নজর বিডি

জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্ত তুলে ধরলেন ড. আসিফ মিজান

জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্ত তুলে ধরলেন ড. আসিফ মিজান

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। 


তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশ এখন রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।


সম্প্রতি বাংলাদেশি কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী বেগম সেলিনা রহমান এবং প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


বর্তমানে দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকারী ড. আসিফ মিজান বলেন, বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করলেও দেশের মাটি, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তিই তাঁর মূল চিন্তার জায়গা।


“সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছিল” বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জাতিসত্তা ও স্বকীয় সংস্কৃতিকেও দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।


ড. মিজান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের হাজার বছরের জাতিসত্তা ও সংস্কৃতিকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পরনির্ভরশীল সমাজে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।”


তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিও সেই সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. আসিফ মিজান বলেন, একটি সাম্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য।


তিনি বলেন,

“রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের জন্য নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।”


এসময় তিনি তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।


“আমরা সবাই বাংলাদেশি” ড. আসিফ মিজানের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল জাতীয় পরিচয় ও জাতিসত্তার প্রশ্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়েই জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠতে হবে।


তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয়ের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


ড. মিজান বলেন,  “ধর্ম, বর্ণ ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যেও আমাদের সবার অভিন্ন পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। এই চেতনাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।”


সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বান অনুষ্ঠানের শেষাংশে তিনি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে মানবিক, জ্ঞানভিত্তিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি বলেন, “দেশপ্রেমিক ও মানবিক সব উদ্যোগের সঙ্গে আমি সবসময় আছি। কারণ, দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তার নতুন দিগন্ত তুলে ধরলেন ড. আসিফ মিজান

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। 


তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশ এখন রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।


সম্প্রতি বাংলাদেশি কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী বেগম সেলিনা রহমান এবং প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


বর্তমানে দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকারী ড. আসিফ মিজান বলেন, বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করলেও দেশের মাটি, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তিই তাঁর মূল চিন্তার জায়গা।


“সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছিল” বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জাতিসত্তা ও স্বকীয় সংস্কৃতিকেও দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।


ড. মিজান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের হাজার বছরের জাতিসত্তা ও সংস্কৃতিকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পরনির্ভরশীল সমাজে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।”


তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিও সেই সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. আসিফ মিজান বলেন, একটি সাম্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য।


তিনি বলেন,

“রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের জন্য নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।”


এসময় তিনি তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।


“আমরা সবাই বাংলাদেশি” ড. আসিফ মিজানের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল জাতীয় পরিচয় ও জাতিসত্তার প্রশ্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়েই জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠতে হবে।


তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিচয়ের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


ড. মিজান বলেন,  “ধর্ম, বর্ণ ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের মধ্যেও আমাদের সবার অভিন্ন পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। এই চেতনাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।”


সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বান অনুষ্ঠানের শেষাংশে তিনি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে মানবিক, জ্ঞানভিত্তিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি বলেন, “দেশপ্রেমিক ও মানবিক সব উদ্যোগের সঙ্গে আমি সবসময় আছি। কারণ, দিনশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত