মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা:
রাজধানীর আট বিভাগের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগ এখন এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার কবলে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় ‘মব ভায়োলেন্স’ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উত্তরা এলাকায় ‘আকাশ বাহিনী’ ও তার পোষা কিশোর গ্যাং বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা, ভয়ভীতি, হুমকি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এতে সাংবাদিক ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত কয়েক মাসে উত্তরা ও আশপাশ এলাকায় সাংবাদিকদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর, উত্তরখান বাজার এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দৈনিক সংবাদ দিগন্ত’র স্টাফ রিপোর্টার সাকিবুল হাসান।
এর আগে, একই থানার মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক নুরুল আমিন হাসান।
৩০ সেপ্টেম্বর, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে বিজয় টিভি’র সাংবাদিক আলাউদ্দিন আল আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক’র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির এবং দৈনিক সকালের সময়’র জোবায়ের আহম্মেদ আহত হন।
এ ঘটনায় জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর ভোরে গোপন অভিযানে উত্তরা আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা কিশোর গ্যাং লিডার আসাদুর রহমান আকাশ (২৪) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তারা মব সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,
“মব ভায়োলেন্স কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীও হলে আইন নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিফলন। পুলিশ সক্রিয় না থাকায় সুযোগসন্ধানীরা গুজব রটিয়ে মব তৈরি করছে। এসব অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্যমতে, গত ১২ বছরে দেশে ৯৫৪ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শুধু ২০২৪ সালে মারা যান ১২৮ জন, আর ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে নিহত হয়েছেন অন্তত ১১৯ জন।
ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন,
“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। মব কালচার প্রতিরোধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।”
উত্তরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন,
“সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা এখন চরমে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উত্তরায় স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
অন্যদিকে, সমাজকর্মী ওমর ফারুখ বলেন,
“সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা মানেই গণতন্ত্রের উপর হামলা। দোষীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
উত্তরার সাংবাদিক সমাজ বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, তথ্য উপদেষ্টা, আইজিপি ও র্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫
মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা:
রাজধানীর আট বিভাগের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগ এখন এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার কবলে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় ‘মব ভায়োলেন্স’ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উত্তরা এলাকায় ‘আকাশ বাহিনী’ ও তার পোষা কিশোর গ্যাং বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা, ভয়ভীতি, হুমকি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এতে সাংবাদিক ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত কয়েক মাসে উত্তরা ও আশপাশ এলাকায় সাংবাদিকদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর, উত্তরখান বাজার এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দৈনিক সংবাদ দিগন্ত’র স্টাফ রিপোর্টার সাকিবুল হাসান।
এর আগে, একই থানার মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন আজকের পত্রিকা’র সাংবাদিক নুরুল আমিন হাসান।
৩০ সেপ্টেম্বর, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে বিজয় টিভি’র সাংবাদিক আলাউদ্দিন আল আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক’র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির এবং দৈনিক সকালের সময়’র জোবায়ের আহম্মেদ আহত হন।
এ ঘটনায় জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর ভোরে গোপন অভিযানে উত্তরা আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা কিশোর গ্যাং লিডার আসাদুর রহমান আকাশ (২৪) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তারা মব সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,
“মব ভায়োলেন্স কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীও হলে আইন নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিফলন। পুলিশ সক্রিয় না থাকায় সুযোগসন্ধানীরা গুজব রটিয়ে মব তৈরি করছে। এসব অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্যমতে, গত ১২ বছরে দেশে ৯৫৪ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শুধু ২০২৪ সালে মারা যান ১২৮ জন, আর ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে নিহত হয়েছেন অন্তত ১১৯ জন।
ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন,
“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। মব কালচার প্রতিরোধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।”
উত্তরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন,
“সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা এখন চরমে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উত্তরায় স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
অন্যদিকে, সমাজকর্মী ওমর ফারুখ বলেন,
“সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা মানেই গণতন্ত্রের উপর হামলা। দোষীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
উত্তরার সাংবাদিক সমাজ বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, তথ্য উপদেষ্টা, আইজিপি ও র্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন