রাজধানীবাসীর বিনোদন প্রত্যাশিদের কাছে দর্শনীয় ও জনপ্রিয় স্থান তুরাগের দিয়াবাড়ি। নগরবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল ভ্রমণ ও বিনোদনের জন্য চমৎকার দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে উত্তরার দিয়াবাড়ি। প্রতিদিন এ স্থানটিতে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কেউ আসে মেট্রোরেলে করে ঘুরতে, কেউবা শুধুই দেখতে। শহরের ভেতরে ‘সিঙ্গাপুরের আদলে’ গড়ে ওঠা এই নতুন শহর এখন বিনোদনের বড় কেন্দ্র।

তথ্য অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিয়াবাড়ি একটি জনবহুল এলাকা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। এখানে এমআরটি লাইন–৬-এর একটি ডিপো রয়েছে, যা উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের আগে অবস্থিত। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে রিকশা, লেগুনা বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।

তুরাগ নদ ও উত্তরা লেকের পাশে অসংখ্য ফুডকার্ট ও খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় নানা রকম খাবার। নদীর ধারে নৌকা ভ্রমণও রয়েছে, যা বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ।
মেট্রোরেল ঘিরে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় প্রতিদিন কমপক্ষে অর্ধলক্ষ মানুষ যাতায়াত করে। ছুটির দিনে এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পরিবার ও বয়স্কদের জন্য যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়ে। নারী যাত্রীদের দাবি—কোচ সংখ্যা ও নারীদের জন্য বগি বাড়ানো হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেট্রোরেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে আশপাশে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিদেশ থেকে আনা “ওয়াটার জর্বিং”সহ নানা আকর্ষণ যোগ হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রের খাবার ও রাইডের মূল্য অতিরিক্ত বলে অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, ফুডকার্ট–ওয়াটার জর্বিংয়ের আড়ালে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। অবৈধ দোকানপাট, দলবাজি, দখলবাজি ও ছিনতাই বেড়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
ডিয়াবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “যাত্রীচাপ সামলাতে কোচ সংখ্যা বাড়ানো উচিত। নারীদের জন্য বগি যোগ করা দরকার।”
আরেক যাত্রী হাবিবুর রহমান জানান, “মেট্রোরেল ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ছুটির দিনে দিয়াবাড়ির প্রতি সবার আগ্রহ বেড়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, শক্তিশালী চক্র সরকারি জমি দখল করে অবৈধ ফুডকার্ট বাজার গড়ে তুলেছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক প্রায় ৩৪০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। মাস শেষে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক লাখে। জুন মাসে প্রতিটি দোকান থেকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নৌকা, শিশুদের রাইড, ড্রাগন ট্রেন থেকেও মাসিক লাখো টাকা আদায় হচ্ছে। মোট চাঁদার পরিমাণ বছরে কোটি টাকার বেশি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নাম ভাঙিয়ে এ চাঁদাবাজি চলছে। প্রশাসন, রাজউক ও ডিএনসিসি নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা ট্রাকস্ট্যান্ড ও বালুর গদি কেন রয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার পর বাজার জমে ওঠে। উঠতি বয়সী তরুণ–তরুণীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, চুরি–ছিনতাই, দখলবাজি নিয়মিত ঘটছে। নার্সারির আড়ালে এসব কার্যক্রম চলে প্রশাসনের চোখের সামনে।
উত্তরা বিভাগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, টহল ও চেকপোস্ট নিয়মিত চালু আছে। তবে স্থানীয়রা মনে করেন, এটি যথেষ্ট নয়।
তুরাগ এলাকার সচেতন মহল প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, র্যাব, রাজউক, ডিএনসিসি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। দিয়াবাড়ি এলাকায় অবৈধ বাজার ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীবাসীর বিনোদন প্রত্যাশিদের কাছে দর্শনীয় ও জনপ্রিয় স্থান তুরাগের দিয়াবাড়ি। নগরবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল ভ্রমণ ও বিনোদনের জন্য চমৎকার দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে উত্তরার দিয়াবাড়ি। প্রতিদিন এ স্থানটিতে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কেউ আসে মেট্রোরেলে করে ঘুরতে, কেউবা শুধুই দেখতে। শহরের ভেতরে ‘সিঙ্গাপুরের আদলে’ গড়ে ওঠা এই নতুন শহর এখন বিনোদনের বড় কেন্দ্র।

তথ্য অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিয়াবাড়ি একটি জনবহুল এলাকা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। এখানে এমআরটি লাইন–৬-এর একটি ডিপো রয়েছে, যা উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের আগে অবস্থিত। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে রিকশা, লেগুনা বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়।

তুরাগ নদ ও উত্তরা লেকের পাশে অসংখ্য ফুডকার্ট ও খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় নানা রকম খাবার। নদীর ধারে নৌকা ভ্রমণও রয়েছে, যা বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ।
মেট্রোরেল ঘিরে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় প্রতিদিন কমপক্ষে অর্ধলক্ষ মানুষ যাতায়াত করে। ছুটির দিনে এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পরিবার ও বয়স্কদের জন্য যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়ে। নারী যাত্রীদের দাবি—কোচ সংখ্যা ও নারীদের জন্য বগি বাড়ানো হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেট্রোরেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে আশপাশে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিদেশ থেকে আনা “ওয়াটার জর্বিং”সহ নানা আকর্ষণ যোগ হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রের খাবার ও রাইডের মূল্য অতিরিক্ত বলে অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, ফুডকার্ট–ওয়াটার জর্বিংয়ের আড়ালে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। অবৈধ দোকানপাট, দলবাজি, দখলবাজি ও ছিনতাই বেড়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
ডিয়াবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “যাত্রীচাপ সামলাতে কোচ সংখ্যা বাড়ানো উচিত। নারীদের জন্য বগি যোগ করা দরকার।”
আরেক যাত্রী হাবিবুর রহমান জানান, “মেট্রোরেল ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ছুটির দিনে দিয়াবাড়ির প্রতি সবার আগ্রহ বেড়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, শক্তিশালী চক্র সরকারি জমি দখল করে অবৈধ ফুডকার্ট বাজার গড়ে তুলেছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক প্রায় ৩৪০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। মাস শেষে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক লাখে। জুন মাসে প্রতিটি দোকান থেকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
নৌকা, শিশুদের রাইড, ড্রাগন ট্রেন থেকেও মাসিক লাখো টাকা আদায় হচ্ছে। মোট চাঁদার পরিমাণ বছরে কোটি টাকার বেশি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নাম ভাঙিয়ে এ চাঁদাবাজি চলছে। প্রশাসন, রাজউক ও ডিএনসিসি নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা ট্রাকস্ট্যান্ড ও বালুর গদি কেন রয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার পর বাজার জমে ওঠে। উঠতি বয়সী তরুণ–তরুণীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, চুরি–ছিনতাই, দখলবাজি নিয়মিত ঘটছে। নার্সারির আড়ালে এসব কার্যক্রম চলে প্রশাসনের চোখের সামনে।
উত্তরা বিভাগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, টহল ও চেকপোস্ট নিয়মিত চালু আছে। তবে স্থানীয়রা মনে করেন, এটি যথেষ্ট নয়।
তুরাগ এলাকার সচেতন মহল প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, র্যাব, রাজউক, ডিএনসিসি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। দিয়াবাড়ি এলাকায় অবৈধ বাজার ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন