অবৈধ নিয়োগ, সরকারি সনদ জালিয়াতি, অনুদান আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ গড়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পাহাড়
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি কাঠেরপুল সংগ্ন মাতুয়াইল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো:মোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি সনদ জালিয়াতি থেকে শুরু করে কোটি টাকার দুর্নীতি, ফান্ড আত্মসাৎ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে—মোরশেদ আলী সরকারি আইসিটি ট্রেনিং না নিয়েই জাল সনদের মাধ্যমে নিজেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুটি দোকান এবং ডেমরায় দুটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। এসব ফ্ল্যাটের একটিতে তিনি নিজে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠানের ৬৮ শতাংশ জমি বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ ফান্ডে ও সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ হতে হলে ন্যূনতম ১২ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন হলেও মোরশেদ আলীর সে অভিজ্ঞতা ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ করতে তিনি অডিট কর্মকর্তাকে দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন, যার একটি বড় অংশ তুলে নেওয়া হয় শিক্ষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, মোরশেদ আলী একাধিক শিক্ষককে অনৈতিকভাবে চাকরিচ্যুত করেছেন, জোরপূর্বক ‘আন্ডারটেকেন’ স্বাক্ষর নিয়েছেন এবং অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন ছাত্রদের দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বা ফ্যান-লাইট ঠিক করাতেন।
এছাড়া, সরকারি অনুদানে দেওয়া ডিজিটাল ল্যাবের ল্যাপটপ ও কম্পিউটার নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়া, এবং এতিমখানার খাসির মাংস নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো—তিনি মাদরাসার টেলিভিশনে গভীর রাত পর্যন্ত পর্নো ছবি দেখতেন ও মদ্যপান করতেন। মাদরাসার নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট, রড, বালু বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং অনুদানের টিউবওয়েলের নামে দুই লাখ বিশ হাজার টাকার ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
শিক্ষকদের দাবি, করোনাকালে ৯ মাসের বকেয়া বেতন একনো পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় কেউই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, মোরশেদ আলী মাদরাসার স্থাপনার ভাড়া থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ব্যক্তিগতভাবে আদায় করতেন, যা মাদরাসা তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। মোরশেদের অপকর্পে সহায়তা করেন কয়েকজন শিক্ষক, অফিস সহকারী সুমন ও নাইট গার্ড আওয়াল মিয়া।
মো: মোরশেদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি। এমনকি মাদরাসায় গেলেও তার দেখা মেলেনি।
মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুননেসা শিউলি বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, মাদরাসার এই অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। একসময়ে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখর ছিল মাতুয়াইলের ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও এতিমখানা। যা এখন মৃত প্রায় ।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন