নজর বিডি

পাইকগাছায় ইটভাটার গ্রাসে সরকারি জমি ও বন: নীরব দর্শক

পাইকগাছায় ইটভাটার গ্রাসে সরকারি জমি ও বন: নীরব দর্শক

নজরবিডি, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়ন এখন পরিবেশ ধ্বংসের এক জীবন্ত উদাহরণ। একদিকে অবৈধ ইটভাটা, অন্যদিকে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে জনপদ। সরকারি ওয়াবদা রাস্তা, খাস জমি এমনকি শ্মশান-কবরস্থানের মাটিও পুড়ছে ইটভাটার আগুনে। আর এসব দেখার দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর যেন ‘কাঠের চশমা’ পরে না দেখার ভান করে আছে।

উধাও হচ্ছে খাস জমি ও ওয়াবদা বাঁধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মদদে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সরকারি ওয়াবদা রাস্তা ও শত শত বিঘা খাস জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এর ফলে অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নদীর পানি ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা ও ফসল হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

আইন ভেঙে ১০ ভাটা এক ইউনিয়নেই পাইকগাছা উপজেলায় মোট ১৩টি ইটভাটার মধ্যে ১০টিই অবস্থিত চাঁদখালী ইউনিয়নে। আইন অনুযায়ী একটি ভাটা থেকে অন্যটির দূরত্ব ন্যূনতম ১ কিলোমিটার হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এখানে অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ হাতেরও কম দূরত্বে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই ১০টি ভাটার একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র নেই।

বৃক্ষ উজাড়ের কারখানা: কাঠ কয়লার চুল্লি ইটভাটার পাশাপাশি বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি। স্থানীয় বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কয়লা বানানো হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাছ উজাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। এই চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় এলাকার আকাশ সবসময় আচ্ছন্ন থাকে।

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটভাটা ও কয়লার চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকায় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখ জ্বালা ও চর্মরোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনার পাশেই রয়েছে:

চাঁদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী হাই স্কুল। চাঁদখালী কলেজ। জামিয়া ইসলামিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা।খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর তোয়াক্কা করছে না কেউ। পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চোখের সামনে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

চাঁদখালীর সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন—এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাইকগাছায় ইটভাটার গ্রাসে সরকারি জমি ও বন: নীরব দর্শক

প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নজরবিডি, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়ন এখন পরিবেশ ধ্বংসের এক জীবন্ত উদাহরণ। একদিকে অবৈধ ইটভাটা, অন্যদিকে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে জনপদ। সরকারি ওয়াবদা রাস্তা, খাস জমি এমনকি শ্মশান-কবরস্থানের মাটিও পুড়ছে ইটভাটার আগুনে। আর এসব দেখার দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর যেন ‘কাঠের চশমা’ পরে না দেখার ভান করে আছে।

উধাও হচ্ছে খাস জমি ও ওয়াবদা বাঁধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মদদে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সরকারি ওয়াবদা রাস্তা ও শত শত বিঘা খাস জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এর ফলে অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নদীর পানি ঢুকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা ও ফসল হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

আইন ভেঙে ১০ ভাটা এক ইউনিয়নেই পাইকগাছা উপজেলায় মোট ১৩টি ইটভাটার মধ্যে ১০টিই অবস্থিত চাঁদখালী ইউনিয়নে। আইন অনুযায়ী একটি ভাটা থেকে অন্যটির দূরত্ব ন্যূনতম ১ কিলোমিটার হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এখানে অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ হাতেরও কম দূরত্বে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই ১০টি ভাটার একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র নেই।

বৃক্ষ উজাড়ের কারখানা: কাঠ কয়লার চুল্লি ইটভাটার পাশাপাশি বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি। স্থানীয় বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব চুল্লিতে কয়লা বানানো হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাছ উজাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। এই চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় এলাকার আকাশ সবসময় আচ্ছন্ন থাকে।

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটভাটা ও কয়লার চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকায় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখ জ্বালা ও চর্মরোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনার পাশেই রয়েছে:

চাঁদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী হাই স্কুল। চাঁদখালী কলেজ। জামিয়া ইসলামিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা।খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর তোয়াক্কা করছে না কেউ। পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চোখের সামনে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

চাঁদখালীর সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন—এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে?


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত