এস.এম. নাহিদ | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বেড়িবাঁধ নয়, গড়ে উঠছে দেয়াল ও ঘর। রাজধানীর খিলক্ষেতের মস্তুল মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ প্রকল্পের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে চলছে দখল ও বেআইনি স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব। ১৯৮৯ সালে ডেমরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী রক্ষার উদ্দেশ্যে ৩৩ দশমিক ৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই বেড়িবাঁধের কোনো অস্তিত্ব আজও নেই।
বরং দেখা যাচ্ছে—জমিজুড়ে পাকা ভবন, বাউন্ডারি দেয়াল, তথাকথিত গবেষণাগার, এমনকি কর্মচারীদের কোয়ার্টার পর্যন্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের নামে জমি অধিগ্রহণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড, এখন নিজেরাই হয়ে গেছে দখলদার।
সূত্রে জানা যায়, অধিগ্রহণ করা মোট ৩৩.৫৬ একরের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার একর জমির কোনো হদিস নেই। সরকারি কাগজে জমি থাকলেও বাস্তবে তা উধাও। স্থানীয়দের দাবি, বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ভূমিখেকোদের যোগসাজশে সরকারি এই সম্পত্তি গিলে ফেলা হয়েছে।
মস্তুল এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা শুধু জমি দখল নয়, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বেড়িবাঁধের নামে জমি নিয়ে এখন ভবন তোলা হচ্ছে, গবেষণার নাটক চলছে।”
এলাকাবাসী জানায়, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং কিছু কর্মকর্তা বোর্ডের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান নজরবিডিকে বলেন, “বেড়িবাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি প্রবাহ ঠিক রাখা। এখন যদি সেই জায়গা দখল হয়ে যায়, তাহলে পুরো ঢাকার জলব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরের দুর্নীতির জাল না ছিড়লে এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।”
বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “উপর থেকে নির্দেশ এসেছে, আমরা শুধু কাজ করছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—‘উপর’ মানে কে? জনগণের ঊর্ধ্বে কে সেই নির্দেশদাতা?
স্থানীয়রা জানায়, বেড়িবাঁধ ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা তারা সহ্য করবে না। যদি প্রকল্পের প্রয়োজন না থাকে, তবে জমি জনগণকে ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে তারা আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তিন দশক পরও বেড়িবাঁধ নেই, কিন্তু আছে পাকা ঘর, দেয়াল আর হদিসবিহীন সরকারি সম্পদ। জনগণের টাকায় জমি নিয়ে জনগণকেই বঞ্চিত করার এই কাহিনি এখন গবেষণার নামের এক নির্মম প্রতারণা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫
এস.এম. নাহিদ | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বেড়িবাঁধ নয়, গড়ে উঠছে দেয়াল ও ঘর। রাজধানীর খিলক্ষেতের মস্তুল মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ প্রকল্পের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে চলছে দখল ও বেআইনি স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব। ১৯৮৯ সালে ডেমরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী রক্ষার উদ্দেশ্যে ৩৩ দশমিক ৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই বেড়িবাঁধের কোনো অস্তিত্ব আজও নেই।
বরং দেখা যাচ্ছে—জমিজুড়ে পাকা ভবন, বাউন্ডারি দেয়াল, তথাকথিত গবেষণাগার, এমনকি কর্মচারীদের কোয়ার্টার পর্যন্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের নামে জমি অধিগ্রহণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড, এখন নিজেরাই হয়ে গেছে দখলদার।
সূত্রে জানা যায়, অধিগ্রহণ করা মোট ৩৩.৫৬ একরের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার একর জমির কোনো হদিস নেই। সরকারি কাগজে জমি থাকলেও বাস্তবে তা উধাও। স্থানীয়দের দাবি, বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ভূমিখেকোদের যোগসাজশে সরকারি এই সম্পত্তি গিলে ফেলা হয়েছে।
মস্তুল এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা শুধু জমি দখল নয়, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বেড়িবাঁধের নামে জমি নিয়ে এখন ভবন তোলা হচ্ছে, গবেষণার নাটক চলছে।”
এলাকাবাসী জানায়, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং কিছু কর্মকর্তা বোর্ডের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান নজরবিডিকে বলেন, “বেড়িবাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি প্রবাহ ঠিক রাখা। এখন যদি সেই জায়গা দখল হয়ে যায়, তাহলে পুরো ঢাকার জলব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরের দুর্নীতির জাল না ছিড়লে এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।”
বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “উপর থেকে নির্দেশ এসেছে, আমরা শুধু কাজ করছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—‘উপর’ মানে কে? জনগণের ঊর্ধ্বে কে সেই নির্দেশদাতা?
স্থানীয়রা জানায়, বেড়িবাঁধ ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা তারা সহ্য করবে না। যদি প্রকল্পের প্রয়োজন না থাকে, তবে জমি জনগণকে ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে তারা আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তিন দশক পরও বেড়িবাঁধ নেই, কিন্তু আছে পাকা ঘর, দেয়াল আর হদিসবিহীন সরকারি সম্পদ। জনগণের টাকায় জমি নিয়ে জনগণকেই বঞ্চিত করার এই কাহিনি এখন গবেষণার নামের এক নির্মম প্রতারণা।

আপনার মতামত লিখুন