বুধবার সকাল ১১ মিনিটে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের শৈলগাতিয়া ব্রিজ নিকট মোবাইল কোর্ট বসিয়ে স্টোন ব্রিজ ইটভাটা মালিককে অবৈধভাবে নদীর মাটি কর্তন করার অপরাধে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সময় সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণ করা নিয়ে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস, জেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ।
গতকালকের অভিযানে ডুমুরিয়া উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহজাহান জমাদার, ইটভাটার মালিক মোঃ আজিজুর রহমান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কিরণ বালা ও অফিস সহকারী শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আধিকারিকরা জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর এসব উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত অভিযানের পরে কিছুকাল কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইটভাটা মালিকরা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে ভাটার আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং কিছু ভাটার চিমনি ও বাউন্ডারি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
সরকারি অভিযানের সমালোচনা—খরচ ও কার্যকারিতা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব অভিযান পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেট, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও কখনো র্যাবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ লাগছে। এসব অভিযানে যানবহন, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োজিত হওয়ায় বড় পরিমাণ সরকারি খরচ হয়; আবার নির্দিষ্ট সময় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হওয়ার ফলে তাদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিবন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছে—এই খরচ ও মানুষের দুর্ভোগের বদলে কি প্রকৃতভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হচ্ছে? ইয়াদি প্রতিবছর অভিযান চললেও ভাটা মালিকরা অল্পদিনের মধ্যেই আগের মতোই ফিরে আসে, তাহলে অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য কী: ধারাবাহিক রুটিন অনুসারে অভিযান চালানো নাকি পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা?
আইনি দিক ও শাস্তি লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনে (ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯) ধারা ৪ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। ধারা ১৪ অনুযায়ী লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে ভাটা ধ্বংস বা জরিমানা করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাটা মালিকরা ফিরে এসে আবার কার্যক্রম শুরু করায় পরিবেশগত ক্ষতি অব্যাহত রয়েই যাচ্ছে।
অবশেষে নিবন্ধটি বিশ্লেষণ করেছে যে, যদি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা হয়—বিশেষত নদী ভাঙন রোধ ও বনজ সম্পদ রক্ষা—তবে প্রশাসনকে যথাযথ, ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত সমাধান নিতে হবে, যেমন: বৈধ-অবৈধ ভাটার সঠিক তালিকা তৈরি, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার কঠোর বাস্তবায়ন, বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ও স্থানান্তর, এবং অভিযানের পরে নিয়মিত মনিটরিং ও স্থানীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রতিবেদক মন্তব্য করেছেন—কেবল উচ্ছেদ বা জরিমানা দিয়ে সমস্যা সমাধান হচ্ছে না; সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন দরকার।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫
বুধবার সকাল ১১ মিনিটে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের শৈলগাতিয়া ব্রিজ নিকট মোবাইল কোর্ট বসিয়ে স্টোন ব্রিজ ইটভাটা মালিককে অবৈধভাবে নদীর মাটি কর্তন করার অপরাধে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সময় সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণ করা নিয়ে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস, জেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ।
গতকালকের অভিযানে ডুমুরিয়া উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহজাহান জমাদার, ইটভাটার মালিক মোঃ আজিজুর রহমান, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কিরণ বালা ও অফিস সহকারী শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আধিকারিকরা জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর এসব উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত অভিযানের পরে কিছুকাল কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইটভাটা মালিকরা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে ভাটার আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং কিছু ভাটার চিমনি ও বাউন্ডারি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
সরকারি অভিযানের সমালোচনা—খরচ ও কার্যকারিতা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব অভিযান পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেট, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও কখনো র্যাবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ লাগছে। এসব অভিযানে যানবহন, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োজিত হওয়ায় বড় পরিমাণ সরকারি খরচ হয়; আবার নির্দিষ্ট সময় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হওয়ার ফলে তাদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিবন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছে—এই খরচ ও মানুষের দুর্ভোগের বদলে কি প্রকৃতভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হচ্ছে? ইয়াদি প্রতিবছর অভিযান চললেও ভাটা মালিকরা অল্পদিনের মধ্যেই আগের মতোই ফিরে আসে, তাহলে অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য কী: ধারাবাহিক রুটিন অনুসারে অভিযান চালানো নাকি পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা?
আইনি দিক ও শাস্তি লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনে (ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯) ধারা ৪ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। ধারা ১৪ অনুযায়ী লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে ভাটা ধ্বংস বা জরিমানা করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাটা মালিকরা ফিরে এসে আবার কার্যক্রম শুরু করায় পরিবেশগত ক্ষতি অব্যাহত রয়েই যাচ্ছে।
অবশেষে নিবন্ধটি বিশ্লেষণ করেছে যে, যদি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা হয়—বিশেষত নদী ভাঙন রোধ ও বনজ সম্পদ রক্ষা—তবে প্রশাসনকে যথাযথ, ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত সমাধান নিতে হবে, যেমন: বৈধ-অবৈধ ভাটার সঠিক তালিকা তৈরি, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার কঠোর বাস্তবায়ন, বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ও স্থানান্তর, এবং অভিযানের পরে নিয়মিত মনিটরিং ও স্থানীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রতিবেদক মন্তব্য করেছেন—কেবল উচ্ছেদ বা জরিমানা দিয়ে সমস্যা সমাধান হচ্ছে না; সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন দরকার।

আপনার মতামত লিখুন