নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর মরণোত্তর শোক ও চোখের জল বুকে চেপে রেখে সকালেই পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হয় সে। পরীক্ষা শেষে দ্রুত বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নেয় লাবিব। এই কঠিন সময়ে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা তার পাশে থেকে সান্ত্বনা দেন।
বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মরহুম মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মফিদুল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চাটখিলে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতেন এবং সহজ-সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
"একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব এই চরম শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দিন।" — ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ, উপাধ্যক্ষ, চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নোয়াখালী, এসএসসি পরীক্ষার্থী, বাবার মরদেহ, চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মফিদুল আলম আরজু, আবতাহি উদ্দিন লাবিব, হৃদরোগে মৃত্যু, নোয়াখালী জিলা স্কুল Noakhali, SSC Examinee, Father's Demise, Chatkhil Mohila Degree College, Mofidul Alam Arju, Abtahi Uddin Labib, Heart Attack, Noakhali Zilla School

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর মরণোত্তর শোক ও চোখের জল বুকে চেপে রেখে সকালেই পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হয় সে। পরীক্ষা শেষে দ্রুত বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নেয় লাবিব। এই কঠিন সময়ে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা তার পাশে থেকে সান্ত্বনা দেন।
বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মরহুম মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মফিদুল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চাটখিলে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নিতেন এবং সহজ-সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
"একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব এই চরম শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দিন।" — ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ, উপাধ্যক্ষ, চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ

আপনার মতামত লিখুন