সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে নেই রোগ নির্ণয়ের মানসম্মত যন্ত্রপাতি, ল্যাব টেকনোলজিস্ট কিংবা প্রশিক্ষিত নার্স। এমনকি ধার করা বা ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে জটিল অপারেশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সাধারণত কোনো বৈধ চক্ষু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (DGHS)-এর লাইসেন্স ফ্রেম করে রিসেপশন বা দেয়ালে টাঙানো থাকে। কিন্তু ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এমন কোনো লাইসেন্স দেখা যায়নি।
এছাড়া চোখের অপারেশন করা চিকিৎসকদের বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর নিবন্ধন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও সেখানেও তা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষিত নার্স নেই, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সও প্রদর্শন করা হয়নি। ফায়ার সেফটির সনদ বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও দেখা যায়নি। রোগীদের রেজিস্টার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেই বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বনামধন্য চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের জামালপুর মহাসড়কের পাশে ফেন্সি মার্কেটে বড় ব্যানার ও ডিজিটাল সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— “চক্ষু ও মাথা ব্যথা রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান দিগপাইত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল। এখানে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশন করা হয়।” এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চিকিৎসার নামে সেখানে গলাকাটা ব্যবসা চলছে। সাইনবোর্ডসর্বস্ব এসব হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে দেখা যায়, ডা. পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডিপ্লোমা মেডিকেলের শিক্ষার্থী মো. খাইরুল ইসলাম। তিনি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিএমডিসি লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে হাসপাতালের মালিকপক্ষ সেখান থেকে সরে যান, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা তথ্য পেয়েছি এবং খোঁজখবর নিচ্ছি। সেখানে যদি অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তাহলে আগামীকালই টিম পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে নেই রোগ নির্ণয়ের মানসম্মত যন্ত্রপাতি, ল্যাব টেকনোলজিস্ট কিংবা প্রশিক্ষিত নার্স। এমনকি ধার করা বা ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে জটিল অপারেশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সাধারণত কোনো বৈধ চক্ষু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (DGHS)-এর লাইসেন্স ফ্রেম করে রিসেপশন বা দেয়ালে টাঙানো থাকে। কিন্তু ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এমন কোনো লাইসেন্স দেখা যায়নি।
এছাড়া চোখের অপারেশন করা চিকিৎসকদের বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর নিবন্ধন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও সেখানেও তা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষিত নার্স নেই, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সও প্রদর্শন করা হয়নি। ফায়ার সেফটির সনদ বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও দেখা যায়নি। রোগীদের রেজিস্টার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেই বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বনামধন্য চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের জামালপুর মহাসড়কের পাশে ফেন্সি মার্কেটে বড় ব্যানার ও ডিজিটাল সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— “চক্ষু ও মাথা ব্যথা রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান দিগপাইত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল। এখানে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশন করা হয়।” এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চিকিৎসার নামে সেখানে গলাকাটা ব্যবসা চলছে। সাইনবোর্ডসর্বস্ব এসব হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে দেখা যায়, ডা. পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডিপ্লোমা মেডিকেলের শিক্ষার্থী মো. খাইরুল ইসলাম। তিনি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিএমডিসি লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে হাসপাতালের মালিকপক্ষ সেখান থেকে সরে যান, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা তথ্য পেয়েছি এবং খোঁজখবর নিচ্ছি। সেখানে যদি অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তাহলে আগামীকালই টিম পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন