নজর বিডি

গাইড বই বিতর্কে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

গাইড বই বিতর্কে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও অভিভাবক নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের একাংশ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শিল্পকলা প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়ার ৬৮ নম্বর তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে একটি গাইড বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

পরদিন সোমবার সকালে একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাংবাদিক জুয়েল। অভিযোগে বলা হয়, লেকচার প্রকাশনীর এক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার জন্য প্ররোচিত করেন এবং পরে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক রসময় রত্নের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের হয়রানি ও আতঙ্কিত করছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক জুয়েল বলেন,
“আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির (পিটিএ) সভাপতি হিসেবে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছি। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান,
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের প্ররোচনার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো তার দপ্তরে জমা পড়েনি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে গাইডনির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


গাইড বই বিতর্কে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও অভিভাবক নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের একাংশ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শিল্পকলা প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়ার ৬৮ নম্বর তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে একটি গাইড বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

পরদিন সোমবার সকালে একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাংবাদিক জুয়েল। অভিযোগে বলা হয়, লেকচার প্রকাশনীর এক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার জন্য প্ররোচিত করেন এবং পরে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক রসময় রত্নের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের হয়রানি ও আতঙ্কিত করছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক জুয়েল বলেন,
“আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির (পিটিএ) সভাপতি হিসেবে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছি। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান,
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের প্ররোচনার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো তার দপ্তরে জমা পড়েনি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে গাইডনির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত