নজর বিডি

ডুমুরিয়ায় অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

ডুমুরিয়ায় অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

ডুমুরিয়ার অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় জনজীবন ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাসী-পচা ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি, লাইসেন্সবিহীন দোকান ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা এসব অভিযোগে এলাকাবাসি জরুরি অভিযান দাবি করেছেন।


ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফুটপাতে ও খোলা যায়গায় তৈরি খাবার, পঁচা-বাসি মিষ্টি, ভেজাল পেয়াজি-সিঙ্গড়া ও নীচু মানের মশলা ব্যবহার করে রান্না করা মাছ-মাংস স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সস্তা হওয়ায় ভ্যান চালক, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা এসব হোটেলে খাবার গ্রহণ করেন—যার ফলে গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, পেটের ব্যথাসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় সরকারি লাইসেন্স নেই এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। কিছু হোটেলে দুই/তিন দিন ধরে বাসী মিষ্টি রেখে বিক্রি করা, পুরোনো মাছ-মাংস মিশিয়ে নতুন হিসেবে বিক্রি করা ও রাতে গোপনে জবাই করা ছাগল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডুমুরিয়ার তৃষ্ণা হোটেলের সামনে ক্রেতা মোক্তার হোসেন বলেন, “বাইরে থেকে হোটেলগুলো দেখতে উন্নত মানের হলেও পিছনের দিকে নোংরা পরিবেশ—এ বিষয়ে আপত্তি জানালে মালিক ও কর্মীরা গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।”

খুলনার এক বুদ্ধিজীবী জানান, বাংলাদেশে বিদ্যমান ১৯৬৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—দুধ, কেক, রুটি, ভাত ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বাসী করে বিক্রি করা যাবে না; হোটেল-রেস্তোরার অংশসমূহ পরিষ্কার রাখতে হবে; ক্রিয়াকলাপে নিয়োজিতদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান বাধ্যতামূলক ইত্যাদি। তবু অধিকাংশ স্থানে এসব নীতি কার্যকর হচ্ছে না বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “আলোকপাত ছাড়াই খোলা খাবার খাওয়া এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব খাবার থেকে জন্ডিস, কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ন রোগ দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে এসে অপরাধী হোটেলগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অপেক্ষাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নোড—ডুমুরিয়া সদর ও চুকনগর—এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ব্যবসায়ী এ পথে চলাচল করে; তাই সুষ্ঠু খাদ্যবাজার বজায় রাখতে সমস্যা বাড়লে পরিবেশজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয়রা চান—অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

টিপস (স্থানীয়দের ও পাঠকদের জন্য):

  • ফুটপথ কিংবা খোলা জায়গা থেকে খাবার কিনবার সময় সতর্ক থাকুন; খোলামেলা পরিবেশে রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

  • সন্দেহজনক খাবার পেলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে জানানো উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

ডুমুরিয়ার অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় জনজীবন ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাসী-পচা ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি, লাইসেন্সবিহীন দোকান ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা এসব অভিযোগে এলাকাবাসি জরুরি অভিযান দাবি করেছেন।


ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফুটপাতে ও খোলা যায়গায় তৈরি খাবার, পঁচা-বাসি মিষ্টি, ভেজাল পেয়াজি-সিঙ্গড়া ও নীচু মানের মশলা ব্যবহার করে রান্না করা মাছ-মাংস স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সস্তা হওয়ায় ভ্যান চালক, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা এসব হোটেলে খাবার গ্রহণ করেন—যার ফলে গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, পেটের ব্যথাসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরায় সরকারি লাইসেন্স নেই এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। কিছু হোটেলে দুই/তিন দিন ধরে বাসী মিষ্টি রেখে বিক্রি করা, পুরোনো মাছ-মাংস মিশিয়ে নতুন হিসেবে বিক্রি করা ও রাতে গোপনে জবাই করা ছাগল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডুমুরিয়ার তৃষ্ণা হোটেলের সামনে ক্রেতা মোক্তার হোসেন বলেন, “বাইরে থেকে হোটেলগুলো দেখতে উন্নত মানের হলেও পিছনের দিকে নোংরা পরিবেশ—এ বিষয়ে আপত্তি জানালে মালিক ও কর্মীরা গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।”

খুলনার এক বুদ্ধিজীবী জানান, বাংলাদেশে বিদ্যমান ১৯৬৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—দুধ, কেক, রুটি, ভাত ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বাসী করে বিক্রি করা যাবে না; হোটেল-রেস্তোরার অংশসমূহ পরিষ্কার রাখতে হবে; ক্রিয়াকলাপে নিয়োজিতদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান বাধ্যতামূলক ইত্যাদি। তবু অধিকাংশ স্থানে এসব নীতি কার্যকর হচ্ছে না বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “আলোকপাত ছাড়াই খোলা খাবার খাওয়া এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব খাবার থেকে জন্ডিস, কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ন রোগ দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে এসে অপরাধী হোটেলগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অপেক্ষাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নোড—ডুমুরিয়া সদর ও চুকনগর—এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ব্যবসায়ী এ পথে চলাচল করে; তাই সুষ্ঠু খাদ্যবাজার বজায় রাখতে সমস্যা বাড়লে পরিবেশজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয়রা চান—অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

টিপস (স্থানীয়দের ও পাঠকদের জন্য):

  • ফুটপথ কিংবা খোলা জায়গা থেকে খাবার কিনবার সময় সতর্ক থাকুন; খোলামেলা পরিবেশে রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

  • সন্দেহজনক খাবার পেলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে জানানো উচিত।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত