সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে, অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে অফিশিয়াল ঈদ উদযাপনের একদিন আগেই ঈদুল আজহা পালন করেছেন পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘বদরপুর দরবার শরীফে’ এই রীতির অনুসারীদের ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি। নামাজ শেষে দরবার শরীফ প্রাঙ্গণেই পশু কোরবানি করেন মুসল্লিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বদরপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০০টি পরিবারসহ জেলার ৩৫টি গ্রামের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই নিয়ম মেনে আসছেন। শুধু ঈদুল আজহা নয়, ঈদুল ফিতর উদযাপন এবং রোজা রাখার ক্ষেত্রেও তারা এই আগাম নিয়ম অনুসরণ করেন।
ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া আমানুল ইসলাম লিটন বলেন, "আমরা আগে দেশের প্রচলিত নিয়মে ঈদ করলেও এখন বদরপুর দরবার শরীফের সাথে মিল রেখে ঈদ পালন করি। প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে এই নিয়মে সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ছেন, খুব ভালো লাগছে।"
জামাতে অংশ নেওয়া ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দা সাঈয়্যেদ ইজ্জুদ্দীন বদরপুরী এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের আবেদন, যাতে সমন্বয় করে দেশের সবাইকে একই নিয়মে ঈদ উদযাপনের আওতায় আনা হয়। কারণ, সঠিক সময়ে চাঁদ দেখার পর বাংলাদেশে একদিন পরে ঈদ উদযাপন করলে মানুষের পাঁচটি কবিরা গুনাহ হয়।"
আজ বুধবার পটুয়াখালীর যেসব গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সদর উপজেলা: বদরপুর ও ছোটবিঘাই। গলাচিপা উপজেলা: পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি ও নিজ হাওলা। বাউফল উপজেলা: রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ ও কনকদিয়া। কলাপাড়া উপজেলা: ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম।
এই রীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি বলেন, "বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ ও রোজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালনের এই নিয়ম ১৯২৮ সালে বদরপুর দরবার শরীফে চালু করেন কুতুবে বাঙ্গাল হযরত শাহ সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহ.)। তিনি ছিলেন ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে জামান শাহ আবু বকর সিদ্দীকী আল কুরাইশী ফুরফুরাঙ্গী (রহ.)-এর খলিফা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ৩৫তম আওলাদ। এরপর থেকে গত প্রায় ১০০ বছর ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি এবং হাদিসেও এর পক্ষে জোরালো যুক্তি রয়েছে।"

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে, অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে অফিশিয়াল ঈদ উদযাপনের একদিন আগেই ঈদুল আজহা পালন করেছেন পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘বদরপুর দরবার শরীফে’ এই রীতির অনুসারীদের ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি। নামাজ শেষে দরবার শরীফ প্রাঙ্গণেই পশু কোরবানি করেন মুসল্লিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বদরপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০০টি পরিবারসহ জেলার ৩৫টি গ্রামের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই নিয়ম মেনে আসছেন। শুধু ঈদুল আজহা নয়, ঈদুল ফিতর উদযাপন এবং রোজা রাখার ক্ষেত্রেও তারা এই আগাম নিয়ম অনুসরণ করেন।
ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া আমানুল ইসলাম লিটন বলেন, "আমরা আগে দেশের প্রচলিত নিয়মে ঈদ করলেও এখন বদরপুর দরবার শরীফের সাথে মিল রেখে ঈদ পালন করি। প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে এই নিয়মে সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ছেন, খুব ভালো লাগছে।"
জামাতে অংশ নেওয়া ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দা সাঈয়্যেদ ইজ্জুদ্দীন বদরপুরী এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, "বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের আবেদন, যাতে সমন্বয় করে দেশের সবাইকে একই নিয়মে ঈদ উদযাপনের আওতায় আনা হয়। কারণ, সঠিক সময়ে চাঁদ দেখার পর বাংলাদেশে একদিন পরে ঈদ উদযাপন করলে মানুষের পাঁচটি কবিরা গুনাহ হয়।"
আজ বুধবার পটুয়াখালীর যেসব গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সদর উপজেলা: বদরপুর ও ছোটবিঘাই। গলাচিপা উপজেলা: পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি ও নিজ হাওলা। বাউফল উপজেলা: রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ ও কনকদিয়া। কলাপাড়া উপজেলা: ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম।
এই রীতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি বলেন, "বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ ও রোজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালনের এই নিয়ম ১৯২৮ সালে বদরপুর দরবার শরীফে চালু করেন কুতুবে বাঙ্গাল হযরত শাহ সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহ.)। তিনি ছিলেন ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে জামান শাহ আবু বকর সিদ্দীকী আল কুরাইশী ফুরফুরাঙ্গী (রহ.)-এর খলিফা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ৩৫তম আওলাদ। এরপর থেকে গত প্রায় ১০০ বছর ধরে আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি এবং হাদিসেও এর পক্ষে জোরালো যুক্তি রয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন