আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পুরোপুরি জমে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পশুর বাজার। বছরের অন্য সময়ে এটি আর দশটা সাধারণ গ্রামের মতোই শান্ত থাকলেও, কোরবানি ঈদ এলেই এর পরিচিতি বদলে হয়ে যায় ‘গরুগ্রাম’।
বর্তমানে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলছে কোরবানির পশু লালন-পালন ও কেনাবেচার তুমুল ব্যস্ততা।
প্রতিদিনই সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন এই গ্রামে। পছন্দের গরু কিনে অনেকেই সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এবারের বড় আকর্ষণ হলো খামারিদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা— কেউ চাইলে গরু কিনে ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের সকাল পর্যন্ত খামারেই রেখে যেতে পারছেন।
ক্রেতাদের জন্য এই সময়ে গরুর খাবার ও দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন খামারিরা নিজেই। এমন ব্যতিক্রমী ও নিরাপদ সুবিধার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কয়েক বছর আগে গরু পালন শুরু করেছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে এটি লাভজনক হওয়ায় এখন প্রতিটি বাড়িতেই ছোট-বড় খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে গ্রামের কোনো কোনো খামারে ১৫-২০টি থেকে শুরু করে ৪০টিরও বেশি গরু রয়েছে।
খামারি আলমগীর হোসেন জানান, "আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এখন গরু পালন করেন। সারা বছর যত্ন করে ঈদের সময় তা বিক্রি করি। এবার গরুর চাহিদাও বেশ ভালো। অনেক ক্রেতা আগেভাগেই এসে গরু পছন্দ করে বায়না দিয়ে রেখে যাচ্ছেন।
ঈদের আগ পর্যন্ত আমরাই গরুর খাবার ও যত্নের দায়িত্ব নিচ্ছি।" স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় ব্যাপক ধান চাষ হওয়ায় গরুর খাবারের (বিচালি) কোনো সংকট হয় না। এছাড়া খামারিরা মাঠের ঘাস ও ঘেরের ভেড়িতে আলাদাভাবে ঘাস চাষ করে প্রাকৃতিক উপায়েই গরু মোটাতাজা করেন।
সাতক্ষীরা শহর থেকে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, "গত বছরও এখান থেকে গরু কিনেছিলাম। হাটের তুলনায় এখানে অনেক কম দামে ও শান্ত পরিবেশে ভালো গরু পাওয়া যায়। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঈদের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রেখে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা খাবারের ব্যবস্থাও করে দেয়। ফলে বাড়িতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।"
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এবার সাতক্ষীরায় পশুর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। দপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে এবার ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার বেশি থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, "জেলায় উদ্বৃত্ত পশু থাকলেও খামারিদের লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে যাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি কঠোর করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে এবং দেশি গরুর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।"

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পুরোপুরি জমে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পশুর বাজার। বছরের অন্য সময়ে এটি আর দশটা সাধারণ গ্রামের মতোই শান্ত থাকলেও, কোরবানি ঈদ এলেই এর পরিচিতি বদলে হয়ে যায় ‘গরুগ্রাম’।
বর্তমানে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলছে কোরবানির পশু লালন-পালন ও কেনাবেচার তুমুল ব্যস্ততা।
প্রতিদিনই সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন এই গ্রামে। পছন্দের গরু কিনে অনেকেই সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এবারের বড় আকর্ষণ হলো খামারিদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা— কেউ চাইলে গরু কিনে ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের সকাল পর্যন্ত খামারেই রেখে যেতে পারছেন।
ক্রেতাদের জন্য এই সময়ে গরুর খাবার ও দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন খামারিরা নিজেই। এমন ব্যতিক্রমী ও নিরাপদ সুবিধার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কয়েক বছর আগে গরু পালন শুরু করেছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে এটি লাভজনক হওয়ায় এখন প্রতিটি বাড়িতেই ছোট-বড় খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে গ্রামের কোনো কোনো খামারে ১৫-২০টি থেকে শুরু করে ৪০টিরও বেশি গরু রয়েছে।
খামারি আলমগীর হোসেন জানান, "আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এখন গরু পালন করেন। সারা বছর যত্ন করে ঈদের সময় তা বিক্রি করি। এবার গরুর চাহিদাও বেশ ভালো। অনেক ক্রেতা আগেভাগেই এসে গরু পছন্দ করে বায়না দিয়ে রেখে যাচ্ছেন।
ঈদের আগ পর্যন্ত আমরাই গরুর খাবার ও যত্নের দায়িত্ব নিচ্ছি।" স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় ব্যাপক ধান চাষ হওয়ায় গরুর খাবারের (বিচালি) কোনো সংকট হয় না। এছাড়া খামারিরা মাঠের ঘাস ও ঘেরের ভেড়িতে আলাদাভাবে ঘাস চাষ করে প্রাকৃতিক উপায়েই গরু মোটাতাজা করেন।
সাতক্ষীরা শহর থেকে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, "গত বছরও এখান থেকে গরু কিনেছিলাম। হাটের তুলনায় এখানে অনেক কম দামে ও শান্ত পরিবেশে ভালো গরু পাওয়া যায়। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঈদের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রেখে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা খাবারের ব্যবস্থাও করে দেয়। ফলে বাড়িতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।"
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এবার সাতক্ষীরায় পশুর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। দপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে এবার ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার বেশি থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, "জেলায় উদ্বৃত্ত পশু থাকলেও খামারিদের লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে যাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি কঠোর করা হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে এবং দেশি গরুর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।"

আপনার মতামত লিখুন