সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তৈরির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই নথিপত্রগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাইয়ে পাঠানো হবে।
আজ ১৫ জুন (সোমবার) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি ও জালিয়াতি মামলার আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে আবুধাবিস্থ এনসিবি। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএই-এর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, এই প্রত্যর্পণ আবেদনের সাথে আরবি ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— আসামির নাম, পরিচয়, ছবি ও জাতীয়তা; সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইন ও দণ্ডবিধির অনুলিপি; আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং মামলার বিস্তারিত বিবরণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাগজপত্র পাঠাতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে এনসিবি আবুধাবি।
উল্লেখ্য, গতকাল ১৪ জুন (রোববার) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন, পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং মানিলন্ডারিং মিলিয়ে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং আদালতের পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে।
তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া, ডিআইজি ও র্যাব মহাপরিচালক থাকাকালীন সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ 'প্রাইভেট সার্ভিস' উল্লেখ করে পাসপোর্ট নবায়ন করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
দেশের ঢাকা, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় বেনজীরের প্রায় ৩৪াস বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতে থাকা তাঁর দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবও ইতোমধ্যে জব্দ করেছে সংস্থাটি। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ বেনজীর আহমেদ, দুদক, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, সাবেক আইজিপি, দুর্নীতি দমন কমিশন, ইন্টারপোল রেড নোটিশ, অবৈধ সম্পদ, পাসপোর্ট জালিয়াতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রত্যর্পণ আবেদন, সালাহউদ্দিন আহমদ Benazir Ahmed, ACC, Arrested in Dubai, Former IGP, Anti Corruption Commission, Interpol Red Notice, Illegal Wealth, Passport Forgery, Ministry of Home Affairs, Extradition Request, Salahuddin Ahmed

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তৈরির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই নথিপত্রগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাইয়ে পাঠানো হবে।
আজ ১৫ জুন (সোমবার) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি ও জালিয়াতি মামলার আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে আবুধাবিস্থ এনসিবি। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএই-এর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।
আইন অনুযায়ী, এই প্রত্যর্পণ আবেদনের সাথে আরবি ভাষায় অনূদিত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— আসামির নাম, পরিচয়, ছবি ও জাতীয়তা; সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইন ও দণ্ডবিধির অনুলিপি; আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং মামলার বিস্তারিত বিবরণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাগজপত্র পাঠাতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে এনসিবি আবুধাবি।
উল্লেখ্য, গতকাল ১৪ জুন (রোববার) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন, পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং মানিলন্ডারিং মিলিয়ে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং আদালতের পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে।
তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া, ডিআইজি ও র্যাব মহাপরিচালক থাকাকালীন সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাধারণ 'প্রাইভেট সার্ভিস' উল্লেখ করে পাসপোর্ট নবায়ন করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
দেশের ঢাকা, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় বেনজীরের প্রায় ৩৪াস বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতে থাকা তাঁর দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবও ইতোমধ্যে জব্দ করেছে সংস্থাটি। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন