ঢাকার সাভারে গত ৭ মাসে চাঞ্চল্যকর ৬টি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিরিয়াল কিলার সবুজ শেখ ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। তার এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পৈতৃক ভিটা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে এখন বইছে সুনসান নীরবতা।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সবুজ শুধু ঢাকাতেই নয়, নিজ গ্রামে ফিরলেও লিপ্ত হতেন চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে।
সবুজ শেখ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখের বড় ছেলে। তার বাবা দীর্ঘ সময় ঢাকার জুরাইন, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস করেছেন। প্রায় ১০ বছর আগে পান্না শেখ সস্ত্রীক গ্রামে ফিরে এলেও সবুজসহ তার ভাইরা ঢাকাতেই থেকে যান। স্থানীয়দের মতে, সবুজের বেড়ে ওঠা মূলত ঢাকার জুরাইন এলাকায়।
সরেজমিনে সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ এক টিনের ঘরে বাস করেন তার মা মমতাজ বেগম ও বাবা পান্না শেখ। সিরিয়াল কিলিংয়ের খবর শুনে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত মা মমতাজ বেগম আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সবুজ কোনোদিন বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দেয়নি। নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করলেও কোনোদিন স্ত্রী-সন্তানকে আমাদের দেখায়নি।"
গ্রামের মানুষের কাছে সবুজ ছিল এক আতঙ্কের নাম। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে আসে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
গত বছর একটি ভাড়া করা অটোরিকশা নিয়ে গ্রামে আসেন সবুজ। পরে চালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সেটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তার বাবা ও এলাকাবাসী তাকে ধরে কেরানীগঞ্জের একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠান।
রিহ্যাব থেকে ফিরে সবুজ তার বাবা ও দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানান, সবুজ মাঝে মাঝে একাকী নিজের সঙ্গে কথা বলতেন এবং অকারণে সবাইকে গালিগালাজ করতেন।
৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল খান জানান, সবুজ গ্রামে এলেই এলাকায় চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যেত।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, যতটুকু জানা গেছে সবুজ একজন 'সাইকো' বা মানসিক বিকারগ্রস্ত অপরাধী। তবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলার রেকর্ড নেই।
বর্তমানে সবুজের বাবা পান্না শেখ লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ৪ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় এই সিরিয়াল কিলারের এমন নৃশংসতায় স্তম্ভিত পুরো মুন্সীগঞ্জ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার সাভারে গত ৭ মাসে চাঞ্চল্যকর ৬টি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিরিয়াল কিলার সবুজ শেখ ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। তার এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পৈতৃক ভিটা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে এখন বইছে সুনসান নীরবতা।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সবুজ শুধু ঢাকাতেই নয়, নিজ গ্রামে ফিরলেও লিপ্ত হতেন চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে।
সবুজ শেখ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের পান্না শেখের বড় ছেলে। তার বাবা দীর্ঘ সময় ঢাকার জুরাইন, কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস করেছেন। প্রায় ১০ বছর আগে পান্না শেখ সস্ত্রীক গ্রামে ফিরে এলেও সবুজসহ তার ভাইরা ঢাকাতেই থেকে যান। স্থানীয়দের মতে, সবুজের বেড়ে ওঠা মূলত ঢাকার জুরাইন এলাকায়।
সরেজমিনে সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ এক টিনের ঘরে বাস করেন তার মা মমতাজ বেগম ও বাবা পান্না শেখ। সিরিয়াল কিলিংয়ের খবর শুনে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত মা মমতাজ বেগম আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সবুজ কোনোদিন বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দেয়নি। নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করলেও কোনোদিন স্ত্রী-সন্তানকে আমাদের দেখায়নি।"
গ্রামের মানুষের কাছে সবুজ ছিল এক আতঙ্কের নাম। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে আসে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
গত বছর একটি ভাড়া করা অটোরিকশা নিয়ে গ্রামে আসেন সবুজ। পরে চালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সেটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তার বাবা ও এলাকাবাসী তাকে ধরে কেরানীগঞ্জের একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠান।
রিহ্যাব থেকে ফিরে সবুজ তার বাবা ও দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানান, সবুজ মাঝে মাঝে একাকী নিজের সঙ্গে কথা বলতেন এবং অকারণে সবাইকে গালিগালাজ করতেন।
৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল খান জানান, সবুজ গ্রামে এলেই এলাকায় চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যেত।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, যতটুকু জানা গেছে সবুজ একজন 'সাইকো' বা মানসিক বিকারগ্রস্ত অপরাধী। তবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলার রেকর্ড নেই।
বর্তমানে সবুজের বাবা পান্না শেখ লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ৪ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় এই সিরিয়াল কিলারের এমন নৃশংসতায় স্তম্ভিত পুরো মুন্সীগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন