দেশজুড়ে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড গরমে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নানা উপায় খুঁজছেন সবাই। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী চলার চেষ্টাও করছেন। তবে খুব কম লোকই বুঝতে পারেন যে, এই তীব্র তাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
উচ্চ তাপমাত্রা মেজাজের পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক জরুরি অবস্থা তৈরি করা পর্যন্ত মস্তিষ্ককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে।
মানবদেহে তাপের প্রভাব মূলত পর্যায়ক্রমে ঘটে: ১. তাপ এক্সপোজার: প্রাথমিকভাবে শরীর উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ২. ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোক: দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে শরীর ক্লান্ত হয় এবং তা হিট স্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ৩. শক (Shock): শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে এটি শেষ পর্যন্ত শকে রূপ নিতে পারে, যা জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
মস্তিষ্কের ওপর তাপের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করে তাপের তীব্রতা এবং মানুষ কতক্ষণ সেই তাপের সংস্পর্শে থাকছে—এই দুটির ওপর। শরীর যখন তার ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সংগ্রাম করে, তখন মস্তিষ্ক প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থাকে ‘মস্তিষ্কের চাপ’ (Brain Stress) বলা হয়। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়, যার কারণে কোনো কাজে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানুষ অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে।
গবেষণার তথ্য: 'হেলথ সায়েন্স রিপোর্ট'-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, উচ্চ তাপমাত্রা মানবদেহে সেরোটোনিনের (Serotonin) মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। সেরোটোনিন হলো এমন একটি হরমোন যা মানুষের মেজাজ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে মানুষ সাধারণত:
খিটখিটে ও অধৈর্য হয়ে পড়ে।
মানসিকভাবে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগ বা পারস্পরিক মেলামেশা কঠিন মনে হয়।
যেকোনো মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
গরম আবহাওয়ার অন্যতম লক্ষণীয় ও ক্ষতিকর প্রভাব হলো ঘুমের ব্যাঘাত। রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং বারবার ঘুম ভেঙে যায়, যার ফলে শরীরের বিশ্রাম সম্পূর্ণ হয় না।
এভাবে দিনের পর দিন ঘুমের অভাব চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অস্থিরতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা রয়েছে, তীব্র গরমে তাদের সেই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
দেশজুড়ে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড গরমে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নানা উপায় খুঁজছেন সবাই। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী চলার চেষ্টাও করছেন। তবে খুব কম লোকই বুঝতে পারেন যে, এই তীব্র তাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
উচ্চ তাপমাত্রা মেজাজের পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক জরুরি অবস্থা তৈরি করা পর্যন্ত মস্তিষ্ককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে।
মানবদেহে তাপের প্রভাব মূলত পর্যায়ক্রমে ঘটে: ১. তাপ এক্সপোজার: প্রাথমিকভাবে শরীর উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ২. ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোক: দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে শরীর ক্লান্ত হয় এবং তা হিট স্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ৩. শক (Shock): শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে এটি শেষ পর্যন্ত শকে রূপ নিতে পারে, যা জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
মস্তিষ্কের ওপর তাপের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করে তাপের তীব্রতা এবং মানুষ কতক্ষণ সেই তাপের সংস্পর্শে থাকছে—এই দুটির ওপর। শরীর যখন তার ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সংগ্রাম করে, তখন মস্তিষ্ক প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থাকে ‘মস্তিষ্কের চাপ’ (Brain Stress) বলা হয়। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়, যার কারণে কোনো কাজে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানুষ অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে।
গবেষণার তথ্য: 'হেলথ সায়েন্স রিপোর্ট'-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, উচ্চ তাপমাত্রা মানবদেহে সেরোটোনিনের (Serotonin) মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। সেরোটোনিন হলো এমন একটি হরমোন যা মানুষের মেজাজ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে মানুষ সাধারণত:
খিটখিটে ও অধৈর্য হয়ে পড়ে।
মানসিকভাবে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগ বা পারস্পরিক মেলামেশা কঠিন মনে হয়।
যেকোনো মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
গরম আবহাওয়ার অন্যতম লক্ষণীয় ও ক্ষতিকর প্রভাব হলো ঘুমের ব্যাঘাত। রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং বারবার ঘুম ভেঙে যায়, যার ফলে শরীরের বিশ্রাম সম্পূর্ণ হয় না।
এভাবে দিনের পর দিন ঘুমের অভাব চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অস্থিরতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা রয়েছে, তীব্র গরমে তাদের সেই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন