রাজধানীর উত্তরা বিভাগের ছয় থানা—উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, দক্ষিণখান ও উত্তরখান জুড়ে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ দোকান থেকে দৈনিক অর্ধকোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং, খালপাড় হয়ে তুরাগের দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল এলাকা, বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে টঙ্গী রেলব্রিজ পর্যন্ত ফুটপাত জুড়ে ছোট-বড় প্রায় ১০-১২ হাজার অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান থেকে শুরু করে সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা দখল করে দোকান বসিয়েছে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।
২০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে উঠে ২০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ২৪ লাখ টাকা।
৩০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে ৩০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ৩৬ লাখ টাকা।
৫০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে ৫০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ৬০ লাখ টাকা।
এর বাইরে দোকান বসানোর সময় এককালীন ১০-১৫ হাজার টাকা, অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি দিতে হয়। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরা পূর্ব থানার আওতাধীন আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে দুই থেকে তিন শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দোকানই এখানে চলছে প্রকাশ্যে। ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান বসাতে এককালীন টাকা দেওয়ার পর প্রতিদিন ২৫০-৩০০ টাকা গুনতে হয় আইয়ুব আলী গংদের। তারা পুলিশ ও প্রশাসনকে মেইনটেইন করে থাকে। ট্রাফিক পুলিশকেও আলাদাভাবে দিতে হয় ৫০-১০০ টাকা।
উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন হাউজ বিল্ডিং, নর্থ টাওয়ার, আজিমপুর, আমির কমপ্লেক্স, রাজলক্ষ্মী মোড়, বিএনএস সেন্টার ও জসিমউদ্দীন রোডের চারপাশে অবৈধ দোকানের ছড়াছড়ি। দোকানদারদের অভিযোগ—প্রথমে ভ্যান বা দোকান বসাতে ১০-২০ হাজার টাকা দিতে হয়, এরপর প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র, যাদের ‘ফুটপাতের বাপ-মা’ বলা হয়। পুলিশের গাড়ি প্রতিদিন আসলেও তারা দেখে-শুনে চলে যায়।
অন্যদিকে তুরাগ থানার খালপাড় এলাকায় ব্রিজ ও বড় মসজিদের সামনে শতাধিক দোকান পুলিশের নাকের ডগায় চলছে। এখানে ব্যবসায়ীরা জানান, মাসিক টাকা দিলেই পুলিশসহ সব ব্যবস্থা চক্রটি ম্যানেজ করে দেয়।

দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকায় রাজউকের জায়গা দখল করে ব্যাঙের ছাতার মতো দোকান গড়ে উঠেছে। শুধু মেট্রোরেল এলাকা ঘিরেই রয়েছে ২৫-৩০টি ফুডকোর্টসহ অসংখ্য দোকান।
অন্যদিকে বিমানবন্দর এলাকার ফুটপাত দখল বাণিজ্যে রেলের কর্মকর্তাদের নাম আসছে। দোকান বসাতে দিতে হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন দিতে হয় ৫০০-৭০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, রেল পুলিশসহ সবাই ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়।
উত্তরার ১১-১৫ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ হাঁটার সুযোগ হারাচ্ছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর পুরো উত্তরা যেন মেলায় পরিণত হয়। ময়লার মোড় থেকে শুরু করে ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচা বাজার পর্যন্ত দুই পাশে অবৈধ দোকানে ভরে থাকে। পাশাপাশি ফার্নিচারের বিশাল মার্কেটও গড়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ—এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকা ভাড়া আদায় করছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না, তবে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিমানবন্দর জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তার এলাকায় কোনো ছাড় দেওয়া হয় না; অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশন ও রাজউকের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। তবে লিখিত অভিযোগ না পেলে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর উত্তরা বিভাগের ছয় থানা—উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, দক্ষিণখান ও উত্তরখান জুড়ে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ দোকান থেকে দৈনিক অর্ধকোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং, খালপাড় হয়ে তুরাগের দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল এলাকা, বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে টঙ্গী রেলব্রিজ পর্যন্ত ফুটপাত জুড়ে ছোট-বড় প্রায় ১০-১২ হাজার অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান থেকে শুরু করে সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা দখল করে দোকান বসিয়েছে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।
২০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে উঠে ২০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ২৪ লাখ টাকা।
৩০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে ৩০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ৩৬ লাখ টাকা।
৫০০ টাকা হারে ১০ হাজার দোকান থেকে ৫০ লাখ টাকা, ১২ হাজার দোকান থেকে ৬০ লাখ টাকা।
এর বাইরে দোকান বসানোর সময় এককালীন ১০-১৫ হাজার টাকা, অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি দিতে হয়। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরা পূর্ব থানার আওতাধীন আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে দুই থেকে তিন শতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দোকানই এখানে চলছে প্রকাশ্যে। ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান বসাতে এককালীন টাকা দেওয়ার পর প্রতিদিন ২৫০-৩০০ টাকা গুনতে হয় আইয়ুব আলী গংদের। তারা পুলিশ ও প্রশাসনকে মেইনটেইন করে থাকে। ট্রাফিক পুলিশকেও আলাদাভাবে দিতে হয় ৫০-১০০ টাকা।
উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন হাউজ বিল্ডিং, নর্থ টাওয়ার, আজিমপুর, আমির কমপ্লেক্স, রাজলক্ষ্মী মোড়, বিএনএস সেন্টার ও জসিমউদ্দীন রোডের চারপাশে অবৈধ দোকানের ছড়াছড়ি। দোকানদারদের অভিযোগ—প্রথমে ভ্যান বা দোকান বসাতে ১০-২০ হাজার টাকা দিতে হয়, এরপর প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র, যাদের ‘ফুটপাতের বাপ-মা’ বলা হয়। পুলিশের গাড়ি প্রতিদিন আসলেও তারা দেখে-শুনে চলে যায়।
অন্যদিকে তুরাগ থানার খালপাড় এলাকায় ব্রিজ ও বড় মসজিদের সামনে শতাধিক দোকান পুলিশের নাকের ডগায় চলছে। এখানে ব্যবসায়ীরা জানান, মাসিক টাকা দিলেই পুলিশসহ সব ব্যবস্থা চক্রটি ম্যানেজ করে দেয়।

দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকায় রাজউকের জায়গা দখল করে ব্যাঙের ছাতার মতো দোকান গড়ে উঠেছে। শুধু মেট্রোরেল এলাকা ঘিরেই রয়েছে ২৫-৩০টি ফুডকোর্টসহ অসংখ্য দোকান।
অন্যদিকে বিমানবন্দর এলাকার ফুটপাত দখল বাণিজ্যে রেলের কর্মকর্তাদের নাম আসছে। দোকান বসাতে দিতে হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন দিতে হয় ৫০০-৭০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, রেল পুলিশসহ সবাই ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়।
উত্তরার ১১-১৫ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ হাঁটার সুযোগ হারাচ্ছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর পুরো উত্তরা যেন মেলায় পরিণত হয়। ময়লার মোড় থেকে শুরু করে ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচা বাজার পর্যন্ত দুই পাশে অবৈধ দোকানে ভরে থাকে। পাশাপাশি ফার্নিচারের বিশাল মার্কেটও গড়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ—এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে শক্তিশালী সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকা ভাড়া আদায় করছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না, তবে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিমানবন্দর জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তার এলাকায় কোনো ছাড় দেওয়া হয় না; অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশন ও রাজউকের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। তবে লিখিত অভিযোগ না পেলে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন