নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

অবৈধ রায় আমাকে রুখতে পারবে না’ — দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা

দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

ভারতের পরামর্শে নয়, দেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনা বললেন, ‘কখন, কীভাবে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার’


দ্রুতই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina। গত ১৭ মে আওয়ামী লীগের এক ভার্চুয়াল সভায় দলীয় প্রধান হাসিনা নাম উল্লেখ না করে বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আমার জন্য জেলখানা, ফাঁসির মঞ্চ রেডি করুন। আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন। আমাকে নিয়ে যেতে বিমান পাঠান।”


প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট Bangladesh Air Force-এর একটি বিমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিয়ে দিল্লির হিন্ডন বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। সম্প্রতি দলের সভায় শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রথমে কিছু জানানো হয়নি। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে জানান, দেশে থাকলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারত বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় তাঁকে বহনকারী বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করলে হাজারো মানুষ স্বাগত জানাতে বিমানের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের জন্য ১৭ মে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে।


৪৫ বছর পর আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এ ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে সভা, সমাবেশ ও মিছিল করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে শুভেচ্ছা ও সমর্থনের বার্তা। অন্যদিকে সরকারবিরোধী মহল থেকে আসছে সমালোচনাও।


এদিকে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে— শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে ভারতের কোনো ভূমিকা বা পরামর্শ রয়েছে কি না। কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ভারত সরকার তাঁকে তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারা তাদের নিজস্ব নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের। এই বিষয়ে আমার বক্তব্য প্রদান সমীচীন হবে না।”


তিনি আরও বলেন, “আমি কখন, কীভাবে দেশে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ এবং তাঁদের ভালোবাসা। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। কোনো অবৈধ রায় কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাকে রুখতে পারবে না।”


নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে সেটি কোনো বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।”


তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এই ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে ন্যায়বিচারের কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। আমাকে আইনিভাবে মামলা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাজানো সাক্ষ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রহসনের বিচার করা হয়েছে।”


বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বাবা জাতির পিতা Sheikh Mujibur Rahman-কে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি। আমি তাঁরই কন্যা। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না।”


তিনি আরও বলেন, “আমি অতীতেও মামলা, হুমকি ও জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছি। আমাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।

বিষয় : দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার শেখ হাসিনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের পরামর্শে নয়, দেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনা বললেন, ‘কখন, কীভাবে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার’


দ্রুতই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina। গত ১৭ মে আওয়ামী লীগের এক ভার্চুয়াল সভায় দলীয় প্রধান হাসিনা নাম উল্লেখ না করে বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আমার জন্য জেলখানা, ফাঁসির মঞ্চ রেডি করুন। আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন। আমাকে নিয়ে যেতে বিমান পাঠান।”


প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট Bangladesh Air Force-এর একটি বিমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিয়ে দিল্লির হিন্ডন বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। সম্প্রতি দলের সভায় শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রথমে কিছু জানানো হয়নি। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে জানান, দেশে থাকলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারত বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় তাঁকে বহনকারী বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করলে হাজারো মানুষ স্বাগত জানাতে বিমানের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের জন্য ১৭ মে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে।


৪৫ বছর পর আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এ ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে সভা, সমাবেশ ও মিছিল করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে শুভেচ্ছা ও সমর্থনের বার্তা। অন্যদিকে সরকারবিরোধী মহল থেকে আসছে সমালোচনাও।


এদিকে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে— শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে ভারতের কোনো ভূমিকা বা পরামর্শ রয়েছে কি না। কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ভারত সরকার তাঁকে তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারা তাদের নিজস্ব নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের। এই বিষয়ে আমার বক্তব্য প্রদান সমীচীন হবে না।”


তিনি আরও বলেন, “আমি কখন, কীভাবে দেশে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ এবং তাঁদের ভালোবাসা। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। কোনো অবৈধ রায় কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাকে রুখতে পারবে না।”


নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে সেটি কোনো বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।”


তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এই ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে ন্যায়বিচারের কোনো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। আমাকে আইনিভাবে মামলা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাজানো সাক্ষ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রহসনের বিচার করা হয়েছে।”


বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বাবা জাতির পিতা Sheikh Mujibur Rahman-কে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি। আমি তাঁরই কন্যা। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না।”


তিনি আরও বলেন, “আমি অতীতেও মামলা, হুমকি ও জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছি। আমাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত