৬ মার্চ ২০২৬। গাজীপুর:
গাজীপুরের জয়দেবপুরে তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ হওয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার নৃশংস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ছাব্বির আহম্মেদের পিতার নাম মো. আব্দুল বারেক এবং মাতার নাম মাফিয়া বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজ তুলন্দর, দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায়। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজী ইকবাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)–এর দাদা মো. তারা মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর–০১, তারিখ ১ মার্চ ২০২৬ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রনি ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু এরপর সে আর বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে রনির পরিবারের সদস্যরা খবর পান যে, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় মো. মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন একটি ফলজ ও বনজ গাছপালার জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া মরদেহটি দেখে সেটি মাহাবুব ইসলাম রনির বলে শনাক্ত করেন।
পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মামলা দায়েরের পর জয়দেবপুর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মার্চ ভবানীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ৬ মার্চ বিকেলে আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স এবং পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি নিরপরাধ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পিবিআই গাজীপুর জেলা অপরাধ দমনে সর্বদা সক্রিয় রয়েছে।”
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের উদ্দেশ্যে জঙ্গলের ভেতরে যায়। সে পূর্বেও সেখানে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি তাকে গাঁজা সেবন করতে দেখে বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলতে অনুরোধ করে। কিন্তু রনি তা মানতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন থেকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
৬ মার্চ ২০২৬। গাজীপুর:
গাজীপুরের জয়দেবপুরে তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ হওয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার নৃশংস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ছাব্বির আহম্মেদের পিতার নাম মো. আব্দুল বারেক এবং মাতার নাম মাফিয়া বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজ তুলন্দর, দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায়। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে হাজী ইকবাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)–এর দাদা মো. তারা মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর–০১, তারিখ ১ মার্চ ২০২৬ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রনি ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু এরপর সে আর বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে রনির পরিবারের সদস্যরা খবর পান যে, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় মো. মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন একটি ফলজ ও বনজ গাছপালার জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া মরদেহটি দেখে সেটি মাহাবুব ইসলাম রনির বলে শনাক্ত করেন।
পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মামলা দায়েরের পর জয়দেবপুর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মার্চ ভবানীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ৬ মার্চ বিকেলে আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স এবং পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি নিরপরাধ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পিবিআই গাজীপুর জেলা অপরাধ দমনে সর্বদা সক্রিয় রয়েছে।”
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের উদ্দেশ্যে জঙ্গলের ভেতরে যায়। সে পূর্বেও সেখানে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি তাকে গাঁজা সেবন করতে দেখে বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলতে অনুরোধ করে। কিন্তু রনি তা মানতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন থেকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন