দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার ফলেই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হামাস তাদের হাতে থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরাইল সরকার প্রায় ২,০০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া ১৫০ জন বন্দিকে মিশরে নির্বাসিত করা হয়েছে।
এছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে মৃত বন্দিদের দেহাবশেষ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে চারজনের দেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এপির খবরে। যদিও এই ধাপেই কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে—ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামাস প্রতিশ্রুত দেহাবশেষ সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেয়নি।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরাইলি সেনারা গাজার কিছু এলাকা থেকে সাময়িকভাবে সরে গেছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে রাফা সীমান্ত এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি, ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ সীমিত রয়েছে।
মুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রত্যাবর্তনে গাজা ও পশ্চিম তীরে ব্যাপক উদযাপন শুরু হয়েছে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইসরাইলেও মুক্ত বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন দৃশ্য আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দেহাবশেষ হস্তান্তর, মানবিক সহায়তার বণ্টন এবং উভয় পক্ষের আস্থার প্রশ্নে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় অবকাঠামোগত ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর। হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও সড়কপথ পুনর্গঠনে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতিকে “গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রাথমিক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “যদি উভয় পক্ষ মানবিক অঙ্গীকার রক্ষা করে, তবে এটি স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম ধাপ হতে পারে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার ফলেই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হামাস তাদের হাতে থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরাইল সরকার প্রায় ২,০০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া ১৫০ জন বন্দিকে মিশরে নির্বাসিত করা হয়েছে।
এছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে মৃত বন্দিদের দেহাবশেষ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে চারজনের দেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এপির খবরে। যদিও এই ধাপেই কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে—ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামাস প্রতিশ্রুত দেহাবশেষ সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেয়নি।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরাইলি সেনারা গাজার কিছু এলাকা থেকে সাময়িকভাবে সরে গেছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে রাফা সীমান্ত এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি, ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ সীমিত রয়েছে।
মুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রত্যাবর্তনে গাজা ও পশ্চিম তীরে ব্যাপক উদযাপন শুরু হয়েছে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইসরাইলেও মুক্ত বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন দৃশ্য আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দেহাবশেষ হস্তান্তর, মানবিক সহায়তার বণ্টন এবং উভয় পক্ষের আস্থার প্রশ্নে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় অবকাঠামোগত ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর। হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও সড়কপথ পুনর্গঠনে অবিলম্বে সহায়তা প্রয়োজন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতিকে “গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রাথমিক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “যদি উভয় পক্ষ মানবিক অঙ্গীকার রক্ষা করে, তবে এটি স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম ধাপ হতে পারে।”

আপনার মতামত লিখুন