পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন চলাচলকারী এসব কনটেইনার ট্রেনে কাগজে কলমে ডিউটি বুক থাকলেও, বাস্তবে ডিউটিতে থাকেন মাত্র দুই-একজন সদস্য। বাকিরা মাসের পর মাস বাড়িতে বা অফিসে অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, তদন্ত করলে দেখা যাবে—একই কিছু স্টাফ ঘুরেফিরে মাসের পর মাস কনটেইনার লাইনে বুক থাকছেন। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে অফিস ম্যানেজ করেই এই ‘ডিউটি বুকিং’ করা হয়। বাস্তবে তারা ডিউটিতে না থেকেও কাগজে কলমে নাম ওঠান এবং বিনিময়ে মাসিক “পারসেন্টেজ” চলে যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, কমলাপুরের সিআই রেজুয়ানুর রহমান প্রতি মাসে এসব ভুয়া বুকিংয়ের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন। সেই অর্থের অংশ পাচ্ছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট ও ঢাকা কমান্ড্যান্টও।
এদিকে পোস্টিং হাবিলদার হাসমত আলী প্রতিদিন অফিসে টিএ বিলের কাজ করলেও, কাগজে তাকে কনটেইনার ট্রেনে ডিউটিতে দেখানো হয়। হাসমত নিজেই নিজের এবং অন্যদের নামে মাসে ২৫-৩০ দিনের ভুয়া টিএ বিল তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য বলেন, “ডিউটিতে লোক না থাকায় প্রায়ই ট্রেনে রেল সম্পদ চুরি হচ্ছে। কিন্তু যারা ডিউটি না করেই বেতন ও টিএ বিল তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।”
বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, হাসমতের সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের “কৌশলগত সম্পর্ক” থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকাতেই রয়েছেন। বদলি বাণিজ্য, দালালি ও অবৈধ টিএ বিলের টাকায় ইতোমধ্যে তিনি বিপুল অর্থসম্পদ গড়ে তুলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে কমলাপুরের কমান্ড্যান্ট শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, কমলাপুর স্টেশনের দায়িত্বে থাকা সিআই রেজুয়ানুর রহমান তার অধীনস্থদের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সবাই নিয়ম মেনেই ডিউটি করেন।”
তবে দৈনিক কতজন আরএনবি সদস্য স্টেশনে ডিউটি করেন বা কনটেইনার ট্রেনে কতজন দায়িত্বে থাকেন—এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এখন প্রশ্ন থেকে যায়—রেলওয়ের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির জালে জড়িতদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কি আদৌ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে? নাকি এভাবেই সরকারের অর্থ লুটপাটের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে?

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫
পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন চলাচলকারী এসব কনটেইনার ট্রেনে কাগজে কলমে ডিউটি বুক থাকলেও, বাস্তবে ডিউটিতে থাকেন মাত্র দুই-একজন সদস্য। বাকিরা মাসের পর মাস বাড়িতে বা অফিসে অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, তদন্ত করলে দেখা যাবে—একই কিছু স্টাফ ঘুরেফিরে মাসের পর মাস কনটেইনার লাইনে বুক থাকছেন। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে অফিস ম্যানেজ করেই এই ‘ডিউটি বুকিং’ করা হয়। বাস্তবে তারা ডিউটিতে না থেকেও কাগজে কলমে নাম ওঠান এবং বিনিময়ে মাসিক “পারসেন্টেজ” চলে যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, কমলাপুরের সিআই রেজুয়ানুর রহমান প্রতি মাসে এসব ভুয়া বুকিংয়ের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন। সেই অর্থের অংশ পাচ্ছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট ও ঢাকা কমান্ড্যান্টও।
এদিকে পোস্টিং হাবিলদার হাসমত আলী প্রতিদিন অফিসে টিএ বিলের কাজ করলেও, কাগজে তাকে কনটেইনার ট্রেনে ডিউটিতে দেখানো হয়। হাসমত নিজেই নিজের এবং অন্যদের নামে মাসে ২৫-৩০ দিনের ভুয়া টিএ বিল তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য বলেন, “ডিউটিতে লোক না থাকায় প্রায়ই ট্রেনে রেল সম্পদ চুরি হচ্ছে। কিন্তু যারা ডিউটি না করেই বেতন ও টিএ বিল তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।”
বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, হাসমতের সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের “কৌশলগত সম্পর্ক” থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকাতেই রয়েছেন। বদলি বাণিজ্য, দালালি ও অবৈধ টিএ বিলের টাকায় ইতোমধ্যে তিনি বিপুল অর্থসম্পদ গড়ে তুলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে কমলাপুরের কমান্ড্যান্ট শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, কমলাপুর স্টেশনের দায়িত্বে থাকা সিআই রেজুয়ানুর রহমান তার অধীনস্থদের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সবাই নিয়ম মেনেই ডিউটি করেন।”
তবে দৈনিক কতজন আরএনবি সদস্য স্টেশনে ডিউটি করেন বা কনটেইনার ট্রেনে কতজন দায়িত্বে থাকেন—এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এখন প্রশ্ন থেকে যায়—রেলওয়ের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির জালে জড়িতদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কি আদৌ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে? নাকি এভাবেই সরকারের অর্থ লুটপাটের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে?

আপনার মতামত লিখুন