নজর বিডি

পাইকগাছায় ‘মিন্টু বাহিনী’ ও ‘পিচ্চি ইব্রাহিমের’ ত্রাস

পাইকগাছায় ‘মিন্টু বাহিনী’ ও ‘পিচ্চি ইব্রাহিমের’ ত্রাস

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ অরাজকতা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চিহ্নিত অপরাধী মিন্টু ও ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি ইব্রাহিমের আধিপত্যে বর্তমানে এলাকাটি অপরাধীদের ‘সেভ জোনে’ পরিণত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ ভোটার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের আগে মিন্টু ছিল একজন সাধারণ প্রতারক, যার বিরুদ্ধে কিস্তিতে পণ্য কিনে আত্মসাতের একাধিক মামলা রয়েছে। তবে পটপরিবর্তনের পর সে রাতারাতি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঢাকা ও খুলনার অস্ত্রধারী অপরাধীদের নিয়ে একটি বিশাল গুন্ডাবাহিনী গড়ে তোলে।

অভিযোগ রয়েছে যে, ৮ আগস্ট থেকে মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে বাদী করে প্রায় ৩৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু করে এই চক্র। এছাড়া চাঁদখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাদা আবু ইলিয়াসকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়, যার কল রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাণভয়ে চেয়ারম্যান দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

মিন্টু তার আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী পিচ্চি ইব্রাহিমকে এলাকায় নিয়ে আসে। এই বাহিনী বর্তমানে, ইটভাটা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে। অবৈধভাবে জায়গা দখল করে কয়লার চুল্লির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। সাবেক সেনাসদস্য রজব আলীর দোকান দখল ও পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

মিন্টু বাহিনীর অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২২ আগস্ট এলাকাবাসী মানববন্ধন ও জুতা মিছিল বের করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবাদ করায় জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি অস্ত্রের মুখে মুচলেকা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, মিন্টুর সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের খবর সে আগেভাগেই পেয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অভিযানে এলাকা থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।"একজন জুয়াখোর ও চিটার এখন এলাকায় বড় নেতা সেজে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে। তাদের সাথে সবসময় অবৈধ অস্ত্র থাকছে, অথচ পুলিশ নীরব।"

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের এই আনাগোনা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই বাহিনী দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী অবিলম্বে চাঁদখালীকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাইকগাছায় ‘মিন্টু বাহিনী’ ও ‘পিচ্চি ইব্রাহিমের’ ত্রাস

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ অরাজকতা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চিহ্নিত অপরাধী মিন্টু ও ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি ইব্রাহিমের আধিপত্যে বর্তমানে এলাকাটি অপরাধীদের ‘সেভ জোনে’ পরিণত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ ভোটার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের আগে মিন্টু ছিল একজন সাধারণ প্রতারক, যার বিরুদ্ধে কিস্তিতে পণ্য কিনে আত্মসাতের একাধিক মামলা রয়েছে। তবে পটপরিবর্তনের পর সে রাতারাতি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঢাকা ও খুলনার অস্ত্রধারী অপরাধীদের নিয়ে একটি বিশাল গুন্ডাবাহিনী গড়ে তোলে।

অভিযোগ রয়েছে যে, ৮ আগস্ট থেকে মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে বাদী করে প্রায় ৩৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু করে এই চক্র। এছাড়া চাঁদখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাদা আবু ইলিয়াসকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়, যার কল রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাণভয়ে চেয়ারম্যান দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

মিন্টু তার আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী পিচ্চি ইব্রাহিমকে এলাকায় নিয়ে আসে। এই বাহিনী বর্তমানে, ইটভাটা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে। অবৈধভাবে জায়গা দখল করে কয়লার চুল্লির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। সাবেক সেনাসদস্য রজব আলীর দোকান দখল ও পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

মিন্টু বাহিনীর অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২২ আগস্ট এলাকাবাসী মানববন্ধন ও জুতা মিছিল বের করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবাদ করায় জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি অস্ত্রের মুখে মুচলেকা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, মিন্টুর সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের খবর সে আগেভাগেই পেয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অভিযানে এলাকা থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।"একজন জুয়াখোর ও চিটার এখন এলাকায় বড় নেতা সেজে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে। তাদের সাথে সবসময় অবৈধ অস্ত্র থাকছে, অথচ পুলিশ নীরব।"

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের এই আনাগোনা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই বাহিনী দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে ভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী অবিলম্বে চাঁদখালীকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত