নজর বিডি

জাতীয় স্বীকৃতির দাবি

একক বৃহত্তম চুকনগর গণহত্যা দিবস পালিত

একক বৃহত্তম চুকনগর গণহত্যা দিবস পালিত
নজরবিডি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চুকনগর গণহত্যা একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও শোকার্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২০ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক বৃহত্তম ও ভয়াবহতম গণহত্যা।

আজ বুধবার (২০ মে, ২০২৬) ঐতিহাসিক চুকনগর গণহত্যা দিবসের ৫৫তম বার্ষিকীতে শহীদদের স্মরণে ডুমুরিয়ায় আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার সংযোগস্থল চুকনগরকে তারা ট্রানজিট বা নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন। ১৮ ও ১৯ মে চুকনগরের পাতখোলা বিল, বাজার, ফুটবল মাঠ এবং কালী মন্দির প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হন।

১৯৭১ সালের ২০ মে (দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল আকস্মিকভাবে চুকনগর বাজারের পশ্চিম পাশে ঝাউতলায় এসে অবস্থান নেয়। তারা লাইট মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সেখানে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয় চুকনগর।

দিবসটি উপলক্ষে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকাল ৯টায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল ইসলাম মানিক, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজ মাহমুদ, স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা ও আবুল কালাম মহিউদ্দিন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ রুহুল আমিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন, কবি ইব্রাহিম রেজা, শেখ সেলিম আক্তার স্বপন এবং চুকনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন।

চুকনগর বাজারে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র‍্যালি এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী নিহতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। 

আলোচনা সভায় বক্তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একক বৃহত্তম গণহত্যা হওয়া সত্ত্বেও চুকনগর এখনো যথাযথ মূল্যায়িত হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে চুকনগর গণহত্যা দিবসটিকে 'জাতীয় শোক দিবস' বা 'জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ চুকনগর গণহত্যা দিবস, ডুমুরিয়া খুলনা, ১৯৭১ সালের ২০ মে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, চুকনগর স্মৃতিস্তম্ভ, সবিতা সরকার, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ২০২৬ Chuknagar Genocide Day, Dumuria Khulna, 20 May 1971, Pakistan Army Atrocities, Chuknagar Monument, Sabita Sarkar, Bangladesh Liberation War, Genocide Recognition

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


একক বৃহত্তম চুকনগর গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চুকনগর গণহত্যা একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও শোকার্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২০ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক বৃহত্তম ও ভয়াবহতম গণহত্যা।

আজ বুধবার (২০ মে, ২০২৬) ঐতিহাসিক চুকনগর গণহত্যা দিবসের ৫৫তম বার্ষিকীতে শহীদদের স্মরণে ডুমুরিয়ায় আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার সংযোগস্থল চুকনগরকে তারা ট্রানজিট বা নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন। ১৮ ও ১৯ মে চুকনগরের পাতখোলা বিল, বাজার, ফুটবল মাঠ এবং কালী মন্দির প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হন।

১৯৭১ সালের ২০ মে (দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল আকস্মিকভাবে চুকনগর বাজারের পশ্চিম পাশে ঝাউতলায় এসে অবস্থান নেয়। তারা লাইট মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সেখানে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয় চুকনগর।

দিবসটি উপলক্ষে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকাল ৯টায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল ইসলাম মানিক, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজ মাহমুদ, স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা ও আবুল কালাম মহিউদ্দিন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ রুহুল আমিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন, কবি ইব্রাহিম রেজা, শেখ সেলিম আক্তার স্বপন এবং চুকনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন।

চুকনগর বাজারে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র‍্যালি এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী নিহতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। 

আলোচনা সভায় বক্তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একক বৃহত্তম গণহত্যা হওয়া সত্ত্বেও চুকনগর এখনো যথাযথ মূল্যায়িত হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে চুকনগর গণহত্যা দিবসটিকে 'জাতীয় শোক দিবস' বা 'জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত