সংশ্লিষ্টদের দাবি, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হাসপাতালটি কাগজে-কলমে অলাভজনক হলেও বাস্তবে এটি বাণিজ্যিক মডেলে পরিচালিত হচ্ছিল। এ সুযোগে অতীতে আকিজ গ্রুপ এবং বর্তমানে আকিজ-বশির গ্রুপ কর অব্যাহতির সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
১৯৮০ সালে শেখ আকিজ উদ্দীন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন-এর যৌথ উদ্যোগে আদ-দ্বীনের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দীন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং আকিজ-বশির গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন-এর ভাই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দাবি করা হলেও গত ৪-৫ বছরে চিকিৎসা ব্যয় কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারিতে খরচ হতো ৮-৯ হাজার টাকা, বর্তমানে তা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে রেখে বিল বাড়ানোর প্রবণতাও রয়েছে।
এক নবজাতকের স্বজন অভিযোগ করে বলেন, শিশুকে এনআইসিইউতে নেওয়ার পরও তাৎক্ষণিক ভর্তি না দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে ওষুধ ও টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে, অথচ চিকিৎসকরা শুরুতে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাননি।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ মে) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, নবজাতকদের অসুস্থ হওয়ার পর এনআইসিইউতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
তিনি জানান, রাত ২টার দিকে শিশুদের ঠান্ডা লাগছে অভিযোগে এসি বন্ধ করা হয়। পরে রাত ৪টার দিকে প্রথম শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বলেন, “এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে ৬টি শিশু মারা গেল, সেটি অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।” তিনি জানান, সিআইডি-এর টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কক্ষ সিলগালা করে এসি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে পুরুষ অভিভাবকদের ওয়ার্ডে প্রবেশ ও শিশুদের দেখার সুযোগ সীমিত ছিল। তাদের দাবি, স্বজনদের পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
এদিকে, কম বিনিয়োগে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও অবকাঠামোগত নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কম জায়গায় বেশি রোগী, সীমিত নার্স ও চিকিৎসক দিয়ে সেবা পরিচালনার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদন্ত শেষে নবজাতকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সংশ্লিষ্টদের দাবি, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হাসপাতালটি কাগজে-কলমে অলাভজনক হলেও বাস্তবে এটি বাণিজ্যিক মডেলে পরিচালিত হচ্ছিল। এ সুযোগে অতীতে আকিজ গ্রুপ এবং বর্তমানে আকিজ-বশির গ্রুপ কর অব্যাহতির সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
১৯৮০ সালে শেখ আকিজ উদ্দীন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন-এর যৌথ উদ্যোগে আদ-দ্বীনের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দীন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং আকিজ-বশির গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন-এর ভাই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দাবি করা হলেও গত ৪-৫ বছরে চিকিৎসা ব্যয় কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারিতে খরচ হতো ৮-৯ হাজার টাকা, বর্তমানে তা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে রেখে বিল বাড়ানোর প্রবণতাও রয়েছে।
এক নবজাতকের স্বজন অভিযোগ করে বলেন, শিশুকে এনআইসিইউতে নেওয়ার পরও তাৎক্ষণিক ভর্তি না দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে ওষুধ ও টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে, অথচ চিকিৎসকরা শুরুতে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাননি।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ মে) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, নবজাতকদের অসুস্থ হওয়ার পর এনআইসিইউতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
তিনি জানান, রাত ২টার দিকে শিশুদের ঠান্ডা লাগছে অভিযোগে এসি বন্ধ করা হয়। পরে রাত ৪টার দিকে প্রথম শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বলেন, “এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে ৬টি শিশু মারা গেল, সেটি অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।” তিনি জানান, সিআইডি-এর টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কক্ষ সিলগালা করে এসি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে পুরুষ অভিভাবকদের ওয়ার্ডে প্রবেশ ও শিশুদের দেখার সুযোগ সীমিত ছিল। তাদের দাবি, স্বজনদের পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
এদিকে, কম বিনিয়োগে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও অবকাঠামোগত নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কম জায়গায় বেশি রোগী, সীমিত নার্স ও চিকিৎসক দিয়ে সেবা পরিচালনার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদন্ত শেষে নবজাতকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন