। টাকা দিলে ১০০% পাশ নিশ্চিত।”

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

বিআরটিএ উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) কাজী মো. মোরছালীন বলেন,
“দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিআরটিএ পরিচালক (প্রশাসন) আজিজুল ইসলাম জানান,
“দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সবসময় ছিল, আছে এবং চলমান থাকবে।”

জরুরি সংস্কারের দাবি

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—বিআরটিএ উত্তরা অফিসে কোনো কাজ দালাল ছাড়া হয় না। সংশ্লিষ্ট মহলের তদারকি না থাকায় জনসাধারণ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, আইজিপি, র‌্যাব ডিজি ও দুদক চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত