নজর বিডি

মাদকের ছড়াছড়ি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে দক্ষিণ ও উত্তরখানবাসী

মাদকের ছড়াছড়ি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে দক্ষিণ ও উত্তরখানবাসী
রাজধানীর সর্ব উত্তরের জনবহুল দুটি থানা—দক্ষিণখান ও উত্তরখান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে বর্তমানে মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্যাং সদস্যরা দিন-রাত মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিয়ে গাঁজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে ট্যাপেনডেনাল পর্যন্ত সেবন করছে। নেশার টাকা যোগাতে তারা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, ময়লা, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি করছে। নতুন ভবন নির্মাণ করলেই চাঁদার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরীহ মানুষ ভয়ে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ চক্রের সদস্যরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দাপট দেখাচ্ছে। উঠতি বয়সী এসব কিশোর গ্যাং স্কুল-কলেজের মেয়েদের উত্যক্ত করছে প্রকাশ্যে। প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়। প্রায়শই নিজেদেরকে ‘অমুক ভাইয়ের লোক’ দাবি করে তারা। এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। নেশায় আসক্ত এসব তরুণ রাতের অন্ধকারে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে সংঘর্ষে। বিশেষ করে উত্তরখানের মাজার, মাষ্টারপাড়া, কলাবাগান, তেরমুখ, কাঁচকুড়া, মৈনারটেক, দক্ষিণখানের আশকোনা, পন্ডিতপাড়া, মোল্লারটেক, গাওয়াইর, আশকোনা বাজার, ফায়দাবাদ, চরিরটেক, ট্রান্সমিটার, আজমপুর, বিমানবন্দর রেললাইন, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ব্রিজ এলাকা এখন মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। ইয়াবা ট্যাবলেট মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, “১৬ বছর ধরে এসব অপরাধীদের কাউকে এলাকায় দেখিনি, এখন হঠাৎ করে তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা প্রায় নিষ্ক্রিয়।” দক্ষিণখান জোনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ অনেককে আটকও করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি—নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মাদকের ছড়াছড়ি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে দক্ষিণ ও উত্তরখানবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
রাজধানীর সর্ব উত্তরের জনবহুল দুটি থানা—দক্ষিণখান ও উত্তরখান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে বর্তমানে মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্যাং সদস্যরা দিন-রাত মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিয়ে গাঁজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে ট্যাপেনডেনাল পর্যন্ত সেবন করছে। নেশার টাকা যোগাতে তারা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, ময়লা, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি করছে। নতুন ভবন নির্মাণ করলেই চাঁদার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরীহ মানুষ ভয়ে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ চক্রের সদস্যরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দাপট দেখাচ্ছে। উঠতি বয়সী এসব কিশোর গ্যাং স্কুল-কলেজের মেয়েদের উত্যক্ত করছে প্রকাশ্যে। প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়। প্রায়শই নিজেদেরকে ‘অমুক ভাইয়ের লোক’ দাবি করে তারা। এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। নেশায় আসক্ত এসব তরুণ রাতের অন্ধকারে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে সংঘর্ষে। বিশেষ করে উত্তরখানের মাজার, মাষ্টারপাড়া, কলাবাগান, তেরমুখ, কাঁচকুড়া, মৈনারটেক, দক্ষিণখানের আশকোনা, পন্ডিতপাড়া, মোল্লারটেক, গাওয়াইর, আশকোনা বাজার, ফায়দাবাদ, চরিরটেক, ট্রান্সমিটার, আজমপুর, বিমানবন্দর রেললাইন, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ব্রিজ এলাকা এখন মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। ইয়াবা ট্যাবলেট মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, “১৬ বছর ধরে এসব অপরাধীদের কাউকে এলাকায় দেখিনি, এখন হঠাৎ করে তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা প্রায় নিষ্ক্রিয়।” দক্ষিণখান জোনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ অনেককে আটকও করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি—নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত