অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাৎ শিকদার সিরাজদিখান বাজারের শিকদার জেড এইচ শপিং কমপ্লেক্সে জোরপূর্বক একটি দোকান ঘর দখল করে সেখানে যুবদলের অফিস স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দোকানটির ভাড়া পরিশোধ করছেন না। বর্তমানে ওই ঘরটি উপজেলা যুবদলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং সংগঠনের ব্যানারে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব টাকার বেশিরভাগই তিনি আত্মসাৎ করেন।
সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখান বাজারসংলগ্ন সর্দারপাড়া এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন শাহাদাৎ শিকদার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সহযোগী যুবদল কর্মী আক্তার সর্দারের মাধ্যমে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তিনি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য শিফাতুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অপপ্রচার চালান, যাতে নিজের অপকর্ম আড়াল করা যায়।
এ বিষয়ে শিফাতুল ইসলাম জনি বলেন, “কারা মাদক ব্যবসা করে তা প্রশাসন ভালো জানে। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারে, আমি পুরস্কৃত করব। যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেদের অন্যায় ঢাকতে এসব করছে।”
২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয় যে, ফ্রান্স প্রবাসী শাহ আলমের পাঠানো এতিমদের জন্য ১ লাখ টাকার অনুদান শাহাদাৎ শিকদার আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় দলীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে চাপ প্রয়োগ করে শাহাদাৎ শিকদারকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগও ওঠে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বারবার তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধন সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি হা-ডু-ডু টুর্নামেন্টে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকা নিয়েও যুবদল নেতাদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। এছাড়া থানার আয়োজনে মাদকবিরোধী সভায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আক্তার সর্দারসহ অনুসারীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে শাহাদাৎ শিকদার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আপনারা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. গুলজার বলেন, “তার বিরুদ্ধে অনেক কথাই শুনেছি, বিশেষ করে মাদ্রাসার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি। মানুষ হিসেবে সে ভালো, কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা বেশি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাৎ শিকদার সিরাজদিখান বাজারের শিকদার জেড এইচ শপিং কমপ্লেক্সে জোরপূর্বক একটি দোকান ঘর দখল করে সেখানে যুবদলের অফিস স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দোকানটির ভাড়া পরিশোধ করছেন না। বর্তমানে ওই ঘরটি উপজেলা যুবদলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং সংগঠনের ব্যানারে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব টাকার বেশিরভাগই তিনি আত্মসাৎ করেন।
সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখান বাজারসংলগ্ন সর্দারপাড়া এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন শাহাদাৎ শিকদার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সহযোগী যুবদল কর্মী আক্তার সর্দারের মাধ্যমে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তিনি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য শিফাতুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অপপ্রচার চালান, যাতে নিজের অপকর্ম আড়াল করা যায়।
এ বিষয়ে শিফাতুল ইসলাম জনি বলেন, “কারা মাদক ব্যবসা করে তা প্রশাসন ভালো জানে। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারে, আমি পুরস্কৃত করব। যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা নিজেদের অন্যায় ঢাকতে এসব করছে।”
২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয় যে, ফ্রান্স প্রবাসী শাহ আলমের পাঠানো এতিমদের জন্য ১ লাখ টাকার অনুদান শাহাদাৎ শিকদার আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় দলীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে চাপ প্রয়োগ করে শাহাদাৎ শিকদারকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগও ওঠে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বারবার তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধন সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি হা-ডু-ডু টুর্নামেন্টে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকা নিয়েও যুবদল নেতাদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। এছাড়া থানার আয়োজনে মাদকবিরোধী সভায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আক্তার সর্দারসহ অনুসারীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে শাহাদাৎ শিকদার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আপনারা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. গুলজার বলেন, “তার বিরুদ্ধে অনেক কথাই শুনেছি, বিশেষ করে মাদ্রাসার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি। মানুষ হিসেবে সে ভালো, কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা বেশি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন