নজরবিডি, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
২০১৮ সালের নভেম্বরে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও সাত বছর পর আবারও বনের গহীনে দস্যুতার কালো ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। বর্তমানে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটকদের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-১৫টি নতুন দস্যু বাহিনী। তবে এই অন্ধকার জগতের অনেকেই এখন আবার ‘আলোর পথে’ ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন। এমনই এক আলোচিত নাম সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই বাহিনীর অনেক সদস্যই আগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সুগম না হওয়ায় তারা পুনরায় দস্যুতায় জড়িয়েছেন।
আক্কাস আলীর (ছদ্মনাম) আর্তনাদ, রাজু বাহিনীর হয়ে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, আত্মসমর্পণের পর একটি হত্যা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। পুলিশের নির্যাতন ও মামলার চাপে টিকতে না পেরে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি ‘দুলাভাই বাহিনী’তে যোগ দেন।
রহিম উদ্দিনের (ছদ্মনাম) ক্ষোভ, ২০০৯ সালের একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘকাল ভারতে পলাতক ছিলেন। ক্ষোভ ও দুঃখ থেকে দেশে ফিরে অন্ধকার পথ বেছে নেন তিনি।
বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম একসময় সাধারণ বনজীবী ছিলেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ সরদারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি বারবার জেল খেটেছেন। চুরির অপবাদ ও অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের দাবি, তারা অন্য ডাকাত দলের মতো বনজীবীদের ওপর নির্যাতন করেন না। তাদের একমাত্র দাবি— ‘হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা’ থেকে মুক্তি পেলে তারা স্থায়ীভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
আত্মসমর্পণের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান:
“জলদস্যু থাকুক এটা আমরা চাই না। তারা যদি আলোচনা করতে চায়, আমরা প্রস্তুত। তবে আত্মসমর্পণের পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
নজরবিডি, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
২০১৮ সালের নভেম্বরে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও সাত বছর পর আবারও বনের গহীনে দস্যুতার কালো ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। বর্তমানে সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটকদের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-১৫টি নতুন দস্যু বাহিনী। তবে এই অন্ধকার জগতের অনেকেই এখন আবার ‘আলোর পথে’ ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন। এমনই এক আলোচিত নাম সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই বাহিনীর অনেক সদস্যই আগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সুগম না হওয়ায় তারা পুনরায় দস্যুতায় জড়িয়েছেন।
আক্কাস আলীর (ছদ্মনাম) আর্তনাদ, রাজু বাহিনীর হয়ে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, আত্মসমর্পণের পর একটি হত্যা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। পুলিশের নির্যাতন ও মামলার চাপে টিকতে না পেরে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি ‘দুলাভাই বাহিনী’তে যোগ দেন।
রহিম উদ্দিনের (ছদ্মনাম) ক্ষোভ, ২০০৯ সালের একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘকাল ভারতে পলাতক ছিলেন। ক্ষোভ ও দুঃখ থেকে দেশে ফিরে অন্ধকার পথ বেছে নেন তিনি।
বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম একসময় সাধারণ বনজীবী ছিলেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ সরদারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি বারবার জেল খেটেছেন। চুরির অপবাদ ও অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের দাবি, তারা অন্য ডাকাত দলের মতো বনজীবীদের ওপর নির্যাতন করেন না। তাদের একমাত্র দাবি— ‘হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা’ থেকে মুক্তি পেলে তারা স্থায়ীভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।
আত্মসমর্পণের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান:
“জলদস্যু থাকুক এটা আমরা চাই না। তারা যদি আলোচনা করতে চায়, আমরা প্রস্তুত। তবে আত্মসমর্পণের পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।”

আপনার মতামত লিখুন