নজর বিডি

চাঁদখালীতে অবৈধ কয়লা চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া: পাইকগাছা পুলিশের নিরবতায় জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে

চাঁদখালীতে অবৈধ কয়লা চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া: পাইকগাছা পুলিশের নিরবতায় জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে

নজরবিডি, খুলনা

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি। রাস্তার পাশের গাছ থেকে শুরু করে বসতবাড়ির ফলজ ও বনজ গাছ—কিছুই বাদ যাচ্ছে না এসব চুল্লির গ্রাস থেকে। প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ মণ কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে চরম হুমকির মুখে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় জনমনে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাইকগাছা–কয়রা সড়কের দুই পাশে দ্রুত গতিতে বাড়ছে এসব অবৈধ চুল্লির সংখ্যা। নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকছে পুরো এলাকা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও হাঁপানিসহ দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নিকটস্থ চাঁদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে মাসে ৩-৪ বার কাঠ পোড়ানো হয়। গড়ে এক একটি চুল্লিতে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ মণ কাঠ ধ্বংস হচ্ছে। এলাকা জুড়ে সক্রিয় রয়েছে শত শত চুল্লি। একেকজন প্রভাবশালী মালিকের অধীনে ১০ থেকে ২৫টি পর্যন্ত চুল্লি চলছে। ফলে সরকারি ও সামাজিক বনায়ন উজাড় হয়ে হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য।

অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মালিকরা গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সমিতি। এই সমিতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা তুলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “প্রশাসনের চোখের সামনেই সব ঘটছে, কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের এই রহস্যজনক নিরবতা আমাদের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।”

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযানে ৫টি চুল্লি গুঁড়িয়ে দিলেও বাকি ৬৪টি চুল্লি বন্ধের শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়। কিন্তু চার বছর পার হলেও সেই মুচলেকা বাস্তবায়ন হয়নি। চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাদা আবু ইলিয়াসের নামে নেওয়া মুচলেকার শর্তও আজও পূরণ হয়নি; বরং দিন দিন চুল্লির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

অবিলম্বে এসব অবৈধ কয়লা চুল্লি বন্ধ করে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন চাঁদখালীর সাধারণ মানুষ। তারা এই ‘বিষাক্ত ধোঁয়া’ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চাঁদখালীতে অবৈধ কয়লা চুল্লির বিষাক্ত ধোঁয়া: পাইকগাছা পুলিশের নিরবতায় জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নজরবিডি, খুলনা

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি। রাস্তার পাশের গাছ থেকে শুরু করে বসতবাড়ির ফলজ ও বনজ গাছ—কিছুই বাদ যাচ্ছে না এসব চুল্লির গ্রাস থেকে। প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ মণ কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে চরম হুমকির মুখে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় জনমনে বাড়ছে তীব্র ক্ষোভ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাইকগাছা–কয়রা সড়কের দুই পাশে দ্রুত গতিতে বাড়ছে এসব অবৈধ চুল্লির সংখ্যা। নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকছে পুরো এলাকা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও হাঁপানিসহ দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নিকটস্থ চাঁদখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি চুল্লিতে মাসে ৩-৪ বার কাঠ পোড়ানো হয়। গড়ে এক একটি চুল্লিতে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ মণ কাঠ ধ্বংস হচ্ছে। এলাকা জুড়ে সক্রিয় রয়েছে শত শত চুল্লি। একেকজন প্রভাবশালী মালিকের অধীনে ১০ থেকে ২৫টি পর্যন্ত চুল্লি চলছে। ফলে সরকারি ও সামাজিক বনায়ন উজাড় হয়ে হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য।

অভিযোগ উঠেছে, এসব অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মালিকরা গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সমিতি। এই সমিতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা তুলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “প্রশাসনের চোখের সামনেই সব ঘটছে, কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের এই রহস্যজনক নিরবতা আমাদের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।”

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযানে ৫টি চুল্লি গুঁড়িয়ে দিলেও বাকি ৬৪টি চুল্লি বন্ধের শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়। কিন্তু চার বছর পার হলেও সেই মুচলেকা বাস্তবায়ন হয়নি। চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাদা আবু ইলিয়াসের নামে নেওয়া মুচলেকার শর্তও আজও পূরণ হয়নি; বরং দিন দিন চুল্লির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

অবিলম্বে এসব অবৈধ কয়লা চুল্লি বন্ধ করে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন চাঁদখালীর সাধারণ মানুষ। তারা এই ‘বিষাক্ত ধোঁয়া’ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত