পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার 'খর্নিয়া পশুহাট'।
এবারের হাটে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন খামারি ও চাষিরা। ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাপ্তাহিক এই পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে হাজারেরও বেশি গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের আমদানি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেপারিরা এসেছেন কোরবানির পশু কিনতে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষি আর উপচে পড়া ভিড়ে হাটটি এখন বেশ জমজমাট।
হাটে বিশাল আকৃতির কিছু গরু সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজেটের মাঝারি গরুর দিকে।
খুলনা থেকে আসা ক্রেতা মোনতাজ আলি জানান, বাজারে গরুর দাম চড়া। মাঝারি সাইজের গরু পছন্দ হলেও বিক্রেতারা দেড় লাখ টাকার নিচে দাম ছাড়ছেন না।
রুহুল শেখ নামের এক খামারি জানান, গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লালন-পালন খরচ বেড়েছে। তাই হিসাব করেই দাম চাওয়া হচ্ছে।
ছাগলের দাম এবার বেশ স্থিতিশীল। সুমন আহমেদ নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ২০ হাজার টাকায় তার পছন্দমতো একটি কোরবানির ছাগল কিনতে পেরেছেন।
ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোনমুক্ত সুস্থ পশু নিশ্চিত করতে হাটে কঠোর নজরদারি রাখছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির বলেন:
"ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হাটে কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করেছেন।"
খর্ণিয়া হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো, সরকার নির্ধারিত চার্টের বাইরে অতিরিক্ত হাসিল বা খাজনা আদায় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
বড় অঙ্কের লেনদেনের নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রুখতে হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
হাটকে কেন্দ্র করে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যাতে যানজট না হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রাফিক ও পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাটে যেকোনো অনিয়ম বা আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং হাট কমিটির যৌথ সমন্বয়ে এবার অত্যন্ত সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে খর্ণিয়া হাটে পশু কেনাবেচা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউএনও।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার 'খর্নিয়া পশুহাট'।
এবারের হাটে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন খামারি ও চাষিরা। ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাপ্তাহিক এই পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে হাজারেরও বেশি গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের আমদানি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেপারিরা এসেছেন কোরবানির পশু কিনতে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষি আর উপচে পড়া ভিড়ে হাটটি এখন বেশ জমজমাট।
হাটে বিশাল আকৃতির কিছু গরু সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজেটের মাঝারি গরুর দিকে।
খুলনা থেকে আসা ক্রেতা মোনতাজ আলি জানান, বাজারে গরুর দাম চড়া। মাঝারি সাইজের গরু পছন্দ হলেও বিক্রেতারা দেড় লাখ টাকার নিচে দাম ছাড়ছেন না।
রুহুল শেখ নামের এক খামারি জানান, গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় লালন-পালন খরচ বেড়েছে। তাই হিসাব করেই দাম চাওয়া হচ্ছে।
ছাগলের দাম এবার বেশ স্থিতিশীল। সুমন আহমেদ নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ২০ হাজার টাকায় তার পছন্দমতো একটি কোরবানির ছাগল কিনতে পেরেছেন।
ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোনমুক্ত সুস্থ পশু নিশ্চিত করতে হাটে কঠোর নজরদারি রাখছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির বলেন:
"ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হাটে কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করেছেন।"
খর্ণিয়া হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো, সরকার নির্ধারিত চার্টের বাইরে অতিরিক্ত হাসিল বা খাজনা আদায় ঠেকাতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
বড় অঙ্কের লেনদেনের নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রুখতে হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
হাটকে কেন্দ্র করে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যাতে যানজট না হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রাফিক ও পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাটে যেকোনো অনিয়ম বা আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং হাট কমিটির যৌথ সমন্বয়ে এবার অত্যন্ত সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে খর্ণিয়া হাটে পশু কেনাবেচা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউএনও।

আপনার মতামত লিখুন