মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা: রাজধানীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এলাকায় এখন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য চরমে। বিশেষ করে উত্তরা, তুরাগ ও টঙ্গী এলাকা পরিণত হয়েছে ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের নিরাপদ অভয়ারণ্যে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, রিকশা ও পথচারীরা প্রতিনিয়তই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই জীবিকার উপায় হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন, তবে একটি বড় অংশ হতাশা থেকে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। ছিনতাইকারী চক্রে যুক্ত বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২৫ বছরের কিশোর-তরুণ, যাদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত।
অপরাধীরা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ায়, আবার কোনো কোনো সময় সিএনজি ও রিকশার আড়ালে ছিনতাই চালায়। হাতে থাকে দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো আগ্নেয়াস্ত্র। উত্তরা আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী বাজার, চেরাগ আলী, মিলগেট, আশুলিয়া সড়ক, মিরপুর বেরিবাধ ও তুরাগ নদীর পাশ ঘেঁষা এলাকায় প্রায়ই অজ্ঞান কিংবা খুন হওয়া লাশ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই কেউ না কেউ চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাটে পুলিশ টহল থাকলেও অপরাধীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উত্তরার জাহাঙ্গীর ও মহসীন নামে দুই বাসিন্দা বলেন, “বেকারত্বের কারণেই অপরাধ বাড়ছে। সন্ধ্যা-বিকেল তো বটেই, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অবস্থা আরও ভয়াবহ।”
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “বেকারত্ব ও মাদকাসক্তি—এই দুই কারণে অনেক যুবক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে বিশেষ টহল টিম মাঠে কাজ করছে, প্রতিদিনই একাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে র্যাব-১ জানায়, টঙ্গী ও উত্তরায় সাঁড়াশি অভিযানে অসংখ্য ছিনতাইকারী, ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির শিক্ষক আবু তালহা বিন রেদওয়ান বলেন, “বেকারত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। উত্তরা-তুরাগ-টঙ্গীর পরিস্থিতি তার প্রকট উদাহরণ। কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না হলে অপরাধ দমন কঠিন হবে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা: রাজধানীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এলাকায় এখন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য চরমে। বিশেষ করে উত্তরা, তুরাগ ও টঙ্গী এলাকা পরিণত হয়েছে ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের নিরাপদ অভয়ারণ্যে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, রিকশা ও পথচারীরা প্রতিনিয়তই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই জীবিকার উপায় হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন, তবে একটি বড় অংশ হতাশা থেকে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। ছিনতাইকারী চক্রে যুক্ত বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২৫ বছরের কিশোর-তরুণ, যাদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত।
অপরাধীরা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ায়, আবার কোনো কোনো সময় সিএনজি ও রিকশার আড়ালে ছিনতাই চালায়। হাতে থাকে দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো আগ্নেয়াস্ত্র। উত্তরা আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী বাজার, চেরাগ আলী, মিলগেট, আশুলিয়া সড়ক, মিরপুর বেরিবাধ ও তুরাগ নদীর পাশ ঘেঁষা এলাকায় প্রায়ই অজ্ঞান কিংবা খুন হওয়া লাশ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই কেউ না কেউ চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাটে পুলিশ টহল থাকলেও অপরাধীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উত্তরার জাহাঙ্গীর ও মহসীন নামে দুই বাসিন্দা বলেন, “বেকারত্বের কারণেই অপরাধ বাড়ছে। সন্ধ্যা-বিকেল তো বটেই, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অবস্থা আরও ভয়াবহ।”
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “বেকারত্ব ও মাদকাসক্তি—এই দুই কারণে অনেক যুবক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে বিশেষ টহল টিম মাঠে কাজ করছে, প্রতিদিনই একাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে র্যাব-১ জানায়, টঙ্গী ও উত্তরায় সাঁড়াশি অভিযানে অসংখ্য ছিনতাইকারী, ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির শিক্ষক আবু তালহা বিন রেদওয়ান বলেন, “বেকারত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। উত্তরা-তুরাগ-টঙ্গীর পরিস্থিতি তার প্রকট উদাহরণ। কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না হলে অপরাধ দমন কঠিন হবে।”

আপনার মতামত লিখুন