উত্তরা (ডেস্ক রিপাের্ট)
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেটটি রেস্টুরেন্ট-বার ব্যবসার আড়ালে মদ ও মাদক পরিবেশনের কাজ করে। স্থানীয়দের বক্তব্য, খালপাড় মোড় (সেক্টর-১২) সংলগ্ন কোরিয়ান বারের মাধ্যমে মদের বড় অংশ সরবরাহ করা হয় এবং রাতে গাউসুল আজম এভিনিউ এলাকায় ডান্সারের ছদ্মবেশে যৌনকর্মী সরবরাহ কার্যক্রম চলে। একই সঙ্গে এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং ভীত-ভীতি সঞ্চারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সিন্ডিকেটের ‘পাহারা’ হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গিতে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বারে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মীরা জিজ্ঞাসা করে—পার্স নেবেন নাকি নিয়ে যাবেন? হুশ হারাতে হয় দেখতে।” অন্য একজন বলেন, “রাতের টহল পুলিশ টিমগুলো প্রায় প্রতিরাতে কিছু টাকা সম্মানী নেয় এবং টহল-টিমের জন্য উন্নত মানের রাতের খাবারের ব্যবস্থা চলে—এগুলোও নানাভাবে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএমসি) উত্তর মেট্রোর এক সূত্র এবং স্থানীয় প্রশাসন-পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংবাদকর্মী জানান; তবে কর্মকর্তা-স্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডিএমসি মেট্রো উত্তর পর্যায়ের পরিদর্শক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সিন্ডিকেট-নেতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এমন তর্কও স্থানীয় মহল থেকে শোনা গেছে—যারা অভিযোগ করছেন, এ কারণেই কার্যকর তদন্ত বিপর্যস্ত। ডিএমসি-র কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া নথিভুতে আনতে চাইলে লিখিত অভিযোগ প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম মোল্লাকে কোরিয়ান বারে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়ে অবহিত করা হলেও, কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত মূল কড়া করা হয়নি। ওসি জানিয়েছেন, যদি লিখিত অভিযোগ এবং প্রমাণ এসে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
অপরদিকে সিন্ডিকেট প্রধান ‘জুয়েল’ নামে ব্যক্তিকে ফোন ও মেসেজ করে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিককে জানান—“আমার নামে লিখে RAB, পুলিশ, DB-এর কাছে যা ইচ্ছে পাঠান; আমার কিছুই হবে না, সবাইকে টাকা দিলেই ডান্ডা।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, অঞ্চলটি একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় পরিণত হয়েছে—বেসরকারি বারের মুখে অ্যালকোহল, পারমিটবিহীন মদের ব্যবসা ও ছোটখাটো অগ্নিনিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে; এগুলো প্রজাতান্ত্রিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যায়বিচারমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডান্স ক্লাব ও বারের অভ্যন্তরে অগ্নিসুরক্ষা কম থাকায় সেখানে নিয়ন্ত্রিত মান বজায় রাখা না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে—স্থানীয় এক চিকিৎসক ও অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ সংবাদ প্রস্তুতির সময় ডিএমসি, উত্তরা পশ্চিম থানা ও মেট্রো পুলিশকে লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রমাণাবলীর ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে; কিন্তু তারা উপস্থিত হয়ে বা লিখিতভাবে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরা (ডেস্ক রিপাের্ট)
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেটটি রেস্টুরেন্ট-বার ব্যবসার আড়ালে মদ ও মাদক পরিবেশনের কাজ করে। স্থানীয়দের বক্তব্য, খালপাড় মোড় (সেক্টর-১২) সংলগ্ন কোরিয়ান বারের মাধ্যমে মদের বড় অংশ সরবরাহ করা হয় এবং রাতে গাউসুল আজম এভিনিউ এলাকায় ডান্সারের ছদ্মবেশে যৌনকর্মী সরবরাহ কার্যক্রম চলে। একই সঙ্গে এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং ভীত-ভীতি সঞ্চারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সিন্ডিকেটের ‘পাহারা’ হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গিতে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বারে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মীরা জিজ্ঞাসা করে—পার্স নেবেন নাকি নিয়ে যাবেন? হুশ হারাতে হয় দেখতে।” অন্য একজন বলেন, “রাতের টহল পুলিশ টিমগুলো প্রায় প্রতিরাতে কিছু টাকা সম্মানী নেয় এবং টহল-টিমের জন্য উন্নত মানের রাতের খাবারের ব্যবস্থা চলে—এগুলোও নানাভাবে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএমসি) উত্তর মেট্রোর এক সূত্র এবং স্থানীয় প্রশাসন-পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংবাদকর্মী জানান; তবে কর্মকর্তা-স্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডিএমসি মেট্রো উত্তর পর্যায়ের পরিদর্শক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সিন্ডিকেট-নেতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এমন তর্কও স্থানীয় মহল থেকে শোনা গেছে—যারা অভিযোগ করছেন, এ কারণেই কার্যকর তদন্ত বিপর্যস্ত। ডিএমসি-র কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া নথিভুতে আনতে চাইলে লিখিত অভিযোগ প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম মোল্লাকে কোরিয়ান বারে অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়ে অবহিত করা হলেও, কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত মূল কড়া করা হয়নি। ওসি জানিয়েছেন, যদি লিখিত অভিযোগ এবং প্রমাণ এসে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
অপরদিকে সিন্ডিকেট প্রধান ‘জুয়েল’ নামে ব্যক্তিকে ফোন ও মেসেজ করে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিককে জানান—“আমার নামে লিখে RAB, পুলিশ, DB-এর কাছে যা ইচ্ছে পাঠান; আমার কিছুই হবে না, সবাইকে টাকা দিলেই ডান্ডা।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, অঞ্চলটি একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় পরিণত হয়েছে—বেসরকারি বারের মুখে অ্যালকোহল, পারমিটবিহীন মদের ব্যবসা ও ছোটখাটো অগ্নিনিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে; এগুলো প্রজাতান্ত্রিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যায়বিচারমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডান্স ক্লাব ও বারের অভ্যন্তরে অগ্নিসুরক্ষা কম থাকায় সেখানে নিয়ন্ত্রিত মান বজায় রাখা না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে—স্থানীয় এক চিকিৎসক ও অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ সংবাদ প্রস্তুতির সময় ডিএমসি, উত্তরা পশ্চিম থানা ও মেট্রো পুলিশকে লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রমাণাবলীর ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে; কিন্তু তারা উপস্থিত হয়ে বা লিখিতভাবে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

আপনার মতামত লিখুন