সুপারভাইজার পলাশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে অঞ্চল-৮ এর অধীনে থাকা ৪৫ নং ওয়ার্ডে চলছে সুপারভাইজার পলাশের একচ্ছত্র আধিপত্য। কাউন্সিলর না থাকায় এই ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ ন্যূনতম সেবাও পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আর সেই সুযোগে পলাশ নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের কাছ থেকে।
ওয়ার্ডটির টিসিবি কার্ড বিতরণ থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই চলছে অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন আত্মসাৎ, ভুয়া কর্মী দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ তোলা, ময়লা বহনকারী প্রতিটি ভ্যান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়া—এসবই পলাশের নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পলাশের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও উঠে এসেছে। পরিচ্ছন্নকর্মী দিনা বলেন,
“স্যার আমাকে সাবিনা নামের এক সহকর্মীর বাসায় যেতে বলতেন। একদিন তার মেয়ের মোবাইলে স্যারের ছবি দেখি। এরপর স্যার আমাকে চাকরি থেকে বের করে দেন। আমি শুধু চাকরি রাখার জন্য অনেক ভুল কাজ করেছি।”
দিনা আরও জানান,
“প্রতি মাসে কর্মীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা তুলিয়ে নিতেন পলাশ স্যার। অনুপস্থিত কর্মীদের নামেও বেতন তুলতেন।”
একজন প্রবীণ পরিচ্ছন্নকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমাদের বেতন আগে ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, এখন ১২ হাজার দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় পলাশ স্যার।”
অন্য এক কর্মী বলেন,
“ড্রেন পরিষ্কার করতে গেলে বাড়তি কাজের ৫০% কমিশন দিতে হয় পলাশ স্যারকে। কেউ না দিলে পরের দিন হাজিরা থেকে নাম কেটে দেন।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুর মাঠ এলাকায় রাস্তার পাশে বড় একটি ময়লার বাগাড় তৈরি করা হয়েছে। এতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,
“আমার বাড়ির সামনে ময়লার বাগাড় বানানো হয়েছে। প্রতিবাদ করলে লোকজন নিয়ে এসে হুমকি দেয়। ভয়ে কিছু বলার সাহস পাই না।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নকর্মীরা ডিএনসিসির মেয়রের কাছে দাবি জানিয়েছেন—ওয়ার্ড ৪৫-এ চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো:জিয়াউর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনঞ্চল-৮ এর বর্জ্য অপসারণ বিভাগের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবু ইউনুস বলেন, বিয়য়গুলো আমাকে লিখে দিলে খতিয়ে দেখবো।
এবিষয়ে সুপারভাইজার পলাশের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫
সুপারভাইজার পলাশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে অঞ্চল-৮ এর অধীনে থাকা ৪৫ নং ওয়ার্ডে চলছে সুপারভাইজার পলাশের একচ্ছত্র আধিপত্য। কাউন্সিলর না থাকায় এই ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ ন্যূনতম সেবাও পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আর সেই সুযোগে পলাশ নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের কাছ থেকে।
ওয়ার্ডটির টিসিবি কার্ড বিতরণ থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই চলছে অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন আত্মসাৎ, ভুয়া কর্মী দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ তোলা, ময়লা বহনকারী প্রতিটি ভ্যান থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়া—এসবই পলাশের নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পলাশের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও উঠে এসেছে। পরিচ্ছন্নকর্মী দিনা বলেন,
“স্যার আমাকে সাবিনা নামের এক সহকর্মীর বাসায় যেতে বলতেন। একদিন তার মেয়ের মোবাইলে স্যারের ছবি দেখি। এরপর স্যার আমাকে চাকরি থেকে বের করে দেন। আমি শুধু চাকরি রাখার জন্য অনেক ভুল কাজ করেছি।”
দিনা আরও জানান,
“প্রতি মাসে কর্মীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা তুলিয়ে নিতেন পলাশ স্যার। অনুপস্থিত কর্মীদের নামেও বেতন তুলতেন।”
একজন প্রবীণ পরিচ্ছন্নকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমাদের বেতন আগে ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, এখন ১২ হাজার দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় পলাশ স্যার।”
অন্য এক কর্মী বলেন,
“ড্রেন পরিষ্কার করতে গেলে বাড়তি কাজের ৫০% কমিশন দিতে হয় পলাশ স্যারকে। কেউ না দিলে পরের দিন হাজিরা থেকে নাম কেটে দেন।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালুর মাঠ এলাকায় রাস্তার পাশে বড় একটি ময়লার বাগাড় তৈরি করা হয়েছে। এতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,
“আমার বাড়ির সামনে ময়লার বাগাড় বানানো হয়েছে। প্রতিবাদ করলে লোকজন নিয়ে এসে হুমকি দেয়। ভয়ে কিছু বলার সাহস পাই না।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নকর্মীরা ডিএনসিসির মেয়রের কাছে দাবি জানিয়েছেন—ওয়ার্ড ৪৫-এ চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৮ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো:জিয়াউর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনঞ্চল-৮ এর বর্জ্য অপসারণ বিভাগের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবু ইউনুস বলেন, বিয়য়গুলো আমাকে লিখে দিলে খতিয়ে দেখবো।
এবিষয়ে সুপারভাইজার পলাশের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

আপনার মতামত লিখুন