নজর বিডি

টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাবের সন্ধান: কেমিস্ট গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাবের সন্ধান: কেমিস্ট গ্রেপ্তার

ক্রেতা সেজে টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ি খলিলুল্লাহ রোডের ওই বাসায় হানা দেয়। তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হলে

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর

টঙ্গীর পূর্ব থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিনব কায়দায় গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির ল্যাব বা কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা। অভিযানে সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ কারখানার মালিক এবং কথিত ‘কেমিস্ট’ তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ি খলিলুল্লাহ রোডের ওই বাসায় হানা দেয়। তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হলে হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে তার শোবার ঘর ও টেবিল থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা এবং ল্যাবের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ডিজিটাল মেশিনে প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জব্দ করা বড়িগুলো উচ্চমাত্রার অ্যামফিটামিনযুক্ত আসল ইয়াবা।

গ্রেপ্তারকৃত তোহিদুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদে জানান, আগে তিনি গাজীপুরের পুবাইলের একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে ট্যাবলেট তৈরির ডাইস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। চার মাস আগে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় ইয়াবা তৈরির ল্যাব গড়ে তোলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান: তোহিদুজ্জামান বাজার থেকে ৫০০ আসল ইয়াবা কিনে সেগুলো গুঁড়া করতেন। সেই গুঁড়ার সাথে বিশেষ রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে তিনি নতুন করে ৫০০০ ইয়াবা তৈরি করতেন।জব্দকৃত কাঁচামাল দিয়ে আরও অন্তত ১৫-২০ হাজার ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব ছিল।

এই উৎপাদিত ইয়াবাগুলো গাজীপুর, ঢাকা ও সাভার এলাকার মাদক কারবারিদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে পুরো চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত তোহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাবের সন্ধান: কেমিস্ট গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ক্রেতা সেজে টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ি খলিলুল্লাহ রোডের ওই বাসায় হানা দেয়। তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হলে

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর

টঙ্গীর পূর্ব থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিনব কায়দায় গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির ল্যাব বা কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা। অভিযানে সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ কারখানার মালিক এবং কথিত ‘কেমিস্ট’ তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ি খলিলুল্লাহ রোডের ওই বাসায় হানা দেয়। তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হলে হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে তার শোবার ঘর ও টেবিল থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা এবং ল্যাবের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ডিজিটাল মেশিনে প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জব্দ করা বড়িগুলো উচ্চমাত্রার অ্যামফিটামিনযুক্ত আসল ইয়াবা।

গ্রেপ্তারকৃত তোহিদুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদে জানান, আগে তিনি গাজীপুরের পুবাইলের একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে ট্যাবলেট তৈরির ডাইস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। চার মাস আগে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় ইয়াবা তৈরির ল্যাব গড়ে তোলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান: তোহিদুজ্জামান বাজার থেকে ৫০০ আসল ইয়াবা কিনে সেগুলো গুঁড়া করতেন। সেই গুঁড়ার সাথে বিশেষ রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে তিনি নতুন করে ৫০০০ ইয়াবা তৈরি করতেন।জব্দকৃত কাঁচামাল দিয়ে আরও অন্তত ১৫-২০ হাজার ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব ছিল।

এই উৎপাদিত ইয়াবাগুলো গাজীপুর, ঢাকা ও সাভার এলাকার মাদক কারবারিদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে পুরো চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত তোহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত