বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাসির রহমান তাহমিদ প্রতিদিনের মতো নিকুঞ্জ–১ এর লেক ড্রাইভ সড়ক ধরে হাঁটছিল। পারিবারিক সূত্র ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিরিবিলি ওই সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাহমিদের নাকের ওপর টিস্যু পেপারের মতো দেখতে একটি বস্তু চেপে ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে।

প্রায় ৪০ মিনিট পর তাহমিদ নিজেকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিকুঞ্জ–১ এলাকায় বিকেলবেলা নিয়মিত শিশু-কিশোরদের হাঁটাহাঁটি ও খেলাধুলা করতে দেখা যায়। ঠিক সেই সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এলাকায় অজ্ঞান পার্টিসহ অপরাধী চক্রের অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘটনার পরপরই তাহমিদের পরিবার বিষয়টি খিলক্ষেত থানাকে অবহিত করে। খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম–এর নির্দেশে এসআই মাহফুজসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে। এ সময় নিকুঞ্জ–১ এ দায়িত্বে থাকা একাধিক নিরাপত্তাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নিকুঞ্জ টানপাড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা, এলাকার সমাজকর্মী ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। তিনি ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্থানীয় বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে তথাকথিত ‘অজ্ঞান পার্টি’র কাজ বলে ধারণা করা হলেও, অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—
“নিকুঞ্জ–১ এর মতো অভিজাত ও সুরক্ষিত এলাকায় যদি শিশু নিরাপদ না থাকে, তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কী?”
ঘটনার পর নিকুঞ্জ–১ এ দিন ও রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। বাসিন্দারা অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত নিকুঞ্জ–১ এ প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলছাত্র অচেতন হওয়ার ঘটনাটি রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাসির রহমান তাহমিদ প্রতিদিনের মতো নিকুঞ্জ–১ এর লেক ড্রাইভ সড়ক ধরে হাঁটছিল। পারিবারিক সূত্র ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিরিবিলি ওই সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাহমিদের নাকের ওপর টিস্যু পেপারের মতো দেখতে একটি বস্তু চেপে ধরে। মুহূর্তের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে।

প্রায় ৪০ মিনিট পর তাহমিদ নিজেকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিকুঞ্জ–১ এলাকায় বিকেলবেলা নিয়মিত শিশু-কিশোরদের হাঁটাহাঁটি ও খেলাধুলা করতে দেখা যায়। ঠিক সেই সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এলাকায় অজ্ঞান পার্টিসহ অপরাধী চক্রের অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘটনার পরপরই তাহমিদের পরিবার বিষয়টি খিলক্ষেত থানাকে অবহিত করে। খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম–এর নির্দেশে এসআই মাহফুজসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে। এ সময় নিকুঞ্জ–১ এ দায়িত্বে থাকা একাধিক নিরাপত্তাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নিকুঞ্জ টানপাড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা, এলাকার সমাজকর্মী ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। তিনি ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্থানীয় বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে তথাকথিত ‘অজ্ঞান পার্টি’র কাজ বলে ধারণা করা হলেও, অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—
“নিকুঞ্জ–১ এর মতো অভিজাত ও সুরক্ষিত এলাকায় যদি শিশু নিরাপদ না থাকে, তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কী?”
ঘটনার পর নিকুঞ্জ–১ এ দিন ও রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। বাসিন্দারা অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি নজরদারি আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত নিকুঞ্জ–১ এ প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলছাত্র অচেতন হওয়ার ঘটনাটি রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন