নজর বিডি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হত্যা মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হত্যা মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৪
নজরবিডি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকার গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম (২৮) হত্যা মামলায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, নিহত মরিয়মের এক জোড়া কানের দুল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর নিহতের স্বজনরা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৪৪, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।

সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮) (প্রধান অভিযুক্ত), রুবেল হোসেন (৩৫) (সুমির স্বামী), আনোয়ার হোসেন (৫৫) (সুমির শ্বশুর), দীপক সাহা (৩৫) (স্বর্ণ ব্যবসায়ী)

পুলিশ জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রধান অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে পড়াতেন। গত ১৮ মে সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম নিজের অর্থ সংকটের কথা জানিয়ে টাকা ধার চান এবং নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের প্রস্তাব দেন। সুমি ওই দুল স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা মরিয়মকে না জানিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে খরচ করে ফেলেন।

একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম সম্পূর্ণ টাকা ফেরত চাইতে গেলে সুমির সাথে তাঁর প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়মের মাথায় ও শরীরে আঘাত করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে খাটের নিচে এবং পরে চটের বস্তায় ভরে রাখা হয়। রাতে সুমি বিষয়টি তাঁর স্বামী ও শ্বশুরকে জানান এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দীপক সাহা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে সুমি নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন এবং বর্তমানে এটি তদন্তাধীন রয়েছে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গৃহশিক্ষিকা হত্যা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা, পুলিশ অভিযান, গ্রেপ্তার ৪, ১৬৪ ধারা, মরিয়ম বেগম, অপরাধ সংবাদ, ৯৯৯ জরুরি সেবা Chapainawabganj, Tutor Murder Case, Chapainawabganj Sadar Thana, Police Arrest, Sumaiya Akhtar Sumi, Crime News Bangladesh, 999 Emergency Service

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হত্যা মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকার গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম (২৮) হত্যা মামলায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, নিহত মরিয়মের এক জোড়া কানের দুল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর নিহতের স্বজনরা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৪৪, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।

সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮) (প্রধান অভিযুক্ত), রুবেল হোসেন (৩৫) (সুমির স্বামী), আনোয়ার হোসেন (৫৫) (সুমির শ্বশুর), দীপক সাহা (৩৫) (স্বর্ণ ব্যবসায়ী)

পুলিশ জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রধান অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে পড়াতেন। গত ১৮ মে সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম নিজের অর্থ সংকটের কথা জানিয়ে টাকা ধার চান এবং নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের প্রস্তাব দেন। সুমি ওই দুল স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা মরিয়মকে না জানিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে খরচ করে ফেলেন।

একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম সম্পূর্ণ টাকা ফেরত চাইতে গেলে সুমির সাথে তাঁর প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়মের মাথায় ও শরীরে আঘাত করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে খাটের নিচে এবং পরে চটের বস্তায় ভরে রাখা হয়। রাতে সুমি বিষয়টি তাঁর স্বামী ও শ্বশুরকে জানান এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দীপক সাহা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে সুমি নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন এবং বর্তমানে এটি তদন্তাধীন রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত