নজর বিডি

গাজীপুরে রহম আলীর অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে গজারী বন

গাজীপুরে রহম আলীর অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে গজারী বন

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীপুর (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ করাতকল চালিয়ে গজারী বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী রহম আলীর বিরুদ্ধে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা যায়, শ্রীপুর থানাধীন রাজাবাড়ী এলাকায় ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন সূর্যনারায়ণপুর বিট অফিস ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের অধীনস্থ বনাঞ্চলে প্রকাশ্যে গজারী গাছ কেটে করাতকলে চিরাই করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই রহম আলী তার এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্য অনুসারে, রহম আলীর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৫ মে বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ আইনে মামলা (নং ১৪৭/২০০৮) দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন ফরেস্টার মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে গজারী গাছ চিরাইয়ের অপরাধে এ মামলা হয়। তবে দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও রহম আলীর কার্যক্রম থেমে নেই, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বনের ভেতর থেকে ২-৩ গাড়ি গজারী গাছ কেটে এনে ওই করাতকলে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। বন বিভাগের টহল দল এলাকায় থাকলেও করাতকলের দিকে তারা কার্যত নজর দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “বন বিভাগের লোকজন সবই জানেন, কিন্তু রহম আলীর করাতকলের দিকে তাকান না। তাদের সহযোগিতাতেই এই অবৈধ ব্যবসা চলছে।”

এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, গাজীপুরের গজারী বন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে।

এ ঘটনায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন চিহ্নিত বন অপরাধী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবৈধ করাতকল পরিচালনা করছেন—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান অথবা তদন্তের আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসী অবিলম্বে রহম আলীর অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


গাজীপুরে রহম আলীর অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে গজারী বন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীপুর (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ করাতকল চালিয়ে গজারী বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী রহম আলীর বিরুদ্ধে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা যায়, শ্রীপুর থানাধীন রাজাবাড়ী এলাকায় ঢাকা বন বিভাগের আওতাধীন সূর্যনারায়ণপুর বিট অফিস ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের অধীনস্থ বনাঞ্চলে প্রকাশ্যে গজারী গাছ কেটে করাতকলে চিরাই করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই রহম আলী তার এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্য অনুসারে, রহম আলীর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৫ মে বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ আইনে মামলা (নং ১৪৭/২০০৮) দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন ফরেস্টার মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে গজারী গাছ চিরাইয়ের অপরাধে এ মামলা হয়। তবে দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও রহম আলীর কার্যক্রম থেমে নেই, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বনের ভেতর থেকে ২-৩ গাড়ি গজারী গাছ কেটে এনে ওই করাতকলে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। বন বিভাগের টহল দল এলাকায় থাকলেও করাতকলের দিকে তারা কার্যত নজর দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “বন বিভাগের লোকজন সবই জানেন, কিন্তু রহম আলীর করাতকলের দিকে তাকান না। তাদের সহযোগিতাতেই এই অবৈধ ব্যবসা চলছে।”

এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, গাজীপুরের গজারী বন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে।

এ ঘটনায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন চিহ্নিত বন অপরাধী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবৈধ করাতকল পরিচালনা করছেন—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান অথবা তদন্তের আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসী অবিলম্বে রহম আলীর অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত