মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বাসায় থাকার সময় শিশু মোহনাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সামান্য ভুল বা কথা কাটাকাটির জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হতো।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রান্নাঘরের খুন্তি গরম করে নিয়মিত তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেঁক দেওয়া হয়েছে। এতে তার দুই হাত, পিঠ ও শরীরের অন্যান্য অংশে গুরুতর পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া তাকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে রাখা, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ করাতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের ফলে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ে।
পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকরা তার শরীরে একাধিক আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিহ্ন পান।
নিজেদের সন্তানের দেখাশোনার নামে ১১ বছরের এক শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে এনে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিজেদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের এক কন্যাশিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে বাসায় আনেন বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী। শিশুটির বাবার দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাকে কাজে আনা হয়। কথা ছিল, ভবিষ্যতে শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন তারা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় নেওয়ার পর শিশুটির ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে সেঁক দেওয়ার মতো নির্মম আচরণ করা হতো।
এ ঘটনায় সাহস করে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা। মামলার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ বিমান এমডি ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। অপর দুই আসামি হলেন— বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম।
শিশুটির বাবা জানান, দারিদ্র্যের কারণে একমাত্র মেয়েকে বাচ্চা দেখাশোনার কাজের কথা বলে অভিযুক্ত দম্পতির কাছে তুলে দেন। ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়েসহ সব খরচ বহনের আশ্বাসে গত বছরের জুনে তাকে কাজে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখতে যান তিনি। এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিমানের এমডির স্ত্রী বিথী ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসার সময় তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তখন শিশুটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বিথী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বাসায় থাকার সময় শিশু মোহনাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সামান্য ভুল বা কথা কাটাকাটির জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হতো।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রান্নাঘরের খুন্তি গরম করে নিয়মিত তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেঁক দেওয়া হয়েছে। এতে তার দুই হাত, পিঠ ও শরীরের অন্যান্য অংশে গুরুতর পোড়া ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া তাকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে রাখা, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ করাতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের ফলে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ে।
পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকরা তার শরীরে একাধিক আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিহ্ন পান।
নিজেদের সন্তানের দেখাশোনার নামে ১১ বছরের এক শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে এনে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিজেদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের এক কন্যাশিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে বাসায় আনেন বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী। শিশুটির বাবার দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাকে কাজে আনা হয়। কথা ছিল, ভবিষ্যতে শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন তারা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় নেওয়ার পর শিশুটির ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে সেঁক দেওয়ার মতো নির্মম আচরণ করা হতো।
এ ঘটনায় সাহস করে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা। মামলার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ বিমান এমডি ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। অপর দুই আসামি হলেন— বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম।
শিশুটির বাবা জানান, দারিদ্র্যের কারণে একমাত্র মেয়েকে বাচ্চা দেখাশোনার কাজের কথা বলে অভিযুক্ত দম্পতির কাছে তুলে দেন। ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়েসহ সব খরচ বহনের আশ্বাসে গত বছরের জুনে তাকে কাজে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখতে যান তিনি। এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিমানের এমডির স্ত্রী বিথী ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসার সময় তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তখন শিশুটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বিথী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন