রাজধানীর উত্তরা-তুরাগ এখন মাদকের শহরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইয়াবার হোম ডেলিভারি চলছে প্রতিদিন। উত্তরা বিভাগের ছয় থানায় অন্তত ২০০টির বেশি হটস্পট গড়ে উঠেছে। বেচাকেনা চালাচ্ছে তিন স্তরের সশস্ত্র সিন্ডিকেট। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সমাজে মাদকসেবীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই ইয়াবাসেবী। হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা কিংবা বাংলা মদের চেয়ে ইয়াবার বিস্তার সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা বলছে, ২০০০ সালের পর থেকে ইয়াবা দেশে ঢোকার পর তরুণদের কাছে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকরা জানান, ইয়াবা হচ্ছে এমফিটামিন জাতীয় ‘আপার ড্রাগ’। শুরুতে শরীর ও মন চাঙ্গা করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ— উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-লিভারের ক্ষতি, ক্যান্সার, যৌন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া, মানসিক বিপর্যয় ইত্যাদি দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসে শত কোটি টাকার মাদক লেনদেন হয়। সুন্দরী নারী, তরুণী থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত মাদক সরবরাহে যুক্ত। মাদকের চালান আসছে রেলস্টেশন, মহাসড়ক ও বিমানবন্দর হয়ে। উত্তরা-তুরাগে অন্তত ২০০ হটস্পট থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও মদ।
স্থানীয়দের মতে, অভিযান হলেও মূল গডফাদাররা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদকবাজার আগের চেয়েও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাদের রোগীদের ৮০ শতাংশই ইয়াবাসেবী। নারী আসক্তের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারায়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তুরাগ থানার ওসি জানান, মাদকবিরোধী জিরোটলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে, প্রয়োজনে এলাকা ভিত্তিক চিরুনি অভিযান হবে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের আগে খবর ফাঁস হয়, ফলে মূলহোতারা ধরা পড়ে না। তারা বলছেন,
বস্তি উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন
সিন্ডিকেট ভাঙা
হটস্পট শনাক্তকরণ
ডেলিভারি রুটে নজরদারি
আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ
—এসব ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, উত্তরা-তুরাগে মাদকের থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে সরকার, প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর উত্তরা-তুরাগ এখন মাদকের শহরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইয়াবার হোম ডেলিভারি চলছে প্রতিদিন। উত্তরা বিভাগের ছয় থানায় অন্তত ২০০টির বেশি হটস্পট গড়ে উঠেছে। বেচাকেনা চালাচ্ছে তিন স্তরের সশস্ত্র সিন্ডিকেট। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সমাজে মাদকসেবীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই ইয়াবাসেবী। হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা কিংবা বাংলা মদের চেয়ে ইয়াবার বিস্তার সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা বলছে, ২০০০ সালের পর থেকে ইয়াবা দেশে ঢোকার পর তরুণদের কাছে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকরা জানান, ইয়াবা হচ্ছে এমফিটামিন জাতীয় ‘আপার ড্রাগ’। শুরুতে শরীর ও মন চাঙ্গা করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ— উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-লিভারের ক্ষতি, ক্যান্সার, যৌন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া, মানসিক বিপর্যয় ইত্যাদি দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসে শত কোটি টাকার মাদক লেনদেন হয়। সুন্দরী নারী, তরুণী থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত মাদক সরবরাহে যুক্ত। মাদকের চালান আসছে রেলস্টেশন, মহাসড়ক ও বিমানবন্দর হয়ে। উত্তরা-তুরাগে অন্তত ২০০ হটস্পট থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও মদ।
স্থানীয়দের মতে, অভিযান হলেও মূল গডফাদাররা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদকবাজার আগের চেয়েও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাদের রোগীদের ৮০ শতাংশই ইয়াবাসেবী। নারী আসক্তের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারায়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তুরাগ থানার ওসি জানান, মাদকবিরোধী জিরোটলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে, প্রয়োজনে এলাকা ভিত্তিক চিরুনি অভিযান হবে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের আগে খবর ফাঁস হয়, ফলে মূলহোতারা ধরা পড়ে না। তারা বলছেন,
বস্তি উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন
সিন্ডিকেট ভাঙা
হটস্পট শনাক্তকরণ
ডেলিভারি রুটে নজরদারি
আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ
—এসব ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, উত্তরা-তুরাগে মাদকের থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে সরকার, প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন